রায় চৌধুরী বাড়িতে আসছে রাজমহলের ছোটো রানীমা। ইতিমধ্যেই হইচই করে গেছে সারাবাড়ি জুড়ে। কিন্তু, কেন? জানে না কেউই। জি বাংলার ফুলকি ধারাবাহিকে গত পর্বে দেখা গেছে, মাঝরাতে ফুলকি মায়ের স্বপ্ন দেখায় আচমখাই তার ঘুম ভেঙ্গে যায় এবং চারিদিকে তার মাকে খুঁজতে থাকে। এমন সময় রোহিত থাকে ঘুম পাড়িয়ে শান্ত করার চেষ্টা করে এবং বলে, কিছুক্ষণ আগেই সেই মাকে নিয়ে অনেক কথা ভাবছিল বলে সেই ভাবনাটাই স্বপ্নের মধ্যে এসেছে।
এরপর আবার অন্যদিকে দেখা যায় কারাগারে বন্দি রুদ্র সবাইকে খাবার দিতে ব্যস্ত। এমন সময় তার চেনা এক গুন্ডা এসে তাকে পরিচয় দেওয়ায় প্রাথমিকভাবে বিরক্তই হয়। কিন্তু, পরবর্তীকালে অনেক আগেকার ফুলকির মাদুলি চুরির কথা মনে করালে সবটাই মনে পড়ে যায় রুদ্র। বর্তমানে, ওই গুন্ডা রুদ্রকে বলে দশ হাজার টাকার বিনিময় সেই আসল মাদুলিটা তাকে দেবে।

এদিকে রাজমহল বাড়িতে অন্যান্য দিনের মতো ছোটো রানী মা নিজের সেক্রেটোরির সঙ্গে কথা বলার সময় খবরের কাগজে একবার হলেও চোখ যায় এবং সেখানে ফুলকি ধানসিঁড়িকে দেখে তার মনে আগ্রহ জাগে। যথারীতি, মিস্টার মিত্র অর্থাৎ সেক্রেটারি রায়চৌধুরী পরিবারের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করে।
এদিকে, রুদ্র মনে মনে ভাবতে থাকে কি এমন আছে সেই মাদুলিতে যার দাম ১০ হাজার টাকা? কি গুন্ডাটি নিজে থেকে রুদ্রকে জানায় ওই মাদুলীর ভিতরে ফুলকির জীবনের কিছু গোপন কথা এমনকি জন্ম রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে যা কিনা পরবর্তীকালে রুদ্র কোনো দরকারে আসতে পারে। এমনটা শুনে রুদ্র এই গুন্ডার থেকে কিছুটা ভাবার সময় নেয়।
এদিকে আবার রায় চৌধুরীর বাড়িতে সকাল হতেই তমাল তাঁর বউকে ফোন করেছে। আর এই দেখেই বাড়ির বাকি সদস্যরা মশকরা করতে শুরু করেছে তমালকে নিয়ে। এরপর এই মশকরাতে এসে যোগদান দেয় ফুলকি-রোহিত, হলো তো হইহুল্লোড়েরের আওয়াজ আরো দ্বিগুণ বেড়ে যায়। এমন সময়, দেখা যায় খবরের কাগজে বড় বড় করে ছবি বেরিয়েছে ফুলকি ও ধানসিঁড়ির। এই দেখে পিয়াল থেকে শুরু করে তমাল আগ্রহী হয়ে ওঠে সবাই। আর, সকলেই প্রথমে সেই কাগজটা পড়তে চায়।
এই সময় কথায় কথায় আবার সবাই ধানুর বিয়ের প্রসঙ্গ তুললে, সে কিছুটা লজ্জাই পায়। কিন্তু, এদিকে পিয়াল তাঁর সঙ্গে দেদার মশকরা করতে থাকে। সবাই এর উদ্দেশ্যে বলে তার জন্য পক্ষীরাজ ঘোড়া ছুটিয়ে আসবে এক রাজপুত্র।
এরপর অন্যদিকে দেখা যায় সংশোধনাগারে রুদ্র এক কনস্টেবল পুলিশের মোবাইল থেকে ফোন করে তার দলের এক সদস্যকে। ফোন করে বলে সেই গুন্ডার বাড়িতে গিয়ে তাঁর বউকে টাকা দিয়ে ফুলকির আসল মাদুলিটা নিয়ে আসতে, তাতে নাকি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে।
এরপর, ফুলকি রোহিতরা খবরের কাগজ নিয়ে টানাটানি করতে গিয়ে হঠাৎ জেঠু মনি এসে পড়ে এবং সেই প্রথমে খবরের কাগজটা পড়তে যায়। সবে খবরে কাগজটা পড়তে শুরু করেছে কিনা এর মধ্যেই এক অজানা নাম্বার থেকে তার মোবাইলে ফোন আসে। জানা যায়, রাজমহলের হারহাইনেস অর্থাৎ ছোট রানীমা রায়চৌধুরী পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চায়।
আরও পড়ুনঃ অতীতকে ফিরে পেতে ফুলকির নতুন লড়াই! ধরা দিতে চলেছিলে না পাওয়া সুখ! ফাঁ’স আজকের পর্ব
বাড়ির সকলে এই খবর শোনা মাত্রই যেমন অবাক হয়ে যায় তেমনই ভাবতে থাকে কি কারণে অত বড় মাপের একজন মানুষ এই সাধারণ বাড়িতে আসছে। এরপর যথারীতি ভাবেই সবাই তোরজোড় শুরু করে দেয় ছোট রানী মাকে আপ্যায়ন করার জন্য। এই ধারাবাহিকের আগামী পর্বে দেখা যাবে, গা ভর্তি গয়না পরে রয়েছে ধানু। এমন সময় ফুলকি ধানুকে এসে বলে, ‘তোমার হবু শশুর বাড়ি থেকে কত ভালো ভালো জিনিস এসেছে দেখবে চলো’। এই শুনে অজ্ঞান হয়ে যায় ধানসিঁড়ি।
