দীর্ঘ প্রায় ২৪ বছর পর মেজো হাতে নৃসিংহ দেবের পূজা করল বড় রাজাবাবু। জি বাংলার ফুলকি ধারাবাহিকের গত পর্বে দেখা গেছে, চৌধুরী মৌলিক ফুলকিরা যে শ্যামানন্দ বাবাজিকে নিয়ে এসেছেন তাকে কেউই মেনে নিতে পারছি না বড় রাজাবাবুর রূপে। কারণ তার গায়ে যে জন্ম দাগ ছিল তা এখন সেই জায়গাটা ক্ষতবিক্ষত থাকার কারণে বোঝা যাচ্ছে না।
আর এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ছোট রানী মা বাড়ির সকলকে বোঝাতে থাকে এই ব্যক্তি কোনমতেই বড় রাজাবাবু হতে পারে না। এমন সময় ফুলকিও উল্টো দিক থেকে ছোট রানী মা কে বলে বড় রাজা বাবু কে এই বাড়ির সদস্য প্রমাণ করার জন্য সে আদালতের সাহায্য নেবে।

এই শুনে খানিকটা ছোট রানী মা মজার ছলে ফুলকিকে জিজ্ঞাসা করে কে তাঁকে সাহায্য করবে? এমন সময়, ধানু এগিয়ে এসে বলে সে ফুলকিদের সাহায্য করবে। এরপর, আর তেমনভাবে কোনো কথা না বাড়িয়ে রোহিতরা সেই শ্যামানন্দ বাবাজি অর্থাৎ বড় রাজা বাবুকে নিয়ে রওনা দেয় নিজেদের বাড়ির দিকে।
এমন সময় চৌধুরী মহল থেকে বেরোবার সময় রাজমহলের স্থানীয় বাসিন্দারা এই অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি কে দেখে বড় রাজাবাবু বলে সম্মোধন করতে থাকে এবং তারা দৃঢ়ভাবে বলে এই মানুষটি আসল বড় রাজাবাবু। এরপর নানান কথায় হঠাৎ করে নৃসিংহ দেবের মন্দির থেকে আরতির শব্দ শুনতে পাওয়ায় শ্যামানন্দ বাবাজির মন বিচলিত হয়ে ওঠে এবং তিনি বলেন সেই মন্দিরে তখনই যেতে চায়।
এরপর, শ্যামানন্দ বাবাজি সেই মন্দিরে গিয়ে অবাক দৃশ্যে নৃসিংহ দেবের দিকে তাকিয়ে থাকে। অন্যদিকে বাইরে হট্টগোল শুনে বড় রানীমা অস্থির হয়ে ওঠে এবং বাইরে বেরোতে চায়। কিন্তু সেই সময় ছোট রানী মা কিছুটা তাকে শাসন করে এবং ভুল বুঝিয়ে ঘরের মধ্যেই আটকে রাখার চেষ্টা করে। আর এই পুরো ঘটনাটাই আড়াল থেকে দেখতে পায় ধানসিঁড়ি এবং মনে মনে ভাবে তার( ছোট রানী) মুখোশটা আদালতে সকলের সামনেই টেনে ছিড়ে ফেলতে হবে।
এরপর, অন্যদিকে দেখা যায় শ্যামানন্দ বাবাজী পুরোহিতের হাত থেকে প্রদীপ এবং ঘন্টা নিয়ে নিজে হাতে নৃসিংহ দেবের আরতি করতে থাকে। এমন সময় দূর থেকে বৃদ্ধ কয়েকজন গ্রামবাসী বলতে থাকে বছর ২৪ আগে তাদের বড় রাজাবাবু ঠিক এই ভাবেই নৃসিংহদেবের আরতি করত।
এমন সময় রোহিত কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে ফুলকির কাছে এবং বলে আবার সকলের সামনে মান সম্মান নিয়ে টানাটানি হবে তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বড় রাজা বাবুকে এখান থেকে নিয়ে চলে যাওয়াই ভালো হবে। কিন্তু ফুলকি রোহিতের কথা না শুনে বলে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা যেভাবে তার বাবাকে বড় রাজাবাবু বলেই মান্যতা দিচ্ছে তাতে হয়তো কিছুটা শ্যামানন্দ বাবাজির স্মৃতি ফিরলেও ফিরতে পারে।
এমন সময় অন্যদিকে দেখা যায় ছোট রানী মা রুদ্রকে ফোন করে সমস্ত ঘটনা বলছে যে কিভাবে ফুলকিরা বড় রাজাবাবুকে নিয়ে ফিরে এসেছে। এই শুনে অবাক হয়ে যায় রুদ্র আর বলতে থাকে এই ঘটনা কিভাবে সম্ভব কারণ সে নিজে চোখে দেখেছে বোম্ব ব্লাস্টে গাড়ি উড়ে যেতে।
আরও পড়ুনঃ ফুলকির হয়ে আদালতেই ধানু! শাশুড়ির বিরুদ্ধে গিয়ে কী চৌধুরী মহলের ঠাঁই উঠল আদিত্যপত্নীর?
ফুলকিদের ফেরা নিয়ে রুদ্র এবং ছোট রানী মা আলোচনা করতে থাকে। এরপর দেখা যায় আরতি করার পর বড় রাজাবাবু সেই প্রদীপের আশীর্বাদ সবাইকে দেয় এবং সেই মুহূর্তে ফুলকি মনে মনে ভাবতে থাকে সে যেন খুব তাড়াতাড়ি সকলের কাছে প্রমাণ করতে পারে এই মানুষটি আসল বড় রাজা বাবু। এই ধারাবাহিকের পরবর্তী পর্বে দেখা যাবে, রাজমহলের সদস্যরা সকলে মিলে মালা পরিয়ে সদানন্দ বাবাজিকে বড় রাজাবাবুরূপে গ্রহণ করে নিলেন। তবে, সেই মালায় এক অদ্ভুত জিনিস দেখে চমকে উঠল ফুলকি।
