বলাই বাহুল্য, বাংলা ধারাবাহিকের দুনিয়ায় বিভিন্ন সময় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা নিজেদের অভিনয় দিয়ে ছাপ ফেলে গেছেন। আর সেই সব চরিত্র আজও দর্শকদের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছে। এই যেমন অপরাজিতা আঢ্য অভিনীত জলনূপুরের বিখ্যাত চরিত্র পারি পাগলি দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তার এই চরিত্রটি ইতিহাস রচনা গেছে বাংলা ধারাবাহিকের দুনিয়ায়।
টেলিভিশন প্রেমীরা আজও ভুলতে পারেননি সেই চরিত্র। আজও ওই রকম কোনও চরিত্র দেখলে দর্শকরা অপরাজিতা অভিনীত পারি পাগলি চরিত্রটির সঙ্গে সেই সমস্ত চরিত্রের তুলনা করা শুরু করেন। বাংলা টেলিভিশনের দুনিয়ায় এরকম চরিত্র হয়েছে এবং তুলনা টানাও চলেছে।
এই মুহূর্তে ধারাবাহিকের দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জি বাংলার ধারাবাহিক কার কাছে কই মনের কথা। এই সিরিয়ালে যেমন শিমুল মুখ্য চরিত্র তেমনই পাঁচ বন্ধুর পাশাপাশি শ্রীতমা ভট্টাচার্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন। এই ধারাবাহিকটিতে শিমুলের বড় ননদের ভূমিকায় রয়েছেন শ্রীতমা ভট্টাচার্য। তাঁর চরিত্রের নাম পুতুল। এই ধারাবাহিকে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি।
এই ধারাবাহিকটিতে দেখানো হচ্ছে পুতুল এই ধারাবাহিকে ছোটবেলা থেকেই মানসিক প্রতিবন্ধী। কিন্তু সে পরিবারের বাকিদের মতো নয়, সে মানসিকভাবে ভীষণই ভালো। এই ধারাবাহিকে পুতুলের চরিত্রে দেখানো আবেগ, ভালোবাসার আকুতি, শিমুলের জন্য তার আন্তরিক টান, কান্না বিশেষভাবে নজর কেড়েছে দর্শকদের।
শুরুতে অবশ্য দর্শকদের অভিযোগ ছিল ‘জল নূপূর’ ধারাবাহিকের পারি পাগলিকে নকল করছে শ্রীতমা ভট্টাচার্য। আসলে অপরাজিতা আঢ্যের করা এই চরিত্রটি দর্শকদের মনে এতটাই গেঁথে রয়েছে যে সেই অনুকরণটুকুও মেনে নিতে পারছিলেন না দর্শকরা। তবে এখন সেই সমস্ত দর্শকরাই বলছেন কোথাও গিয়ে যেন পারি পাগলিকেও ছাপিয়ে যাচ্ছেন শ্রীতমা নিজের অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে।

যদিও কিছুদিন আগেই ধুলোকণা ধারাবাহিকে এমনই মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের স্ত্রী অভিনয় করেছিলেন অভিনেত্রী প্রীতি বিশ্বাস। যদিও তার অভিনীত চরিত্র মিনি প্রশংসার থেকে বেশি কটাক্ষ কুড়িয়েছিল। দর্শকদের কাছে তার অভিনয় ওভারঅ্যাকটিং মনে হয়েছিল। কিন্তু সেই জায়গায় প্রীতিকে ছাপিয়ে গেছেন শ্রীতমা। নিজের অভিনয় দক্ষতায় তিনি মন জিতে নিয়েছেন দর্শকদের।
