জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ফুলকি (Phulki) প্রতিদিনই দর্শকদের আরও টেনে নিচ্ছে। গল্পের ঘোরাফেরা, চরিত্রদের টানাপোড়েন আর রহস্যে ভরপুর ঘটনাই সিরিয়ালটিকে এতটা আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সাম্প্রতিক পর্বগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ফুলকি বুঝে গিয়েছে যে তাদের ভেতরেই একজন বিশ্বাসঘাতক ঘুরে বেড়াচ্ছে বন্ধুর মুখোশ পরে। আর সেই মুখোশের আড়ালে যে কেউ নয়, আসলে রুদ্রই আছে—যে নিজের পরিচয় লুকিয়ে ‘অভিরূপ’ নামে সবাইকে ধোঁকা দিচ্ছে।
গল্পে একদিকে চলছে ভোটের আগে বাড়ির আনন্দ উৎসবের প্রস্তুতি, অন্যদিকে ফুলকি ঠিক করে ফেলেছে সবার সামনে এই ভুয়ো বন্ধুর আসল মুখোশ খুলে ফেলবে। ইন্দ্র আর অভিরূপের চোখাচোখি ইশারাতেই রোহিতের সন্দেহ বেড়ে যায়। ফুলকির দৃঢ় বিশ্বাস, মিড ডে মিল থেকে শুরু করে ধানুর কিডন্যাপ—সব কিছুর পিছনেই এই রহস্যময় মানুষটা জড়িত। তাই বাড়ির লোকদের নিয়ে নাচ-গান, খাওয়া-দাওয়ার আসর বসালেও তার আসল উদ্দেশ্য একটাই, লাবণ্যকে সত্যিটা দেখানো।
কিন্তু লাবণ্য একেবারেই অন্য মুডে। সে ক্রমশ অভিরূপের প্রতি টান অনুভব করছে। ফুলকির খোঁচাখুঁচি আর সন্দেহে লাবণ্য বরং বিরক্ত হচ্ছে। আগে যেখানে ফুলকিকে সব বিষয়ে সাপোর্ট করত লাবণ্য, সেখানে এবার সে উল্টো অভিরূপের পক্ষ নিচ্ছে। রোহিতও প্রথমে অবাক হয়ে যায়, কারণ লাবণ্যের মুখে এভাবে ফুলকির বিরুদ্ধে কথা শোনা তার কাছে অস্বাভাবিক লাগে।
অভিরূপ অবশেষে যখন আসরে হাজির হয়, তখন ফুলকি সোজাসুজি তার মুখোমুখি দাঁড়ায়। একে একে সব ঘটনার যোগসূত্র টেনে সে প্রমাণ করতে চায়, আসল শত্রু অভিরূপ ছাড়া আর কেউ নয়। কিন্তু এতেও লাবণ্য বিশ্বাস করতে রাজি নয়। তখনই ঘটে নাটকীয় মুহূর্ত—রোহিত অভিরূপের পিঠে চাপড় মারতেই ব্যথায় কুঁকড়ে যায় সে। আর তখনই প্রকাশ পায় তার শরীরে সেই একই রকম ক্ষতচিহ্ন, যা ছিল ধানুর অপহরণকারী দলের নেতার গায়েও। ফলে সন্দেহ আরও প্রবল হয়।
আরও পড়ুনঃ দাদুর প্রাণ ফেরাতে হাসপাতালেই বিয়ে! সাত পাকে বাঁধা পড়লো পারুল-রায়ান
তবুও লাবণ্য কিছুতেই অভিরূপের অপরাধ মানতে চাইছে না। বরং সে জানায়, অভিরূপকেই সে বিয়ে করবে। অন্যদিকে ফুলকি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এই বিয়ে কিছুতেই হতে দেবে না। লাবণ্যর চোখের সামনে অভিরূপের মুখোশ খুলে দিতেই হবে তাকে। তাই নতুন পরিকল্পনা সাজাচ্ছে ফুলকি। এখন দেখার, সত্যিই কি লাবণ্যকে বিয়ের ফাঁদে ফেলতে পারবে ছদ্মবেশী রুদ্র, নাকি শেষ মুহূর্তে ফুলকি তার আসল রূপ সামনে নিয়ে আসবে।
