আপনি যদি মন থেকে কোনও কিছু করতে চান তাহলে কোনও বাধাই হয়তো আর আপনার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। ইচ্ছা শক্তির কাছে হার মানে যে কোনও ধরনের প্রতিকূলতা। বিগত কয়েক দশকে আমরা দেখেছি বিশ্বজুড়ে সমানাধিকারের লড়াইয়ে মেয়েরা কোথাও পিছিয়ে নেই। সে শিক্ষা হোক বা রাজনীতি, খেলাধুলা বা সামরিক শক্তি সব ক্ষেত্রেই মেয়েদের হার দিন দিন বেড়েছে।
কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো আজও পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় নারীরা শুধুমাত্র পণ্য হিসেবেই থেকে গেছেন। তারা শিকার হন পুরুষের অন্যায় আচরণের, অন্যায় অ’ত্যা’চা’রে’র। আজও সমাজের কত পুরুষ নারীদেরকে শুধুমাত্রই তাদের ভো’গ্য পণ্যের জিনিস মনে করেন। নারীর চাহিদা ভালোলাগা কোন কিছুই তাদের কাছে দাম পায় না। নারী যদি কখনও নিজের আনন্দ, ভালোলাগাকে গুরুত্ব দেয়, তখন তা তাদের কাছে চক্ষুশূল হয়ে ওঠে।
আর সেই রকমই গল্প ফুটে উঠছে জি বাংলার ধারাবাহিক কার কাছে কই মনের কথা ধারাবাহিকে। এখানে দেখানো হচ্ছে শিমুলের এমন একটি পরিবারে বিয়ে হয়েছে যে পরিবারে নারীদেরকে পণ্য ছাড়া আর কিছুই মনে করা হয় না। এখানে যে কোন সময় নারীদের গায়ে হা’ত তোলা যায়। বৈবাহিক ধ’র্ষ’ণ করা যায়। এখানে নারী সব সময় পুরুষের পায়ের তলায় থাকবে। এমন ধ্যান-ধারণাতেআ বাঁচে বাড়ির দুই পুরুষ সদস্য।
আর তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে শিমুল। অবশ্যই সে তার স্বামী পরাগ এবং দেওর পলাশের চক্ষুশূল। কিন্তু পারিবারিক সমস্ত অশান্তিকে পেরিয়ে জীবনের লক্ষ্য পূরণের দিকে এগিয়ে চলেছে শিমুল। এইরকম পরিস্থিতিতে থেকেও কিভাবে জীবনকে উপভোগ করা যায়, কীভাবে নিজের লক্ষ্য পূরণ করা যায় সেই গল্পই বলছে শিমুল।
বেশি দূর পড়াশোনা করা সম্ভব হয়নি শিমুলের। এমনকি পড়াশোনাতেও সে যে ভীষণ ভালো ছিল এমনটা নয়। কিন্তু খুব ভালো নাচত সে। আর সেই নাচ দিয়েই সে স্বপ্ন দেখেছিল নিজের কেরিয়ার তৈরি করার। কিন্তু না বিয়ের পর অত্যন্ত রক্ষণশীল শ্বশুরবাড়িতে বিয়ের ফলে সেই নাচ বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু না শ্বশুরবাড়ির তীব্র প্রতিরোধের কাছে হেরে যায়নি সে। বরং নতুন করে স্বপ্ন দেখেছে বাঁচার। আর সেই স্বপ্ন সে দেখিয়েছে পাড়ার অন্য বউদের। একসঙ্গে তারা এখন নাচের গানের অনুষ্ঠান করে।
এই ধারাবাহিকের সাম্প্রতিক পর্বে আমরা দেখেছি দুর্গাপুজোয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল শিমুল, বিপাশা, সুচরিতারা। আর সেই অনুষ্ঠানেই শিমুলের দারুন নাচ প্রশংসিত হয়। এক দর্শক খুশি হয় শিমুলের হাতে ১০ হাজার টাকা তুলে দেন। সেই টাকা শিমুল তাদের এই পাড়ার বন্ধুদের ফান্ডে জমা করে। আগামী দিনের অনুষ্ঠানের জন্য। আর এইরকম ছোট ছোট পদক্ষেপ থেকেই বড় কিছু স্বপ্ন দেখছে শিমুলরা। একইসঙ্গে স্বপ্ন দেখাচ্ছে তারা।
