শুভর কথা শুনে চমকে যায় বাড়ির সবাই। শুভকে শ্রীমন্তী বলে, সে যেনো একটু ভেবে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয়। এই সময় বাড়ির বাকিরা, আকাশেকে জিজ্ঞাসা করে আর কী অন্য কোনো উপায় আছে কি? তাহলে ভালো হয়। এই সময় শুভ বলে ওঠে, ‘আদির লসের দায় আমি নেব না তোকে নিবে বলতো?’। শুভ যে করেই হোক টাকা জোগাড় করবে বলে আশ্বস্ত করে শ্রীমন্তীকে। যে করেই হোক শুভ টাকা শোধ করবে বলে কথা দেয় আকাশকে। আকাশ, তাঁর এবং আদৃতের মধ্যে হওয়া চুক্তির কাগজ শুভকে দিয়ে চলে যায়।
অন্যদিকে আবার কলকাতা দেখা যাচ্ছে, রোজকারের জীবনে আয়ান মোহনার মাকে বলছে, ‘আন্টি আপনার শুধু ছেলেই ব্যস্ত নয়, আপনার মেয়েও অনেক ব্যস্ত। আপনি বাড়িতে না থাকাকালীনও ও মাঝে মাঝে রাতের খাবারও পর্যন্তও খায়নি’। এমন সময় ড্রয়িং রুমে, টিভিতে স্নো ফল দেখে আয়ান। এই দেখে আচমকাই আয়ান বলে ওঠে, স্নো ফল হলে ম্যানহাটন খুব সুন্দর দেখতে লাগে। এই শুনে মোহনার মা জিজ্ঞাসা করে ‘তুমি কি করে জানলে?’ এরপরে নানান ধরনের অস্পষ্ট দৃশ্য ভাসতে থাকে আয়ানের স্মৃতিতে। মাথা যন্ত্রণা করছে বলে উঠে চলে যায় আদৃত। এই সময়, নানান ধরনের চিন্তা মোহনার মাথায় ঘুরতে থাকে।

অন্যদিকে নিউইয়র্কে ডাইনিং টেবিলে বসে সবাই চিন্তিত আকাশের কিভাবে ১৫ মিলিয়ন ডলার শোধ করবে। ‘তোমরা সবাই এত চিন্তা করো না, আমি যখন কথা দিয়েছি তখন আমি একটা ব্যবস্থা করেই ছাড়বো। আমার ওপর তোমাদের এটুকু ভরসা নেই’, বলল শুভ। এদিকে, অন্ধকার ঘরে চোখ বুজিয়ে শুয়ে আছে আয়ান। এমন সময় ঘরে মোহনা এলে সে তাকে বলে, মাঝে মাঝে সে এমন কিছু দেখে তা কাউকেই বুঝে উঠতে পারে না মনে হয় যেন কেউ তার জন্য অপেক্ষা করছে। এই শুনে মোহনা বলে,’একদিন তুমি সমস্ত কিছু ফিরে পাবে। আমি নিজে হাতে তোমাকে তোমার পরিবারের সঙ্গে মিল করিয়ে দেব’।
আরও পড়ুনঃ পারুলকে বিপদ থেকে রক্ষা করলো রায়ান! তবে কি এভাবেই শুরু হবে পারুল রায়ানের প্রেম! কি হতে চলেছে ‘পরিণীতা’র আগামী পর্বে
এদিকে এবার শুভ এই ভাবতেই ব্যস্ত যে ফিফটিন মিলিয়ন টাকা কি করে জোগাড় হবে? এই মুহূর্তে যদি নন ভেজ আচারের ব্যবসাটা মার্কেটে আনা যায় তাহলে কিছুটা হলেও টাকা শোধ দেওয়া যাবে, এটাই ভাবতে থাকে শুভ। অন্যদিকে কলকাতায় আয়ানের ঘুমের মধ্যে নানান অস্পষ্ট দৃশ্য আসতে থাকায় ‘ আমি আসছি’ বলে চেঁচিয়ে ওঠে। তাড়াহুড়ো করে মোহনা ঘরে এসে জল দেয় আয়ানকে। এই সময় মোহনা মনে মনে ভাবতে থাকে খুব তাড়াতাড়ি আয়ানের অতীতের কথা জানতে হবে তাকে নয়তো বড় কোন ক্ষতি হয়ে যাবে।
অন্যদিকে অফিসে বসে আকাশ বাড়ি বাড়ি, শুভ লক্ষ্মীর কথা মনে করতে থাকে। এরপর দেখা যায় শুভ কাজ করছে এবং ছেলেকে সামলাচ্ছে এই দেখে শ্রীমন্তী শুভর জন্য কফি নিয়ে আসে। এই সময় শুভ শ্রীমন্তীকে বলে, ‘তোমরা যদি এই মুহূর্তে কোন চিন্তা না করো সেটাই আমার কাছে সব থেকে বড় সাহায্য হবে’। এরপর দেখা যায় পরদিন সকালবেলা আকাশ এসে হাজির হয় রায় বাড়িতে। বাড়িতে এসে নতুন একটা প্রস্তাব দেয় যেটার সাহায্যে শুভ তাঁর আদৃতের স্বপ্নকে সহজেই পূরণ করতে পারবে। এবং এরই সঙ্গে এক বিশেষ শর্ত দিল আকাশ। তিনি বললেন, এই প্রজেক্ট আকাশের সঙ্গে শুভকে কাজ করতে হবে। এখন পড়বে দেখা যাবে আকাশ তার বোনকে অর্থাৎ মোহনাকে ফোন করে বলছে, সে শুভ লক্ষী রায় এর সঙ্গে কাজ করবে। এই কথাটা শুনতে পায় আয়ান। তাহলে, কি শুভর নাম শুনে আয়ানের সব স্মৃতি ফিরে আসবে?
