এই মুহূর্তে বাংলা টেলিভিশন (Bengali television) জগতে বহু নতুন মুখ অভিনেতা অভিনেত্রীরা এসে ভিড় জমাচ্ছেন। নতুন নতুন বাংলা সিনেমা গুলিতেও অনেক নতুন মুখ অভিনেতা অভিনেত্রীদের দেখা যাচ্ছে। তবে এই টলিউডে (Tollywood) এমন অনেক তারকারা রয়েছেন যারা বহু বছর ধরে এই চলচ্চিত্র জগৎ (Bengali Film industry) তথা টেলিভিশনকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন নিজেদের প্রতিভার মধ্যে দিয়ে। সেই অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম হলেন রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Bandopadhyay)। টেলিভিশন তথা বড় পর্দা সব জায়গাতেই অবাধ চলাচল এই অভিনেতার।
এর আগে বহু চলচ্চিত্রে কখনো প্রধান আবার কখনো পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তাকে। ইতিবাচক এবং নেতিবাচক উভয় চরিত্রতেই সাবলীলভাবে অভিনয়ের দক্ষতা রয়েছে তার মধ্যে। এর মধ্যেই টেলিভিশন জগতে অনেক ধারাবাহিকে কাজ করেছেন তিনি। কয়েক মাস আগেই তাকে শেষবার দেখা গিয়েছিল হরোগৌরী পাইস হোটেলে এক ভয়ঙ্কর নেতিবাচক ভূমিকায়। বর্তমানে একটি নতুন ছবির শুটিংয়ে ব্যস্ত তিনি। সেই শুটিংয়ে তার চরিত্রের নাম মানিক। একটি সুন্দর ছবি তৈরি করাই তার একমাত্র লক্ষ্য। এই শুটিংয়ের সেটেই এক সাক্ষাৎকারে চরিত্রের সাথে তার নিজের মিল অমিল সম্পর্কে অনেক কথাই দর্শকদের সাথে ভাগ করে নিলেন অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়।
জ্যোতিষ শাস্ত্রে কতটা বিশ্বাসী রাহুল?
অভিনেতা রাহুল এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমি ভগবানে কিন্তু অবিশ্বাসী নই। আমি ভগবান বিশ্বাস করি। এদিকে আমি বামপন্থীও। আমার মা যখন সন্ধ্যাবেলায় দুয়ারে জল দেন শঙ্খ বাজান আমি সেগুলোকে অতিক্রম করে বা সেগুলোর পথে বাধা হয়ে কখনোই বামপন্থা চালিয়ে যেতে পারবো না। আমি সমানভাবে ঈশ্বরী বিশ্বাস করি কিন্তু এই জ্যোতিষ চর্চা বা জ্যোতিষ বিদ্যা আমার ভীষণই ভাঁওতাবাজি বলে মনে হয় বা বলা ভালো আমি এগুলো বিশ্বাস করি না। আমার স্ত্রী প্রিয়াংকা আবার এসব বিষয়ে বিশ্বাস করে। ওর সাথে আমার এই নিয়ে অনেক আলোচনাও হয়।”
খারাপ সময়ে নিজেকে কীভাবে ভালো রাখেন অভিনেতা?
এই প্রশ্নের উত্তরে অভিনেতা রাহুল জানান, “আমার যখন মন খারাপ হয় বা আমি যখন খুব ক্লান্ত অনুভব করি তখন আমার সঙ্গী হয় গল্পের বই। বা আমার যখন খুব খারাপ সময় কাটে তখনও আমি গল্পের বই পড়ে নিজেকে ঠিক করি। এছাড়াও আমাদের স্কুলের বন্ধুদের একটা গ্রুপ আছে সেখানে আমার বন্ধুরা আমাকে গালিগালাজ করে। ওদের কাছে কিছু যায় আসে না আমি কত বড় স্টার বা আমি কত বড় ফ্লপ করেছি। ওদের কাছে আমি সেই স্কুলের রাহুল। আর এটাই আমাকে এগিয়ে যাওয়ার একটা নতুন শক্তি দেয়।”
আরও পড়ুন: কৃষ্ণা বা মামনির থেকেও আরও নিম্নস্তরে নেমে গেলো হৈমন্তী! মা হয়েও নিজের সন্তান তুল্য রোহিতের চরম ক্ষতি করলো সে!
নিজের শিল্প সত্তা নিয়ে কী মত রাহুলের?
অভিনেতাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, একজন শিল্পী হিসেবে তিনি নিজেকে কত নাম্বার দেবেন। এই উত্তরের অভিনেতা বলেন, “আমি মনে করি নিজের শিল্পী সত্তা এভাবে বিচার করা যায় না। একজন শিল্পী নিজেকে না বিচার করাই ভালো। আমি যেটা করতে পারি সেটা হল আরো বেশি করে নিজেকে উন্নত করতে পারি। আর আমি কতটা ভালো শিল্পী সেটা কোন জাগতিক বস্তু দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। সত্যজিৎ রায় এমন অনেক গাড়িতে চড়তে পারতেন না যেগুলো সেই সময় দাঁড়িয়ে অন্যান্য বড় বড় ব্যক্তিরা চড়তেন। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে তাদের কথা কেউ মনে রাখিনি, কিন্তু মনে থেকে গিয়েছেন সত্যজিৎ রায়।”
