বর্তমানে জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় অনেকগুলি জনপ্রিয় ধারাবাহিক সম্প্রচারিত হচ্ছে। তবে এই ধারাবাহিক গুলোর মধ্যে যেগুলি দর্শকদের কাছে অন্যতম তালিকায় অবস্থান করছে সেগুলির মধ্যে একটি হলো ‘ফুলকি’ (Phulki)। গত সপ্তাহে এই ধারাবাহিক টিআরপি তালিকা অনুযায়ী দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। এই ধারাবাহিকে সবথেকে আকর্ষণীয় এবং পছন্দের চরিত্র হলো নায়িকা ফুলকি। এই চরিত্রে অভিনয় করছেন একেবারে নতুন মুখ এক অভিনেত্রী। তার নাম দিব্যানি মন্ডল। যত দিন যাচ্ছে আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে এই ধারাবাহিকের গল্প।
বর্তমানে এই ধারাবাহিকের গল্প অনুযায়ী, অনেক জাঁকজমক সহকারে একেবারে ধুমধাম করে পুনরায় বিয়ে হচ্ছে ধারাবাহিকের নায়ক ও নায়িকার। অনেক বড় সর্বনাশের হাত থেকে নায়ককে রক্ষা করে ধারাবাহিকের নায়িকা ফুলকি। আর তারপর ফুলকি আর রোহিতকে চিরকালের জন্য একই সুতোয় বেঁধে দিতে এই বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মাস্টারমশাই অর্থাৎ রোহিতের জেঠুমনি পল্লব রায় চৌধুরী। তার এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি মাস্টারমশাই এর স্ত্রী হৈমন্তী। কারণ সে কখনোই চায় না যে তার ছেলের ক্ষতি করেছে সেই মানুষটা সুখে শান্তিতে ঘর সংসার করুক।

একজন মা হয়েও আরেক মায়ের কোল খালি করতে এতোটুকুও দ্বিধাবোধ হয় না হৈমন্তীর। একটা ভুল ধারণাকে সত্যি ভেবে নিয়ে প্রতিনিয়ত নিজের সন্তান তুল্য রোহিতের ঘর সংসার ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছে সে। শালিনীকে এই বাড়িতে রাখার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল রোহিতকে অশান্তিতে রাখা। কারণ হৈমন্তী খুব ভালোভাবেই জানে শালিনী রোহিতকে সুখী হতে দেবে না। কিন্তু ফুলকি রোহিতের জীবনে আলোর ফুলকি হয়ে ওঠে আর তার জীবনের সমস্ত কলঙ্ক মুছে দেয়। এটা একেবারেই সহ্য করতে পারছে না হৈমন্তী। আর ঠিক এই জায়গাতেই হৈমন্তীর সাথে অন্যান্য ধারাবাহিকের নেতিবাচক ভূমিকায় থাকা শাশুড়িদের সবথেকে বড় পার্থক্য।
কৃষ্ণার চাইতেও অনেক বেশি ভয়ংকর হৈমন্তী
এই চ্যানেলের আরো একটি ধারাবাহিক নিম ফুলের মধুতে শাশুড়ির চরিত্রে থাকা কৃষ্ণা কখনোই চায়নি তার বৌমা সুখে শান্তিতে থাকুক এবং ছেলের সঙ্গে ঘর সংসার করুক। কিন্তু কোনদিনও সে হৈমন্তীর মতন নিজের ছেলে বৌমার মৃত্যু কামনা করেনি। বরং বৌমার বিপদের দিনে তাকেও চোখের জল ফেলতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু হৈমন্তী তেমনটা নয়। সে সর্বদা চেষ্টা করে এসেছে এবং এখনো চেষ্টা করে চলেছে রোহিতকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার। তার মধ্যকার এই আগুনটাকে কাজে লাগিয়ে নিজের স্বার্থ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে রুদ্র।
আরও পড়ুনঃ বুকের আঁচল সরে গিয়ে ট্রোলের শিকার পৌষালী, নেটিজেনদের তীব্র কটাক্ষের মুখে গায়িকা
মা থেকে শয়তানে পরিণত হয়েছে হৈমন্তী। ফুলকি রোহিতের মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করার বদলে মনে মনে অভিশাপ করছে সে। তার মধ্যে থাকা সামান্য মানবিকতা এবং মা সুলভ সমস্ত মায়া দয়া ভালোবাসা শেষ হয়ে গিয়েছে। নিজের ছেলের চাইতে পরের ছেলেকে বেশি বিশ্বাস করে নিজের বাড়ির ছেলের ক্ষতি করতে উঠে পড়ে লেগেছে হৈমন্তী। নিজের অজান্তেই অনেক বড় পাপ করে চলেছে সে। আগামীতে কি ফুলকি পারবে হৈমন্তীর এই ভুল ধারণা ভেঙ্গে দিয়ে আসল অপরাধের মুখোশটা তার সামনে টেনে ছিঁড়ে দিতে?
