Bollywood

গর্ভধারণে অক্ষম নীতা আম্বানি! কিভাবে তিন সন্তানের বাবা মা হলেন এই দম্পতি?

ভারতের তারকাদের নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ সবসময় তুঙ্গে থাকে। আর বলিউডের বড় বড় তারকাদের কাছে যিনি তারকার চেয়েও বেশি তিনিই রিলায়েন্স গ্রুপের মালিক মুকেশ আম্বানি (Mukesh Ambani)। তবে তার থেকে সামাজিক মাধ্যমে বেশি জনপ্রিয় তার পত্নী নীতা আম্বানি। নীতা আম্বানি (Nita Ambani), দেশের অন্যতম প্রভাবশালী নারী যার আলাদা করে পরিচয়ের প্রয়োজন নেই। তার ব্যবহৃত দামী জিনিসপত্র থেকে শুরু করে তার ডায়েট চার্ট এমনকি তার রূপচর্চার বিষয় সব কিছু নিয়েই সাধারণ মানুষের কৌতূহল থাকে অত্যাধিক।

সদা হাস্যজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত নীতা আম্বানি দেখতেও কোন বলিউড অভিনেত্রীর থেকে কম নন। সংসার থেকে কেরিয়ার, সমান দক্ষতার সঙ্গে দুটোই সামলেছেন তিনি। তবে একসময় এই হাসি খুশি প্রাণোচ্ছল মানুষটিকেই ঘিরে ধরেছিল চরম অবসান। জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছিল শান্তি। ঘোর বিষন্নতা গ্রাস করেছিল মুকেশ পত্নী নীতা আম্বানিকে। কিন্তু কি হয়েছিল সেইসময়? কেন অবসাদে ভুগেছিলেন নীতা আম্বানি?

একটি মধ্যবিত্ত গুজরাটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন নীতা আম্বানি। বাবা রবীন্দ্রভাই দালাল এবং মা পূর্ণিমা দালালের সঙ্গেই শহরতলী মুম্বাইতেই বেড়ে উঠেছিলেন নীতা। নরসি মঞ্জি কলেজ অফ কমার্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি শিখেছিলেন ভরতনাট্যম। এরপর ১৯৮৫ সালে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন মুকেশ আম্বানি এবং নীতা দালাল। তারপর হিন্দুধর্মের নিয়ম অনুযায়ী স্বামীর পদবী ব্যবহার করতে শুরু করেছিলেন তিনি। তবে বিয়ের পর একটা সময় যখন নীতা মা হওয়ার চেষ্টা করছেন। তখনই এক কঠিন সত্যের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। ডাক্তার পরিষ্কার জানিয়ে দেন তিনি কোনদিনও মা হতে পারবেন না। চিকিৎসকের কথা শুনে আম্বানি দম্পতির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। কারণ ৩৫ বছর আগে সাধারণ মানুষের সরোগেসি বা অন্য কোন পদ্ধতির বিষয়ে কোন ধারণা ছিল না। ফলেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন দুজনেই।

কীভাবে সন্তানদের জন্ম দিয়েছিলেন নীতা আম্বানি?

তবে তাদের এই সমস্যায় ত্রাতা হয়ে দাঁড়ায় আইভিএফ অর্থাৎ ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের পদ্ধতি। চিকিৎসকের পরামর্শে আমেরিকাতে গিয়ে আইভিএফের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দেন নীতা। হ্যাঁ ১৯৯১ সালে আইভিএফ যদিও মুখের কথা ছিল না, তবে সন্তান সুখের আশায় এই পন্থায় অবলম্বন করেছিলেন আম্বানি দম্পতি। একটি সাক্ষাৎকারে নীতা আম্বানি জানান “আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলাম আর মুকেশ সবেমাত্র ভারতে ফিরেছে। ফিরতেই ডাক্তারের ফোন পায় ও। এখুনি ইউকেতে আসতে হবে। শাশুড়ি মা ডাক্তার আর ও তখুনি ফ্লাইটে চেপে চলে আসে আমেরিকায়।

আরও পড়ুন: গভীর স্ব’রযন্ত্রের শিকার ময়না! সুগন্ধি চুরির অপবাদ জুটলো তার কপালে!

কেন ছেলে মেয়ের নাম ঈশা আর আকাশ রেখেছেন মুকেশ আম্বানি এবং নীতা আম্বানি?

মাঝ আকাশেই খবর আসে এক ছেলে আর এক মেয়ে হয়েছে। তিনি এও জানিয়েছেন মুকেশ যখন আসছিলেন তখন পাহাড়ের ওপর দিয়ে আসছিলেন তাই মেয়ের নাম রাখা হয় ঈশা যার অর্থ পাহাড়ের দেবী পার্বতী আর যেহেতু আকাশে ছেলের জন্মের খবর পেয়েছিলেন তাই ছেলের নাম রাখা হয় আকাশ। তবে উল্লেখ্য আইভিএফ পদ্ধতি যে তাদের জীবনের ভগবানের বরদানের সমান তা অকপটে স্বীকার করছেন আম্বানি পত্নী। তিনি এও জানান বিয়ের সাত বছরের মাথায় কড়া ঔষুধের মাধ্যমে তিনি জন্ম দিয়েছিলেন দুই সন্তানের যদিও তার বছর কয়েক পর স্বাভাবিকভাবেই দ্বিতীয় ছেলের জন্ম দেন নীতা। ছেলে মেয়েকে অত্যন্ত ভালোবাসেন আম্বানি পত্নী। যদিও ছোট ছেলের বিয়ে নিয়ে বেশ ব্যস্ততার মধ্যে দিয়েই কাটছে তার জীবন। যার দিকে বর্তমানে নজর রয়েছে গোটা দেশের।

Aarvi

আরভি সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। বিগত ৩ বছর যাবৎ সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। বিনোদন ক্ষেত্রে তার অবাধ গতি। আমার লেখা আরও পড়ুন