সংসার ছেড়ে রায় চৌধুরী বাড়িতে ফিরে এল ধানসিড়ি। জি বাংলার ফুলকি ধারাবাহিক এ গত পর্বে দেখা গেছে, অবশেষে ধানু ফুলকির বাবার কিস লড়ার জন্য চৌধুরী মহল ছেড়ে চলে এলো রায় চৌধুরী বাড়িতে। এই দেখে রোহিতের মা অবাক হয়ে যায়। এমন সময়, ধানু নিজে থেকে জানায় তাকে একদিন না একদিন ওই বাড়ি ছাড়তেই হত।
ধানু আরও বলে, ফুল কি বারে বারে তাদের সবাইকে বিভিন্ন সময় সত্যিটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। আর, ধানু নিজেও এখন অনুভব করে ছোট রানী মা সকলের সামনে ভালো সাজলেও তার আড়ালে একটা শয়তানের মুখোশ রয়েছে, যা সকলের সামনে টেনে ছিড়ে ফেলতে হবে। এমন সময় তমাল পিয়ালরা আদিত্য কথা জিজ্ঞাসা করলে ভানু বলে তার স্বামী ভাল মনের মানুষ হলেও তার মা যে এতটা খারাপ সে কখনোই বোঝেনা।

এরপর, কথায় কথায় রায়চৌধুরী বাড়ির ছেলেমেয়েরা বলে আজ রাতে জমিও একটা আড্ডা দেওয়া যাবে। এরপর তমালরা ধানু কি ঘরে নিয়ে গেলে রোহিতের মা কান্নায় ভেঙে পড়ে কারণ তার মেয়ে সংসার ছেড়ে বাপের বাড়িতে চলে এসেছে। শাশুড়ির এমন অবস্থা দেখে মনে মনে খুবই খারাপ অনুভব হতে থাকে ফুলকির।
ফুলকি মনে মনে আজ ধানু দিদির যা অবস্থা হয়েছে তা তার জন্যই হয়েছে। এমন সময়, রোহিতের মা ফুলকিকে ছেলে মানুষ বললেও মনে মনে নিজের মেয়ের সংসার ভেঙে গেছে এই নিয়ে নানান খারাপ কথা ভাবতে থাকে। অন্যদিকে দেখা যায় ছোট রানী মা এবং রুদ্র আলোচনা করছে কিভাবে বড় রাজাবাবুকে শেষ করে দেওয়া যায়।
ছোট রানী মা রুদ্রকে জানাই সে একেবারে নিশ্চিত যে মানুষটি ২৪ বছর বাদে ফিরে এসেছে সেই আসল বড় রাজা বাবু। এরপর ছোট রানী মা বলে এটাই তাদের হাতে সেফ সুযোগ বড় রাজা বাবু এবং ফুলকিকে শেষ করার তাই খুব ভাবনাচিন্তা করে পরিকল্পনা নিয়ে আগামী দিনে পা ফেলতে হবে।
এদিকে দেখা যায় ফুলকি ঘরে বসে কেঁদে চলেছে। এমন সময় রোহিত তাকে দেখতে পেলে ফুলকি বলে, ভানু দিদি আজ ওই বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছে তার জন্যই। এই কথাটা ভেবে ফুলকির খুবই খারাপ লাগছে। এমন সময় রোহিত তাকে বোঝায় আজ তার বাবা মাকে ফিরে পাওয়ার জন্য যে লড়াই করছে তার জন্য এই বাড়ির সকলে তাঁর পাশে রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ আশাভরি বনাম ফুলকি, লড়াই শুরু আদালতে! শত্রুকে হারিয়ে জয়লাভ করতে পারবে তো ফুলকি?
ফুলকি-রোহিত কথা বলার সময় তাদের মা ঘরে আসে এবং বলে আদিত্যকে এক্ষুনি ফোন করতে। রোহিতের মা চায় আগামীকাল আদিত্য এসে যেন ধানসিড়িকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু রোহিত তার মায়ের কথাকে সমর্থন জানায় না। রুহিত চায় দুজনেই যেন দূরে থেকে, একটু নিজেদেরকে সময় দেয় এবং একে অপরকে যেন বোঝার চেষ্টা করে তারপরে নয় সে আদিত্যকে ফোন করবে।
এরপর, দেখা যায় ফুলকি তার বাবার ঘরে গিয়ে দেখছে, জানলা খুলে সে একটা আরামকে দাড়ায় বসে বিশ্রাম করছে। ঘরের জানলা খোলা দেখে ফুলকি অবাক হয়ে যায় আর তার বাবাকে বলে এখন চারিদিকে শত্রুপক্ষ ঘুরছে তাই কোথা থেকে কখন কোন বিপদ চলে আসে কিছু জানা নেই। কেউ যদি বাইরে থেকে কোন কিছু ছুঁড়ে দেয় তাহলে আর কিছু করা যাবে না।
এরপর কথায় কথায় ফুলকি তার বাবাকে ২৪ বছর আগেকার নানা ধরনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে কিন্তু শ্যামানন্দ বাবাজি অর্থাৎ বড় রাজার বাবুর কিছুই স্মৃতিতে মনে পড়ে না। অন্যদিকে দেখা যায় রুদ্রর লোক দূর থেকে দূরবীন দিয়ে ফুল্কি দের বাড়ির দিকে দেখছে যে বড় রাজা বাবুকে দেখতে পাওয়া যায় কিনা। অনেক চেষ্টা করে তিওয়ারি বড় রাজাবাবুকে দেখতে পায় ফুলকির সঙ্গে কথা বলছে।
রায় চৌধুরী বাড়িতে আগুন লেগে গেছে। আর সেই আগুনের জেরি রোহিতের মা ধানুকে বলছে শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে লড়াইয়ে না নামলে তোর চলছিল না। এদিকে রোহিত আড়ালে ফুলকিকে বলে, ‘তুমি সাবধানে পা ফেলো কালকে সকালের আগে কিছু জানানো যাবে না।’
