ফুলকি এই মেয়েটার সবকিছুতেই বড্ড আগ্রহ। আর, এই আগ্রহের জন্যই বারে বারে জীবনে বিপদ ডেকে আনে। জি বাংলার এই জনপ্রিয় ধারাবাহিকে গত পর্বে দেখা গেছে, সব বারণকে তোয়াক্কা না করে মাঝরাতে চুপিসারে ঢুকে পড়ে বড় রানী মার ঘরে। ঘরে গিয়ে একে দেখে প্রবল জ্বরে কাতরাচ্ছে রাণী মা।
এই দেখে মনে মনে ফুলকি ভাবে, এই মানুষটার এত জ্বর কিন্তু সামান্য জলপট্টি দেওয়ার কেউ নেই। এদিকে নাকি পাহারায় তাকে সারাক্ষণ রেখে দিয়েছে। এরপর, নিজে থেকেই একটা বাটি যোগাড় করে শাড়ির আঁচল ছিড়ে জলপট্টি দিয়ে দেয় তার মাথায়। বড় রানী মা অন্যের স্পর্শ অনুভব করতেই দেখে ঘরে এসেছে ফুলকি। এই দেখামাত্রই তিনি খুব আনন্দিত হয়ে ওঠে।

এরপর, রানী মা তাকে জিজ্ঞাসা করে সে এসেছে? কথায় কথায় তিনি ফুলকিকে জানায় এই চার দেয়ালে বন্দি থাকতে তার আর ভালো লাগে না। তিনি চায় একবার নৃসিংহ দেবের দর্শন করতে। কিন্তু, ফুলকি তাকে জিজ্ঞাসা করে এমন জোর অবস্থায় সে কি মন্দিরে যেতে পারবে? এই শোনা মাত্রই রানী বলে, সে খুব পারবে।
এরপর, ফুলকি খাটের উপর বালিশ সাজিয়ে তা চাপা দিয়ে ইচ্ছা করে ঘরের মধ্যে একটা থালা ফেলে দেয় যাতে বাইরের পাহারাদার ঘরে আসে আর সেই ফাঁকে তারা বেরিয়ে যেতে পারে। এরপর, এমনটা করার পরেই ঘর থেকে বেরিয়ে যায় ফুলকিরা। বহুদিন পর নৃসিংহ দেবের মন্দিরে এসে খুব খুশি হয়ে ওঠে রানী মা।
নৃসিংহদেবকে দেখতে প্রণাম করে কথায় কথায় রাণীমা ফুলকিকে জানায়, সে সব সময় একটা কান্নার আওয়াজ শুনতে পায়। এমন সময় ফুলকি তাকে বলে এই কথা তিনি কি কোনোদিনও ডাক্তার কি জানিয়েছেন? রানীমা বলে হ্যাঁ। কিন্তু সবাই তাকে মনের ভুল বলে কথা এড়িয়ে যায়। এরপর রানিমা আরো জানায়, তার মেয়ে জন্মানো মাত্রই মারা গেছে। এমন সময় ফুলকি বড় রাজার কথা জিজ্ঞাসা করলে রানী মা বলেন, হঠাৎ জানতে পারেন তিনি মারা গেছে।
আর, এমন সময়তেই এসে পড়ে হারহাইনেস আর কথা ঘুরিয়ে বড় রানী মাকে ঘরে নিয়ে যায়। এরপর, ফুলকি ঘরে যাওয়ার সময় রানীমার চেম্বারে দেখতে পায়, তিনি একটা কাজের লোক কে খুব শাসন করছে এবং মারছে। এমন সময় ফুলকি তাকে আটকাতে চায় আর বলে রাণীমার সম্বন্ধে কোন কিছু বলতে হলে তাকে বলতে কারণ, সেই কাজের লোকের কোনো দোষ নেই।
এমন সময় ফুলকিকে খুঁজতে খুঁজতে ওই চেম্বারে এসে পড়ে ধানসিঁড়ি আর তখন ছোট কুমারও চলে আসে বলে, এই বাড়িতে তার মায়ের কথাই চলে এবং সেটাই সবাই মান্যতা দেয়। এরপর ঘরে যাওয়ার সময় ফুল কি মনে মনে ভাবতে থাকে, এই ছোট রানী মা বাইরে থেকে নিজেকে যেমন দেখায় তেমনটা নয়। উল্টে বড় রানী মার মুখ দেখলেই বড় মায়া লাগে তার।
এরপর ঘরে গিয়ে আদিত্য ধানকে যা উপহার দিয়েছে তা দেখায় ফুলকিকে। তারপর, দুজনেই শুয়ে পড়ে কিন্তু ফুলকির কিছুতেই ঘুম আসে না। এমন সময় ফুলকি তার স্যারকে ফোন করে তার সন্দেহের কথা বলে। আর এই চৌধুরী মহলে যে রহস্য আছে তার কথাও বলে।
আরও পড়ুনঃ ফুলকিকে তার বাবার গল্প শোনালো বড় রাণীমা! সব শুনে অবাক ফুলকি! তবে কি জন্ম পরিচয়ের আরো কাছাকাছি পৌঁছে গেল সে?
এই সিরিয়ালের আগামী পর্বে দেখা যাবে, ‘আজ থেকে আমি এ বাড়ির মান রাখবো, সারাজীবন বড়ো কুমারের পাশে থাকবো’ ভাটকাপড়ের দায়িত্ব নেওয়ার সময় বলল ধানু। এবার আদিত্য দায়িত্ব নেওয়ার সময় ‘তুমি তো নিজের দায়িত্ব নিজেই নিতে পারো তাহলে আদিত্য দাদা কেন তোমার দায়িত্ব নেবে’ বলল ফুলকি।
