সন্তান খারাপ হোক বা ভালো, তার প্রতি দায়িত্ব এড়াতে পারে না তার বাবা-মা। সে যতই অন্যায় করুক না কেন মা-বাবা হিসেবে সব সময় তারা চেষ্টা করে নিজের সন্তানকে প্রাণে বাঁচিয়ে রাখার। কিন্তু এবার চরম সংকটে পড়লো জি বাংলার (Zee Bangla) চ্যানেলের ইচ্ছে পুতুল (Ichhe Putul) ধারাবাহিকের অন্যতম প্রধান চরিত্র নায়িকার বাবা অনিন্দ্য। যত শেষের পথে এগোচ্ছে ততই জমে উঠছে ধারাবাহিকের গল্প। টিআরপিতে জায়গা করতে না পারলেও দর্শকদের মনের সম্পূর্ণ জায়গাটাই জুড়ে রয়েছে ইচ্ছে পুতুল।
বর্তমান গল্প অনুযায়ী, মেঘের শরীরটা হঠাৎ করেই খারাপ হয়ে যায়। সবার সামনে মাথা ঘুরে পড়ে যায় সে। কারোর বুঝতে বাকি থাকে না যে রক্ত দেওয়ার কারণেই তার এমনটা হয়েছে। কিন্তু আগেও তো মেঘ অনেক বার রক্ত দিয়েছে তখন তো ওর এতটা খারাপ অবস্থা হয়নি, তাহলে আজ হঠাৎ করে এমনটা কেন হল সেটা ভেবে প্রচন্ড চিন্তায় পড়ে যায় মধুমিতা আর অনিন্দ্য। মেঘের এমন অবস্থা দেখে ভীষণ ভেঙে পরে নীল। মীনাক্ষী তাকে শক্ত থাকতে বলে কারণ এই সময় মেঘের মনের জোর বাড়াতে হবে। আর নীল যদি ভেঙে পড়ে তাহলে সেটা কখনোই সম্ভব হবে না।
ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দেখা যায়, হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে মেঘকে। অনিন্দ্য মীনাক্ষীকে জিজ্ঞাসা করে ও ঠিক হয়ে যাবে তো? মীনাক্ষী তাকে জানায়, যদি ঠিকঠাক চিকিৎসা না হয় তাহলে বাঁচানোটা মুশকিল। মধুমিতা এসব কিছুর জন্য নিজেকে দোষ দিতে থাকে। সে অনিন্দ্যকে বলে, আবারো স্বার্থপর হলো সে। আজ যদি ময়ূরীর নাটককে পাত্তা না দিয়ে মেঘকে সে না আনতো তাহলে এমনটা হতো না। তার জন্য আবার মেঘের জীবনটা বিপদের মুখে পড়ল। অনিন্দ্য মধুমিতাকে এসব চিন্তা করতে বারণ করে কারণ তার দুই মেয়ে অসুস্থ এবার যদি মধুমিতাও অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলে তার পাশে আর কেউ থাকবে না।
অনেকক্ষণ বাদে মীনাক্ষী জানায় একটু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে মেঘ কিন্তু এই অবস্থাতে তাকে একেবারেই উত্তেজিত করা যাবে না। আর একটা কথা খুব ভালোভাবে অনিন্দ্যকে বুঝিয়ে দেয় মীনাক্ষী। আর সেটা হল মেঘ আর কখনোই রক্ত দিতে পারবে না এবার তাকে অন্য ডোনার খুঁজতে হবে। তার সাথে থাকা আরেক ডাক্তার বলেন, অনেকদিন ধরে অনেক রক্ত ওর শরীর থেকে নেওয়া হয়েছে। আর সেটা নিতে নিতেই আজকে ও এমন একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছে। এটাই লাস্ট স্টেজ। এরপর যদি আবার ওকে রক্ত দিতে হয় তাহলে ওকে আর বাঁচানো সম্ভব হবে না।
আরো পড়ুন: ‘হলুদ আমার প্রিয় রঙ…!’ হলুদ বর্ণা পোশাকে এক্কেবারে ‘ডল পুতুল’ মিঠাইরানি সৌমিতৃষা
অনিন্দ্য বুঝতে পারে তাদের কত বড় ভুল হয়েছে। এরপর মেঘের সাথে অনেক মান-অভিমানের কথা বলতে থাকে নীল। ঠিক তখনই অনিন্দ্যর ফোনে ফোন আসে সেই হাসপাতাল থেকে যেখানে ময়ূরী ভর্তি রয়েছে। তাকে জানানো হয়, ময়ূরীর অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছে হঠাৎ করেই আর তাকে রক্ত দিতে হবে। অনিন্দ্য বলে তার ছোট মেয়ে ইতিমধ্যেই রক্ত দিয়ে এসেছে। তখন অনিন্দ্যকে জানানো হয়, যে ঘরে সমস্ত রক্ত রাখা হচ্ছিল সেই ঘরটার উঁচু সমস্যা হওয়ায় সমস্ত রক্ত নষ্ট হয়ে গেছে। এই কথাটা শুনে অবাক হয়ে যায় অনিন্দ্য আর বুঝতে পারেনা এবার কি করে ময়ূরীকে বাঁচাবে সে।
