বহু পুরনো ধারাবাহিকগুলির (Bengali Serial) মধ্যে অন্যতম হলো জি বাংলার (Zee Bangla) জগদ্ধাত্রী (Jagatdhaatri)। বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় (Bengali Television) এই মেগা ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে আর কিছু বলার নেই। বর্তমানে তো এই জনপ্রিয়তা আরও দ্বিগুণ বাড়তে চলেছে। সুস্থ হয়ে গিয়েছে জগদ্ধাত্রী। ফিরে এসেছে আবার নিজের পুরনো রূপে। অন্যদিকে আবার মেয়ে দুর্গা। একেবারে ডবল ধামাকা। তাই জগদ্ধাত্রী ধারাবাহিকের প্রতিটি পর্বই এখন টানটান উত্তেজনা পূর্ণ হতে চলেছে।
ধারাবাহিকের শেষ পর্বগুলিতে দেখানো হয়েছে, দিব্যা সেনের উকিল কোর্টে দিব্যা সেনকে বাঁচানোর চেষ্টা করে যায়। কিন্তু জগদ্ধাত্রী থামে না। তারপর হঠাৎই জগদ্ধাত্রী তার মেয়ের কথা ভেবে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। সে তো জানে না তার মেয়ে দুর্গা কত বড় হয়ে গেছে। স্বয়ম্ভু তারপর দুর্গাকে জগদ্ধাত্রীর সামনে নিয়ে আসে। দুর্গাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে জগদ্ধাত্রী। সবদিক বিচার করে বিচারক দিব্যা সেনকে সংশোধনাগারে রাখার আদেশ দেয় আর এই কেসের আরো তদন্ত করতে বলে। ওদিকে বহু বছর পর আবার নিজের পায়ে শ্বশুর বাড়ির চৌকাঠ পেরোয় জগদ্ধাত্রী। স্বয়ম্ভু নিজে বরণ করে জগদ্ধাত্রীকে ঘরে তোলে।

বাড়িতে এসে পুরনো সমস্ত স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে ওঠে জগদ্ধাত্রীর। সব পুরনো কথা এক এক করে মনে পড়ে। জগদ্ধাত্রীকে সুস্থভাবে দেখে বাড়ির সকলেই বেশ খুশি। আনন্দে জড়িয়ে ধরে তার জেঠি শাশুড়ি। এত বছর পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে সকলে। ওদিকে বাড়ির ফিরে গিয়ে জগদ্ধাত্রী স্বয়ম্ভুর কাছে তার হারিয়ে যাওয়া ২০ টা বছর ফেরত চায়। এত বছর সে একটা অন্ধকারে ছিল তার মেয়ে তার মাকে পায়নি কুড়িটা বছর। সব মিলিয়ে জগদ্ধাত্রী বারবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে।
এদিকে জগদ্ধাত্রী বাড়ি ফেরার পর বৈদেহি তার কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করে পুরনো সমস্ত কথা ভুলে গিয়ে ক্ষমা করে দিতে। জগদ্ধাত্রীকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে। কিন্তু দুর্গা তো সব চালাকি জানে, জানিয়ে দেয় এখন গোটা বিষয়টা নিয়ে তদন্ত হবে। তদন্তে যদি কারোর নাম বেরিয়ে আসে তাহলে তাদের কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। এখনো অনেক অপরাধী জেলের বাইরেই ঘোরাফেরা করছে। এই কথাটা মেহেন্দিকে ইঙ্গিত করে বলে দুর্গা।
আরও পড়ুনঃ খেল খতম রানীমার! পুলিশ সহ রাজবাড়িতে পৌঁছাল ফুলকি!
এদিকে এতগুলো বছর পর মাকে পেয়ে দুর্গা কেঁদে ফেলে, মাকে সুস্থ করে তুলতে পেরে খুব খুশি সে। জগদ্ধাত্রী তো জানতো না দুর্গা অনাথ আশ্রমে বড় হয়েছে। স্বয়ম্ভুর মুখে সব শুনে জগদ্ধাত্রী অবাক হয়ে যায়। আসলে রাজনাথ এবং কৌশিকী মিলেই দুর্গাকে উদ্ধার করে এবং অনাথ আশ্রমে রেখে আসে। যাতে কেউ দুর্গার কোন ক্ষতি করতে না পারে। কারণ এতদিন পর্যন্ত সবাই জানতো দুর্গা মৃত। এরপরে বৈদেহি সবাইকে নিচে খাবার খাওয়ার জন্য ডেকে নিয়ে যায়। এত বছর পর মা মেয়ে একসাথে বসে খাবে তাই সে নিজে এসেছে ডাকতে। আসলে সবটাই নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য করছে। এরপরে দুর্গা জগদ্ধাত্রী সবাই মিলে একসঙ্গে খাবার টেবিলে যায়। জগদ্ধাত্রী এই প্রথমবার নিজের মেয়েকে খাইয়ে দেয়। প্রথমবার মায়ের হাতের খাবারের স্বাদ অনুভব করলো দুর্গা। দেখা যাক আগামী পর্বে কি অপেক্ষা করছে দর্শকদের জন্য।
