জমে উঠেছে জগদ্ধাত্রী ধারাবাহিক (Jagatdhaatri)। প্রতিটি পর্বেই থাকছে নিত্য নতুন চমক। জগদ্ধাত্রী সেজে দুর্গার উপস্থিতি প্রত্যেককে মুগ্ধ করছে বারবার। যেভাবে দুর্গা জগদ্ধাত্রী সেজে দিব্যা, বৈদেহী, মেহেন্দি সকলকে একটা ধাঁধার মধ্যে রেখেছে সেটা সত্যি বেশ উপভোগ করছেন দর্শক। তবে এখন দর্শকদের একটাই চাহিদা কবে জগদ্ধাত্রী আবার নিজের পায়ে উঠে দাঁড়াবে।
ধারাবাহিকের শেষ পর্বগুলিতে দেখানো হয়েছে, স্বয়ম্ভু এবং কৌশিকী মিলে জগদ্ধাত্রীকে ওই একই নার্সিংহোমে একই ডাক্তার নার্সদের মাঝে নিয়ে যায়। যাতে চেনা মুখ অপারেশন থিয়েটার এসব দেখে জগদ্ধাত্রী রিঅ্যাক্ট করে, কথা বলে। ওদিকে দিব্যা সেন খবর পেয়েছে স্বয়ম্ভু এবং কৌশিকীর সাথে হাসপাতালে গিয়েছে জগদ্ধাত্রী। কিন্তু দিব্যা সেন প্রথমে ভাবে জগদ্ধাত্রী হয়তো কোন প্রমাণ খুঁজতে সেখানে গিয়েছে। কিন্তু পরে ওই নার্সকে ফোন করে দিব্যা জানতে পারে জগদ্ধাত্রীকে স্ট্রেচারে করে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। সাথে কৌশিকী মুখার্জি এবং শ্রীমতি সেন ছিলেন।

এ কথা শুনে তো অবাক হয়ে যায় দিব্যা এবং চন্দ্রনাথ। কারণ জগদ্ধাত্রীকে হঠাৎ হাসপাতালে কেন নিয়ে যাওয়া হল সেটাই বুঝতে পারে না তারা। এদিকে ঠিক তখনই মেহেন্দি দিব্যাকে ফোন করে এবং ফোন করে জানায় জগদ্ধাত্রী শেষ পরীক্ষাটাও পাশ করে গিয়েছে। উৎসবের জন্য পোলাও মাংস রান্না করে বেরিয়েছে জগদ্ধাত্রী। কিন্তু তখন দিব্যা সেন জানায় এটা হতে পারে না জগদ্ধাত্রী হাসপাতালে আছে। সে পোলাও মাংস কি করে রান্না করতে পারে সেই নিয়ে শুরু হয় দুজনের মধ্যে তর্ক। তখনই মেহেন্দি বলে তাহলে তার সন্দেহটাই ঠিক। দুর্গাই আসলে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করছে। তাই জন্য জগদ্ধাত্রীকে ধরতে সঙ্গে সঙ্গে দিব্যা বিশেষ নার্সকে ফোন করে এবং সেখানেই থাকতে বলে।
ওই নার্স যখন দিব্যা সেনের সঙ্গে কথা বলছিল পেছন থেকে সমস্ত কিছু শুনে নেয় দুর্গা। তারপর জোর করে নার্সের কাছ থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে স্বয়ম্ভুকে বলে ওই নার্সকে কিছুক্ষণের জন্য ভ্যানিশ করে দিতে। এরপর দিব্যা এবং চন্দ্রনাথ বাবু সেখানে এসে অনেক খোঁজাখুঁজি করে কিন্তু কোথাও খুঁজে পায় না। স্বয়ম্ভু দিব্যা সেনকে জানিয়ে দেয় নার্সটিকে ভ্যানিশ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাড়িতে ঢোকা মাত্রই দুর্গাকে জেরা করতে শুরু করে দেয় সকলে মিলে। দুর্গা এতক্ষণ কোথায় ছিল, কি করছিল। সাথে বৈদেহি এটাও বলে জগদ্ধাত্রী যে হাসপাতালে গিয়েছিল সেই খবরটা পেয়েছে তারা। দুর্গা বুঝতে পারে দিব্যা সেন এন খবর দিয়েছে বাড়িতে। কোনরকম ভাবে দুর্গা সেই পরিস্থিতি ম্যানেজ দেয়। সাথে দুর্গা উৎসবকে সাবধান করে দেয়। জেল থেকে যেমন সে বার করে এনেছে আবার সেই জেলের ভেতরেই চিরজীবনের মতো পাঠিয়ে দেবে। সেখানেই উৎসব সারাটা জীবন কাটাবে, সেখানেই তার মৃত্যু হবে, সেখানেই তার শ্রাদ্ধ হবে।
আরও পড়ুনঃ নতুন মোড়ে ‘ফুলকি’! ধোঁয়াশা কাটিয়ে ফিরছে বড় রাজার স্মৃতি, ছোট রাণীর মাথায় হাত!
এবার দুর্গা ফোন করে স্বয়ম্ভুকে জানিয়ে দেয় জগদ্ধাত্রীর হাসপাতালে যাওয়ার খবরটা বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে দিব্যা। স্বয়ম্ভু তখন জগদ্ধাত্রীদের কাছে ওই অনাথ আশ্রমে ছিল। দুর্গার সাথে কথা বলার পর জগদ্ধাত্রীকে অনেকবার করে উঠে দাঁড়াতে বলে, কথা বলতে বলে, কিন্তু এখনো একই রকম রয়েছে জগদ্ধাত্রী। এরপরে জগদ্ধাত্রীকে এনআইসিইউ এর সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে কুড়ি বছর আগে দুর্গাকে রাখা হয়েছিল সেই বেডে সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর সেখানে একটি নকল খেলনা পুতুল রেখে তাকে দুর্গা সাজিয়ে রাখা হয়। জগদ্ধাত্রীকে দুর্গার দায়িত্ব দিয়ে যায় স্বয়ম্ভু। তারপরই প্ল্যান মতন একজন ওয়ার্ড বয়সে এসে ওই বাচ্চাটিকে চুরি করে নেওয়ার অভিনয় করতে থাকে। তাতে উত্তেজিত হয়ে পড়ে জগদ্ধাত্রী। আর উত্তেজনার বসেই জগদ্ধাত্রী আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়াতে থাকে স্বয়ম্ভুর সামনে। এবার দেখার অপেক্ষা কোর্টে যাওয়ার আগে জগদ্ধাত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ হয় কিনা।
