ব্লুজ প্রোডাকশনের (Blues Production) একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিক হল জগদ্ধাত্রী (Jagatdhaatri)। এমনিতেই এই প্রোডাকশন হাউসের যে কোন ধারাবাহিকই বেশ জমজমাট দর্শকমহলে। সেরকম একটি হল জগদ্ধাত্রী। জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় বিগত তিন বছর ধরে চলা এই ধারাবাহিক একই ভাবে দর্শকের মনে বিরাজ করছে। অসংখ্য ধারাবাহিক এসেছে গেছে কিন্তু জগদ্ধাত্রীর জায়গা কেউ নিতে পারেনি। বিগত তিন বছর ধরে একইভাবে দর্শকেরা এই ধারাবাহিককে ভালোবাসা দিয়ে যাচ্ছে।
ধারাবাহিকের শেষ পর্বগুলিতে দেখানো হয়েছে, জগদ্ধাত্রী উৎসবকে সাবধান করে দেয় যেন কোন অন্যায় না করে। কারণ এবার অন্যায় করলে জগদ্ধাত্রী, দুর্গা, কৌশিকী রাজনাথ কেউই তাকে বাঁচাতে পারবে না। আর সে চায় না তার পরিবারের কেউ কোনো অন্যায়ের সাথে জড়িয়ে পড়ুক। এদিকে দুর্গা খাবার টেবিলে বসে বিশেষ ঘোষণা করে জানায় তাদের বিপুল সম্পত্তির একটা ভাগ অনাথ আশ্রমে যাবে। তৈরি হবে হোস্টেল, হাসপাতাল আরো কত কি। এই দুর্গার বিশেষ ইচ্ছে।

আর এই দুর্গার এই সিদ্ধান্ত শুনে বৈদেহিরা অবাক হয়ে যায়। অনেকেই বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু কৌশিকী তার সাথে আছে। দুর্গার এই প্রস্তাবে সে রাজি, সেইসাথে সুপার-ডুপার ঠাকুমাও রাজি। কিন্তু দুর্গার এই প্রস্তাবে বাধা দেয় বৈদেহি, চন্দ্রনাথরা। যারা দুর্গা, জগদ্ধাত্রীকে পছন্দ করেনা। তাদের বক্তব্য একটু একটু করে গড়ে তোলা কোম্পানির সম্পত্তির ওপর দুর্গার কোন অধিকার নেই। দুর্গা যা খুশি তাই করতে পারে না সেগুলি নিয়ে।
কিন্তু দুর্গা জানাই সে অনাথ আশ্রমে বড় হয়েছে তাই মাথার উপর ছাদ না থাকার কষ্টটা সে জানে। তাই দুর্গা চায় তাদের সম্পত্তির এই বিপুল অংশের মধ্যে একটা ছোট্ট ভাগ অনাথ আশ্রম হোস্টেলের ছেলেমেয়েদের জন্য দিতে। তাতে অন্তত তারা মাথার উপরে ছাদ পাবে। দুর্গার এই সিদ্ধান্তে কৌশিকী ভীষণ খুশি হয়। দুর্গা যে এতদূর ভেবেছে সেটা সত্যি মুগ্ধ করে তাকে। কৌশিকী তো জানিয়ে দেয় সে দুর্গার এই প্ল্যানে সে রাজি। তাদের এই বিপুল সম্পত্তি ছোট্ট ভাগ যদি দান করা হয় তাহলে এমন কিছু ক্ষতি হয়ে যাবে না তাদের। এরপরই দুর্গা জানায় সেই অনাথ আশ্রমের একটি উর্মিলা মুখার্জির নামে হবে। এ কথা শুনে তো বৈদেহি আরো ক্ষেপে ওঠে। সব জায়গায় উর্মিলা মুখার্জি চলে আসছে সেটা একেবারেই পছন্দ করছে না সে। ম্যাগাজিন লঞ্চ হবে উর্মিলা মুখার্জির নামে অনাথ আশ্রম তৈরি হবে সেখানেও ওই মহিলা। কিন্তু দুর্গা তো কারো কথাই শোনে না। কৌশিকী যখন একবার মত দিয়ে দিয়েছেন তখন দুর্গা এই কাজ করেই ছাড়বে।
আরও পড়ুনঃ ছেলেকে আঁচলে বেঁধে পারুলের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন রায়ানের মা! শাশুড়ি বনাম বউমার যুদ্ধে উত্তেজনার পারদ চড়ছে পরিণীতায়!
এদিকে জগদ্ধাত্রী দুর্গার কথা শুনে খুশি হয়। জগদ্ধাত্রীও অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছে। সে এসবের মর্ম বোঝে। তারপরই জগদ্ধাত্রী সকলকে জানিয়ে দেয় উৎসব আজ পার্টিতে গেছে, কিন্তু উৎসব যেন নেশা করে এই বাড়িতে না ঢোকে। দুর্গা মায়ের সাথে সহমত জানিয়ে বলে উৎসব যদি বাড়িতে নেশা করে আসে তাহলে তাকে উচিত শিক্ষা দেবে সে। জগদ্ধাত্রী দুর্গার এই কথা শুনে তো রেগে যায় বৈদেহি, মেহেন্দি। তাই দুর্গার উপর প্রতিশোধ নিতে মেহেন্দি যায় মা মেয়ের মাঝে দূরত্ব তৈরি করতে। প্রীতি এবং মেহেন্দি জানিয়ে দেয় জগদ্ধাত্রী আগে উৎসবের সাথে প্রেম করত। উৎসবের সাথে বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার পর মেহেন্দির সাথে উৎসবের বিয়ে হয়। স্বয়ম্বুকে জগদ্ধাত্রী কোনোদিন ভালোবাসেনি। দুর্গা তো মায়ের সম্পর্কে সব কথা শুনে অবাক হয়ে যায়। এরপরে রাতের বেলা শুয়ে শুয়ে জগদ্ধাত্রী দুর্গাকে জানায় ম্যাগাজিন লঞ্চের উৎসবে দুর্গা জগদ্ধাত্রী যে কাউকে টার্গেট করতে পারে শত্রু পক্ষের লোক তাই তাদের সাবধানে থাকতে হবে তাদের। এবারে দেখার অপেক্ষায় আগামী পর্বে কি হয়।
