জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক পরিণীতা দিন দিন যেন আরও জমে উঠছে! রোমাঞ্চ, চমক, কাঁদানো, হেসে ফেলার মুহূর্ত—সব কিছু একসঙ্গে যেন ঠাঁই পেয়েছে ধারাবাহিকটিতে। আর এই সপ্তাহের পর্বগুলো? একেবারে আগুন! বিশেষ করে পারুল-শিরিনের লড়াই যেন একেবারে তুঙ্গে।
গতকালের এপিসোডে যা দেখানো হলো, তাতে দর্শকরা রীতিমতো হতবাক। শুরুটাই হলো শিরিনের মা-বাবা আর তার ইউনিভার্সিটির বন্ধুরা মিলে একেবারে তেড়ে এসে হাজির প্রিন্সিপালের ঘরে। অভিযোগ? পারুল নাকি শিরিনকে কিডন্যাপ করেছে, মানসিকভাবে অত্যাচার করেছে, এমনকি বলি দেওয়ার চেষ্টা করেছে!

প্রিন্সিপাল প্রথমে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না এই অভিযোগগুলো। কিন্তু শিরিনের মা হুঁশিয়ারি দিয়ে দেন—যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে পুলিশে অভিযোগ জানাবেন। এর পরেই পারুলকে ডেকে পাঠানো হয়। সবাইকে অবাক করে দিয়ে পারুল অকপটে স্বীকার করে নেয়—হ্যাঁ, সব অভিযোগ সত্যি। কিন্তু… একটু থেমে বলে, “আমি এসব করেছি কারণ আমার কাছে সত্যিটা প্রমাণ করার মতো প্রমাণ আছে।” শিরিন তো ভেবেছিল পারুল শুধু হম্বিতম্বি করছে, আসলে কিছুই নেই।
কিন্তু না! পারুল তো খালি হাতে যায় না। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল বোমা ফাটানোর মতো এক ভিডিও! প্রিন্সিপালের রুমে প্রজেক্টর চালিয়ে সেই ভিডিও চালায় পারুল, যেখানে স্পষ্ট দেখা যায়—শিরিন নিজেই কীভাবে প্রতিযোগিতায় পারুলকে ঠকিয়েছে, সেই সব কথাও শোনা যায় তার মুখে। সবাই অবাক! ইউনিভার্সিটির শিক্ষকরা তো বেজায় রেগে যান শিরিনের উপর। একেবারে কড়া ভাষায় কথা বলেন তার সঙ্গে। এমনকি ৭ দিনের জন্য ইউনিভার্সারি থেকে সাসপেন্ড করেও দেন তাকে।
রায়ান নিজেও খুব ভেঙে পড়ে, ভাবে—অকারণে সে পারুলকে অপমান করল! এতদিন ধরে শিরিনকে বিশ্বাস করে ভুল করেছিল। তারপর শিক্ষকরা মিলে সিদ্ধান্ত নেন, রায়ান-পারুলের সেই প্রতিযোগিতা আবার হবে। কারণ পারুল তো সেদিন ঠিক মতো লিখতেই পারেনি, শিরিন ইচ্ছা করে তার লেখা কাগজ গায়েব করে দিয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ রুদ্ররূপের ছলনায় বড় ভুল! ফুলকিকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ধরা পড়ে গেল রোহিতের হাতে!
প্রিন্সিপাল তখন সোজাসুজি শিরিনকে চাপ দেন—লেখা কোথায় ফেলেছো বলো, না হলে এবার কিন্তু বড়সড় শাস্তি পাবে। শিরিন শেষে ভয়ে বলে দেয়—ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিল। ডাস্টবিন ঘেঁটে পারুলের লেখা পাওয়া যায়। লেখাটা পড়ে প্রিন্সিপাল ও অন্যান্য শিক্ষকরা নিশ্চিত হন, এই লেখা এবং রায়ানের লেখার মধ্যে সত্যিকারের প্রতিযোগিতা হওয়া দরকার। এদিকে রায়ান তো নিজের রাগ আর দুঃখের কথা গোপন রাখতে পারে না—সে শিরিনকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তার জন্যই এত অপমান, আর পারুলকে এতটা কষ্ট দিতে হলো। সবমিলিয়ে এবার অপেক্ষা—পারুল ও রায়ানের নতুন করে প্রতিযোগিতায় কী হয়! আর তার থেকেও বড় প্রশ্ন—শাশুড়ি বনাম বউমার এই ঠান্ডা লড়াই শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে? পরবর্তী পর্বে কী অপেক্ষা করছে, সেটাই এখন দেখার বিষয়!
