বাংলার নারীকেন্দ্রিক মেগা ধারাবাহিকগুলির (Bengali Serial) মধ্যে অন্যতম সেরা জনপ্রিয় ধারাবাহিক হল জগদ্ধাত্রী (Jagatdhaatri)। বর্তমানে ঘরে বাইরে দুই দিকই যে নারীরা সামলাতে পারে সেটা বারবার প্রমাণ করে দিয়েছে জগদ্ধাত্রী। যদিও বর্তমানে সে হুইল চেয়ারে বসে আছে। কিন্তু জগদ্ধাত্রীর মেয়ে দুর্গা ও কিছু কম যায় না। একেবারে মায়ের যোগ্য মেয়ে। অবিকল মায়ের মতো দেখতে হওয়ায় মা মেয়ে দুই ভূমিকাই এখন পালন করছে শত্রুদের দমন করার জন্য। কিন্তু কতদিন এই লড়াই চালাবে দুর্গা সেটাই দেখার অপেক্ষা।
ধারাবাহিকের শেষ পর্বগুলিতে দেখানো হয়েছে, দুর্গা অফিসে আছে কিনা সেটা জানার জন্য সরাসরি অফিসেই যায় চন্দ্রনাথ, দুর্গার খোঁজখবর নিতে। কিন্তু রিসেপশন থেকে জানানো হয় দুর্গা কেবিনে নেই আর এখনো পর্যন্ত তারা দুর্গাকে অফিসে দেখা যায়নি। তখনই যন্ত্রনা চন্দ্রনাথ এর সন্দেহ হয়। রিসেপশন থেকেই দুর্গাকে ফোন করেন তিনি। উল্টে দুর্গা রিসেপশনের ফোনে ফোন করে পিছন ঘুরে তাকাতে বলে। চন্দ্রনাথ দেখে তার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে স্বয়ং দুর্গা। অফিসে গিয়ে দুর্গার মুখোমুখি হয় চন্দ্রনাথ। তখন দুর্গা চন্দ্রনাথকে সাবধান করে দেয় সে এখন কোম্পানির মালিক তাই মালিকের সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলতে হবে। না হলে অফিস থেকে ছাঁটাই করে দেবে। চন্দ্রনাথকে নিজের লিমিট বুঝিয়ে দেয় দুর্গা।

দুর্গার হাতে ফোন দেখে চন্দ্রনাথ জিজ্ঞাসা করে তার কাছে এই ফোনটা কি করে এলো। তখন দুর্গা জানায় তার মা লোক পাঠিয়ে এই ফোন তার কাছে পৌঁছে দিয়েছে। সাথে এটাও জানিয়ে দেয় অফিসে কাজ করতে হলে দুর্গাকে ম্যাডাম বলে ডাকতে হবে। অন্যদিকে উৎসব অফিস টাইম এর থেকে অনেক বেশি লেট করে অফিসে আসে। তখনই দুর্গা বাধা দেয় উৎসবকে। আর সবার সামনে দাঁড়িয়ে উৎসবকে অপমান করে, আর জানিয়ে দেয় এবার থেকে অফিসে দেরি করে আসলে উৎসবের স্যালারি কাটা যাবে। তারপর দুর্গার থেকে ফাইলে সই করিয়ে নেয় উৎসব। কিন্তু মনে মনে উৎসব তো এখনো উৎসব বদলাইনি। সে সারাদিন দুর্গার সব কথা শুনে চলবে কিন্তু দিনের শেষে সে উৎসব মুখার্জি তাই শয়তানি তো তার কমবে না।
এদিকে মেহেন্দি এবং বৈদেহি যায় দিব্যা সেনের সঙ্গে দেখা করতে। সেখানে গিয়ে মেহেন্দি বলে জগদ্ধাত্রী সুস্থ হয়ে গিয়েছে। নিজের পায়ে উঠে দাঁড়াচ্ছে, আগের মত চলাফেরা করছে। এমনকি সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছে জগদ্ধাত্রী। শুধুমাত্র একটা জায়গাতেই খামতি রয়ে গিয়েছে। জগদ্ধাত্রী খুব ভালো সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ জানতো। কাঁকনকে সে নিজেই সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ শিখিয়েছিল। সেখানে কাঁকনের সাথে কথা বলতে গিয়ে জগদ্ধাত্রী সাইন ল্যাঙ্গুয়েজই বলতে পারেনি। আর সেখানেই খটকা তার। কিন্তু যেভাবেই হোক জগদ্ধাত্রীকে কোর্টে যাওয়ার আগেই রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। না হলে মেহেন্দি, দিব্যা, বৈদেহি, উৎসব সবাই ফেঁসে যাবে।
আরও পড়ুনঃ পারুলকে হারাতে তার নাচ চুরি করল শিরিন! নোংরামির শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেল সে! কিভাবে প্রতিযোগিতায় জিতবে পারুল?
কিন্তু জগদ্ধাত্রী যে এখনো পুরোপুরি সুস্থ নয় সে কথা কেউই জানে না। দুর্গা জগদ্ধাত্রী সেজে আর কতদিন এই খেলাটা খেলবে সেই নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। যে কোন দিন তারা ধরা পড়ে যেতে পারে। কৌশিকী বুঝতে পারছে এই খেলাটা বেশি দিন আর চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। এরপর জগদ্ধাত্রীকে নিজেই উঠে দাঁড়াতে হবে, কথা বলতে হবে।। জগদ্ধাত্রী এখন শুধুমাত্র দু’চারটা শব্দ ছাড়া আর কিছু বলতে পারছে না। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে কোর্টে কিছুই প্রমাণ হবে না। দিব্যা সেন প্রমাণ করে দেবে পুরোটাই চিকিৎসার গাফিলতি। আর দোষীরা শাস্তি পাবে না। তখন এই কৌশিকী স্বয়ম্ভু এবং দুর্গাকে একটা ভালো বুদ্ধি দেয়। যদি ওই একই নার্সিংহোমে জগদ্ধাত্রীর সামনে কুড়ি বছর আগের ঘটনা ফুটিয়ে তোলা হয়। তাহলে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যেতে পারে। যদি ওই একই কেবিনের সামনে একটি বাচ্চার কে নিয়ে দুর্গার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা আবার ফুটিয়ে তোলা হয় তাহলে কেমন হয়? দেখা যাক কি হয় আগামী পর্বে।
