জি বাংলার (Zee Bangla) অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিকগুলির মধ্যে একটি হলো জগদ্ধাত্রী (Jagaddhatri)। দীর্ঘ তিন বছরের কাছাকাছি ধারাবাহিকটি চলছে টেলিভিশনের পর্দায় (Bengali Television)। ধারাবাহিকটি শুরুর দিন থেকে আজ পর্যন্ত একইভাবে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। টিআরপি তালিকায় একসময় টানা কয়েক সপ্তাহ প্রথম স্থান দখল করে নিয়েছিল তবে বর্তমানে প্রথম স্থান দখল করতে না পারলেও সব সময় এক থেকে তিনের মধ্যে টিআরপি তালিকায় থাকে জগদ্ধাত্রীর নাম। ধারাবাহিকের জগদ্ধাত্রী চরিত্রটা দর্শক এতটাই ভালোবাসেন যে কোনদিনও ধারাবাহিকের একটি পর্ব মিস করেন না।
ধারাবাহিকের শেষ পর্বগুলিতে দেখানো হয়েছে জগদ্ধাত্রী সাজেই দুর্গা সমস্ত সত্যি উদঘাটন করতে বেরিয়েছে, দিব্যা সেনের উকিল সব সময় নজর রাখছে দুর্গার উপরে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কারো কাছে এই সত্যিটা প্রকাশ পায়নি যে জগদ্ধাত্রীর বেশে আসলে দুর্গা ডিপার্টমেন্টে এসেছে। তাই দিব্যা সেন গুন্ডাদের পাঠিয়েছিল জগদ্ধাত্রীকে মারার জন্য তাই দুর্গা তাদেরকে সাবধান করে দেয়।
অন্যদিকে দুর্গা স্বয়ম্বুকে বলে উৎসবের সাথে দেখা করতে যায় জেলে। উৎসবকে বিশ্বাস করাতে হবে ফিরে এসেছে জগদ্ধাত্রী। সেই জন্য নতুন প্ল্যান করে দুর্গা। দুর্গা জেলে গিয়ে উৎসবকে পুরনো দিনের অনেক কথা বলে। কিভাবে জগদ্ধাত্রীর সাথে উৎসবের আলাপ হয়েছিল, কিভাবে জগদ্ধাত্রীকে প্রপোজ করেছিল উৎসব, কিভাবে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছিল সবকিছুই জানায় উৎসবকে। আর দুর্গার মুখে এই সমস্ত কথা শুনে তো উৎসবও বিশ্বাস করে তার সামনে যে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেই আসল জগদ্ধাত্রী। দুর্গা জানে মেহেন্দি সবসময় নজর রাখছে তার উপরে। তার মনে এখনো খটকা রয়েছে। আর সেটা বুঝতে পেরেই দুর্গা উৎসবকে জানিয়ে দেয় কোন লাভ হবে না কারণ মেহেন্দি কোন কিছু প্রমাণ করতে পারবে না।
আর সত্যিই দুর্গা চলে যাওয়ার পর সেখানে আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে মেহেন্দি। মেহেন্দি আড়াল থেকে সমস্ত কথা শুনছিল, নজর রাখছিল। জগদ্ধাত্রী সাজে অন্য কেউ আছে কিনা সেটাই সে পরীক্ষা করছে বারবার। উৎসবকে তো বোকা বানিয়ে দিছে দুর্গা, কিন্তু মেহেন্দির মনে এখনো খটকা রয়েছে। তাই দুর্গা বাড়ি ফেরার সাথে সাথেই তাকে সন্ধ্যারতি করার জন্য চেপে ধরে মেহেন্দি, প্রীতি সকলে। জগদ্ধাত্রী যখন সন্ধ্যারতি করত তখন সুন্দর গান গাইতো সেটাই গাইতে বলে আবারো। কিন্তু দুর্গা হয়তো সেই গান জানে না তাই মনে হয় একটু ঘাবড়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ পারুলের জন্য গ্রেফতার রায়ান! স্বামীকে বাঁচাতে প্রমাণ নিয়ে হাজির পারুল! ফাঁ’স আজকের পর্ব!
বাড়ির বাকিদের মতন কাঁকনও জানে জগদ্ধাত্রী আসলেই উঠে দাঁড়িয়েছে। তাই সে নিজের মতো করে কথা বলতে শুরু করে। কিন্তু দুর্গা তো আসলে কাঁকনের ভাষা বুঝতেই পারবে না। তাই জন্য তার প্রথমে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। এদিকে জগদ্ধাত্রী তো নিজেই সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের স্কুল খুলেছিল, কাঁকনকে নিজে সেই ভাষা শিখিয়েছিল আর সে নিজেই ওই ভাড়া বুঝতে পারছে না দেখে মেহেন্দির সন্দেহ আরো গাঢ় হয়। প্রীতি এবং মেহেন্দি মিলে বারবার দুর্গাকে নিজেদের প্রশ্নের জালে জড়িয়ে ফেলে। কিন্তু কাঁকন ঠিক ধরে ফেলে তার সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে সে জগদ্ধাত্রী নয়, আসলে দুর্গা রয়েছে। কাঁকনের সামনে ধরা পড়ে যায় দুর্গা। কিন্তু দুর্গা কাঁকনকে সাবধান করে দেয় যাতে এই সত্যিটা কেউ না জানতে পারে। দুর্গাই যে জগদ্ধাত্রী সেই সত্যিটা যেন আড়াল থাকে।
