কথায় আছে, ‘শত্রু শত্রু আমার বন্ধু’ খানিক এই ধরনেরই এখন পরিস্থিতি হয়েছে হারহাইনেসের জীবনে। জি বাংলার ফুলকি ধারাবাহিকের গত পর্বে দেখা গেছে, ফুলকিরা পৌঁছে গেছে রাজমহলের পুলিশ স্টেশনে। সেখানে গিয়ে ২৪ বছর আগেকার ধামাচাপা পড়ে যাওয়া বড় রাজার মৃত্যুর খোঁজ নিতে গেছে তাঁরা।
থানায় গিয়ে রোহিতরা তেমন কিছু জানতে না পারলেও যে লরির ধাক্কায় রাজা বাবুর মৃত্যু হয়েছিল সেই লরির নাম্বারটা পায়। এরপর এই নাম্বার ধরেই তাঁরা সেই লরিটাকে খুঁজবে যদি কোনো তথ্য পায়। তবে, ফুলকির সঙ্গে স্বাগতা দিদিও ভাবতে থাকে রাজমহলের এমন গণ্যমান্য ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যু এমন সাধারণভাবে চাপা পরে গেলো কীভাবে?

এরপর, রোহিতরা থানা থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফেরার সময় মাঝ রাস্তায় ফুলকি একটা পাঞ্জাবী ধাবা দেখতে পায়। আর সেই সময় গাড়ি থামিয়ে তাঁরা নামে কিছু খাবে বলে। এরপর, ল্যসি থেকে পরোটা, ডিমের কষা সবকিছুই অর্ডার দেয় ফুলকি। এরপর, খাবার এলে খেতে থাকার সময়তেও ফুলকিরা ভাবতে থাকে সেই ২৪ বছর আগেকার ঘটনার কিভাবে সূত্র বের করবে? সেই গাড়িটাকেই বা কীকরে খুঁজে পাবে?
এরপর ফুলকি রোহিতকে বলে বড়মা অর্থাৎ বড় রাণীমার সেই আকুতির কথা। এমন, সময় একটা লরিও এসে পরে ওই ধাবায়। লরিচালক ওই ধাবায় চা খেয়ে টাকা দিয়ে যাওয়ার সময় ভাবার মালিকের সঙ্গে টাকা নিয়ে কিছু তর্ক-বিতর্ক হওয়ার ঘটনা লক্ষ করে রোহিতরা।
এমন সময় ফুলকি অতিরিক্ত মসলাদার খাবার পেয়ে ঝাল লাগলে রোহিতের ল্যসি নিয়ে নিজের তৃষ্ণা মেটায়। এরপর, ফুলকির হঠাৎ চোখ যায় সেই লরির নাম্বার প্লেটের দিকে। ফুল কি দেখে তার স্বাগতা দিদির দেওয়া নাম্বার এবং এই লরির নাম্বার একই। তাই, দেরী না করে সেই লরির পিছু নিতে থাকে তারা কিন্তু ততক্ষণে গাড়ি বেরিয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ ফুলকির জীবনে জোড়া বিপদ! শয়তান রাণীর তোয়াক্কা না করে বড় রাজার খুনের তদন্তে রোহিত-ফুলকি! ফাঁ’স আজকের পর্ব
এরপর রোহিতরা ধাবার মালিককে এগিয়ে ওই লরির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। লরির মালিকের নাম সীতারাম চৌবে। এরপর, ফুলকি স্বাগতাকে ফোন করে এই লরির বিষয়ে জানায়। ওইদিকে, স্বাগতাও তাকে বলে এই সীতারাম চৌবের ব্যাপারে খবর নিচ্ছে।
অন্যদিকে আবার দেখা যায় রুদ্র তার খোঁচর মারফত ফোন জোগাড় করে ইন্দ্রকে দেয় যাতে সে ছোট রানী মা কে ফোন করে এই থানায় আসতে বলে। রুদ্রর কথা মত ইন্দ্র তার মাকে ফোন করে এবং সমস্ত বিষয়টা খুলে বলে। কিন্তু, এদিকে হারহাইনেস তা মানতে নারাজ। ছোট রানী মার মতে রুদ্র এটা তাদের কোন ফাঁসানোর পাতা ফাঁদ ধরতে পারে। এরই মধ্যে, ছোট রানী মা সেক্রেটারি এসে তাকে জানায় ২৪ বছর আগেকার কেস খুলে নাড়াঘাটা করছে নতুন এসপি।
এই শুনে বেজায় রেগে যায় ছোট রানী মা তিনি মনে করেন এই ঘটনার মধ্য দিয়ে যদি সীতারামের নাম উঠে আসে তাহলে কেলেঙ্কারি কান্ড হয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই আবার ফুলকিরা পৌঁছে গেছে রাজমহলের থানায় এবং সেখানে ডেকে পাঠানো হয়েছে সীতারাম চৌবেকে। লরির এই মালিক এসেই অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হয় এবং মনে মনে ভাবে ২৪ বছর আগেকার ঘটনা আবার আলোচনায় উঠে আসছে এমন কোন কথা ছোট রাণীমা তাকে কেন জানায়নি? এরপর সামান্য জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।
এই ধারাবাহিকের আগামী পর্ব দেখা যাবে ফুলকি-রোহিতরা বাড়ি ফিরে এসে ভাবছে, এই দুর্ঘটনাটা আদৌ দুর্ঘটনা ছিল তো নাকি কোনো পরিকল্পনা? অন্যদিকে আবার, হারহাইনেস ছদ্দবেশে এসেছে থানায় রুদ্রের সঙ্গে দেখা করতে।
