ছোট রাজার পেট থেকে কথা বার করার জন্য ছদ্মবেশ ধারণ করল ফুলকি-রোহিত। জি বাংলার ফুলকি ধারাবাহিক গত পর্বে দেখা গেছে, ‘বড় রানী মার বর আর মেয়ে যদি বেঁচে থাকে তাহলে তাদেরকে আমি কোথায় খুঁজে পাবো?’ নৃসিংহ দেবের কাছে প্রার্থনা করে এই আর্জি জানায় ফুলকি। এমন সময়, নৃসিংহদেব তাকে সম্মতি জানিয়ে আশীর্বাদী ফুল ফেলে ফুলকির মাথার ওপরে।
এরপর, ফুলকি বারংবার বড়ো রাণীমাকে বড়ো রাজা ও তার মেয়ের মারা যাওয়ার ব্যাপারে বললেও বড়রানী মা কখনোই তা বিশ্বাস করতে চায় না। এমন সময়, বড় রানী মা তাকে বলতে থাকে, সে নাকি প্রায়ই কোনো কান্নার আওয়াজ পায়। এরপর, ফুলকি বড় রানী মাকে কথা দেয় তার মেয়ে এবং স্বামী যদি বেঁচে থাকে তাহলে যেভাবেই হোক তাদের ফিরিয়ে আনবে। এরপর, ফুলকি মনে মনে ভাবতে থাকে বড় রাজার খোঁজ করার জন্য দলে টানতে হবে রোহিতকে আর ছোট রাজার পেট থেকে খবর বার করতে হবে কি করে বড় রাজা মারা গিয়েছিলেন।
এরপর, পরের দিন সকাল হতেই রোহিত ঘুম থেকে উঠে ফুলকিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে দেয়। এমন সময় ফুলকি ব্যাগ ভর্তি জামাকাপড় নিয়ে হাজির হয়। ফুলকি জানায় বড়মার স্বামী অর্থাৎ বড় রাজা কি করে মারা গিয়েছিল তা সে জেনেই ছাড়বে। কিন্তু এদিকে রোহিতের ফুলকির অতি আগ্রহ খুব একটা ভালোভাবে নিচ্ছে না তবুও ফুলকি কিসে কোনো কাজেই একা ছাড়ছে না।

এমন সময় ফুলকি জানায়, হারহাইনেস চৌধুরী মহলে নেই এই সুযোগেই ছোট রাজার পেট থেকে বড় রাজার মৃত্যুর রহস্যের কথা জানতে হবে। আর, এই জন্যই তাঁরা রাজ মহলে যাবে ছদ্মবেশে। ফুলকিরা রাজস্থানের হীরক গড়ের রাজা এবং রাণী সেজে রাজমহলে গিয়ে বড় রাজার মৃত্যু রহস্যের কথা জানবে।
এরপর, ফুলকির পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা ছদ্মবেশে পৌঁছে যায় রাজমহলে আর গিয়ে ছদ্দবেশী রোহিত এবং ছোট রাজা মাদক সেবন করতে করতে বড় রাজার মৃত্যুর কথা জানতে চাইলেও তিনি বলেন লরি এক্সিডেন্টে তাঁর দাদা মারা যায়। মারা যাওয়ার সময় নাকি তাঁর দাদার মুখ একেবারেই বোঝা যায়নি। এই শুনে, ফুলকি মনে মনে ভাবে, বড় রাজা মারা যাওয়ার সময় কেউই তাহলে তাঁর মুখ ঠিক কোরে দেখেনি, তবে কি বড় রানীমার সন্দেহে কি ঠিক হতে চলেছে?
এই তথ্যর উপর ভিত্তি করে ফুলকি চলে যায় তার স্বাগতা দিদির কাছে অর্থাৎ রাজমহলের নতুন এসপি’র কাছে। কিন্তু, রোহিতরা গিয়ে দেখে সে তখন আলাদা কেস নিয়ে রয়েছে চরম ব্যস্ত। খোঁজ নিয়ে জানা যায় রাজমহলের ছোটকুমার নাকি সুরা পান করে গাড়ি চালাচ্ছিল এবং তাতেই একটা অ্যাক্সিডেন্ট ঘটে। ফুলকিরা আরো জানতে পারে সেই অ্যাক্সিডেন্ট ঘটেছে নবাবগঞ্জের এক সাধারন ব্যক্তির সঙ্গে, যিনি হলেন রোহিতদের ডাক্তার কাকা।
আরও পড়ুনঃ রাজাবাবুর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে ছদ্মবেশে রোহিত-ফুলকি! সে কি তার উদ্দেশ্যে সফল হতে? কী হতে চলেছে ফুলকি ধারাবাহিকে?
অন্যদিকে রানিমা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তাঁর ছেলের জন্য। রাজমহলের ছোট কুমার রয়েছে এখন পুলিশি হেফাজতে। এমন সময় হার হাই নেতার সেক্রেটারি কে বলে রাজমহলের নিজস্ব ক্ষমতা খাটিয়ে এক রাতের মধ্যে তার ছেলে যেন জেলের বাইরে আসে। এদিকে, এই খবর শোনা মাত্রই ফুলকি-রোহিত চলে যায় ধানুর কাছে এবং বলে এই কেসটাকে সামলাতে। এমনকি, রোহিত বলে সে যেন ডাক্তার কাকার পাশে দাঁড়ায়, তাকেই সমর্থন করে। ধানু ফুলকিদের থেকে সবকিছু শুনে বলে ছোট রানী মার বিরুদ্ধে গিয়ে কেস লড়লে তা আদিত্য ব্যাপারটা একেবারেই ভালোভাবে নেবে না।
এই সিরিয়ালের আগামী পর্বে দেখা যাবে, ছোট কুমারের কিসের জন্য লড়তে পারবে না ধান সিঁড়ি, এই কথাটা জানিয়ে দিল হারহাইনেসকে। এরপর, ফুলকি রোহিতকে বলে, ‘হঠাৎ করে মনে হচ্ছে বড় একটা লড়াই শুরু হতে চলেছে। ধানু দিদির জন্য এটা সহজ হবে না’।
