বড় রানী পেল নৃসিংহদেবের ইশারা, বেঁচে রয়েছে নাকি তাঁর স্বামী-সন্তান। জি বাংলার ফুলকি ধারাবাহিকের গত পর্বে দেখা গেছে, বৌভাত থেকে ফেরা মাত্রই রায়চৌধুরী বাড়ির বড় সদস্যরা এসেছে ফুলকির কাছে তাঁকে সাবধান করতে যাতে আবার চৌধুরী মহলে গিয়ে এমন কোন কাজ না ঘটায় যাতে ছোট রানী মা অসন্তুষ্ট হয় কিংবা ধানুর অসুবিধা হয়।
তবে, জেঠিমণি কিনা কাকিমনি কারোর কথা মানতে নারাজ ফুলকি। এরপর, ঘরে থেকে জেঠুরা চলে গেলে ফুলকি রোহিতকে হঠাৎ করেই তাঁর শিল্পা দিদির কথা জিজ্ঞাসা করে। শিল্পার কোন খবরই জানে না এমনকি বৌভাতের অনুষ্ঠানে সে কেন আসেনি, তা জানে না। এদিকে, শিল্পার কোয়ার্টারে যাওয়া মাত্রই ফুলকি দেখে তাঁর মা ব্যাগ গোছাচ্ছে, জোর করে তাঁকে নাকি কলকাতায় নিয়ে যাবে।

কিন্তু, শিল্পার মা তাকে কেন কলকাতায় নিয়ে যাবে তা জানে না। এমনকি, শিল্পার মা’ই নাকি তাকে নিমন্ত্রণ যেতে বাধা দিয়েছে। এদিকে, তো শিল্পা সুপার স্টোরের চাকরি ছাড়তে নারাজ। তবে, শিল্পার মা অজুহাত দিচ্ছে তাঁকে ছেড়ে নাকি সে থাকতে পারছে না। এইসব শুনে ফুলকি শিল্পার মাকে বলে, ‘ঠিক আছি কোন সমস্যা নেই। তুমি চাইলেই এখানে থাকতে পারো’।
এরপর, শিল্পার বাড়ি থেকে আসার সময় ফুলকিরা গাড়ি ঘুরিয়ে সোজা চলে যায় চৌধুরী মহলে বড় রাণীমার সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু, এই মুহূর্তে কোন কারণে রাজমহলে যাচ্ছে তা প্রশ্ন করে রোহিত। রোহিতদের প্রশ্নের উত্তরে ফুলকি শিল্পার মায়ের কথা বলে আর এটাও জানায় নিশ্চয়ই শিল্পার মায়ের সঙ্গে রাজমহলের কোনো অতীতের যোগাযোগ রয়েছে, যা শুনলে আজও তিনি ভয়ে চমকে ওঠেন। আর সেটা জানতেই ফুলকিরা যাচ্ছে রাজমহলে।
আরও পড়ুনঃ মায়ের কাছে অনেক বড় প্রতিজ্ঞা করলো ফুলকি! রাজবাড়ীর অন্দরমহলে শুরু হল ফুলকির নতুন অভিযান!
তবে রোহিত ফুলকিকে বোঝায় বড়রানী মা নিজেই মানসিকভাবে সুস্থ নয়, তাই ভারতী কাকিমা অর্থাৎ শিল্পার মায়ের কথা বললে তিনি হয়তো কিছু নাও বলতে পারেন। এরপর ফুলকির মন ঘোরাতে রোহিত গাড়ি থামিয়ে তাকে আইসক্রিম কিনে দেয়। এরপর চৌধুরী মহলে গিয়ে দেখে ধানু আদিত্যর সঙ্গে ফোনে কথা বলছে।
এদিকে রাজমহলে ফুল খিদের দেখে অবাক হয়ে যায় ধানসিঁড়ি। ফুল্কি মহলে যাওয়া মাত্রই বড় রাণীমার কথা জিজ্ঞাসা করে। এমন সময়, ধানু জানায় বাড়িতে ছোট রানী মা নেই বলে বড়রানী মা গেছে নৃসিংহ দেবের মন্দিরে। এই খবর শোনা মাত্রই ফুলকি দৌড় দেয় বড় রানী মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য।
এদিকে, শিল্পারা থেকে গেলেও তাঁর মায়ের মন থেকে ভয় কিছুতেই যাচ্ছে না। ঘরে একা থাকাকালীন ভারতী কাকিমা অর্থাৎ শিল্পার মা পুরনো স্মৃতিচারণা করে ভাবে, এককালে তার বাবার সঙ্গে এই রাজমহলের কী ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল। শিল্পা যখন ছোট তার বাবা তখন কাজ করতো রাজমহলে এবং ছোট রানী মার কথা অনুযায়ী শিল্পীর বাবাকে বলা হয়েছিল বড় রাজার সন্তানকে মেরে ফেলতে। কিন্তু, শিল্পার বাবা তা করতে পারেনি বলে তাঁকে মেরে ফেলে হারহাইনেসের লোক। এই কথা মনে করেই ভয় বুক কেঁপে ওঠে ভারতীর। আর, এই ঘটনার পরেই ভারতী শিল্পাকে নিয়ে কলকাতায় পালিয়ে যায়।।
এরপর দেখা যায় নৃসিংহ দেবের মন্দিরে একাই পুজো করছে বড় রাণীমা আর ভগবানের কাছে স্বামী সন্তানের জন্য প্রার্থনা করছে। বড় রানী মা মনে করেন তার স্বামী এবং সন্তান মারা যায়নি। এই কথা বলা মাত্রই নৃসিংহ দেবের হাত থেকে একটা ফুল পড়ে যায়। বড় রানীমা মনে করেন এটাই নাকি নৃসিংহ দেবের ইশারা যে তাঁর কথাই সত্যি।
এমন সময় বড় রানিমার কাছে পৌঁছে যায় ফুলকি আর সেও ভগবানের কাছে প্রার্থনা করে বড় রাণীমা যেন তার সন্তান এবং স্বামীকে খুঁজে পায়। এরপর ভগবানের কাছে মাথা নত করে প্রার্থনা করার সময় আবারও একটা ফুল নৃসিংহ দেবের হাত থেকে পড়ে যায় ফুলকির মাথায়। এমন সময় ফুলকিও মনে করে তাঁর সন্দেহই ঠিক। এই সিরিয়ালের আগামী পর্বে দেখা যাবে, ফুলকি রোহিতকে বলছে, মহারাজ হীরকগড় ও মহারানী হীরকগড়ের পোশাক পরে ছোটো রাজাবাবুকে উপহারস্বরূপ ফলের রস দেবে। আর এই ঘটনার মাধ্যমেই জানতে পারবে বড়ো রাজা বাবুর মৃত্যুর আসল ঘটনা।
