স্বর্ণময়ী জুয়েলার্স অর্থাৎ রায়ানের দাদুর দোকানে চলছে নববর্ষের পুজো। আর এর মধ্যেই সবার চোখের আড়ালে পালিয়ে গেল রায়ান। জি বাংলার কোডিং টা ধারাবাহিকের গত পর্বে দেখা গেছে, পয়লা বৈশাখের পুজোতে গান গাইছে পারুল। এছাড়াও অতিথিদের আপ্যায়ন করা থেকে শুরু করে সবকিছুই নজর রয়েছে তাঁর।
এর মধ্যে সবাই নজর এড়িয়ে শিরিনের ফ্ল্যাটে চলে যায় রায়ান। এরপর দোকানে চলে আসে পারুলের বন্ধুরা। একটু পরেই তূর্য আসে এবং তার সঙ্গে সঙ্গেই বাবা-দাদুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া সমস্ত পুরনো স্মৃতির কথা মনে পড়তে থাকে। তূর্য মনে করে কিরকম ভাবে এক সোনার দোকানের মালিক তার দাদু এবং বাবাকে করে দিয়েছে।
এরপর অন্যদিকে দেখা যায় রায়ান বাড়ির সমস্ত ঘটনাই বলতে থাকে তার বন্ধুদের। এমনকি রায়ান পারুলের গলা চেপে ধরেছিল এবং সেই জন্য দাদু তাকে পিঠে চাবুক মেরেছে এই কথাও বন্ধুদের বলে। এইসব শুনে শিরিনরা বেশ অবাক হয়ে যায়।
অন্যদিকে আবার, স্বর্ণময়ী দোকানে দেখা যায় আশুতোষ বাবু এই বছরের নববর্ষ উপলক্ষে নতুন ক্যালেন্ডার উদ্বোধন করছে। আর সেই ক্যালেন্ডার-এর হাত ধরেই তূর্য তাঁর দাদুর খুনীকে জানতে পারে। কারণ ক্যালেন্ডারে দেওয়া ফটোতে রায়ানের দাদুর সঙ্গে তূর্যর দাদুর ফটো দেখতে পাই এবং সেখান থেকেই অনুমান করে যে আশুতোষ বাবুই তার দাদুর আসল খুনি।
এরপর দেখা যায় হঠাৎই তুর্যতার পকেট থেকে পিস্তল বার করে একে একে বসু বাড়ির সবাইকে মেরে ফেলছে। কিন্তু পরবর্তীকালে জানতে পারা যায় তা কেবলই ছিল তূর্যর কল্পনা। এরপর রাগের মাথায় হঠাৎ ক্যালেন্ডার উদ্বোধনের পরে চলে যায় তূর্য।
অন্যদিকে দেখা যায় সেই দিনের ফ্ল্যাটে আমরা সবাই মিলে পরিকল্পনা করতে কিভাবে এই শহর থেকে তাড়িয়ে দেওয়া যায়। ইতিমধ্যে তাদের পরিকল্পনা করা হয়ে গেছে। দোকানের কাজ সেরে সবাই বাড়ি ফিরলেও ঘরে ক্যালেন্ডার টাঙানোর সময় সে জানতে চায় দাদুর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটির আসল পরিচয়।
আর এই সময় আশুতো সব নিজের পুরনো দিনের কথা মনে করতে করতে গল্পের ছলে ভয়ঙ্কর এক সত্যি কথা বলে ফেলে পারুলকে। আশুতোষ বাবু জানায় তার পাশে যে দাঁড়িয়ে তার নাম ছিল তপন। আর এই তপনকেই তিনি খুব বিশ্বাস করতেন। সোনার দোকানে সমস্ত দায়িত্ব তার উপরেই ছিল। কিন্তু একদিন হঠাৎ ঘটনাচক্রে আশুতোষ বাবু জানতে পারে তপন সেই দোকান থেকে টাকা সরিয়ে নিচ্ছে। এই ঘটনা জানতে পারায় তৎক্ষণাৎ তপন কি দোকান থেকে বের করে দেয় রামের দাদু। আর এই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য একদিন দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তপন বাবু তাকে খুন করতে চায়। কিন্তু, সৌভাগ্যবশত তার গায়ে গুলিটা না লেগে মনোজিতের বাবার গায়ে গুলি লাগে। আর সেই সঙ্গে সঙ্গেই তপনবাবু এবং মনজিতের বাবা মারা যায়। এই পুরো কাহিনী শুনে পারুলের আশুতোষ বাবুর প্রতি সম্মান আরো দ্বিগুণ হয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ ফুলকির জয় নিশ্চিত! সংশোধনাগারে বসেই ষড়’যন্ত্রের জাল বুনছে রুদ্র! ফুলকি পারবে তো নিজেকে রক্ষা করতে?
অন্যদিকে তূর্য খুঁজে পায় তার দাদুর হত্যাকারীকে এবং মারার জন্য বসু বাড়ির প্রথম নিশানা করে রায়ানকে। এই ধারাবাহিকের আগামী পর্বে দেখা যাবে, ইউনিভার্সিটিতে রায়ানরা ডি এন স্যারের কাছে গিয়ে পারুলের নামে নালিশ জানায়। রায়নরা বলে, পারুলের মারা থাপ্পরে অজ্ঞান হয়ে কোমায় চলে গিয়েছে শিরিন। এমন সময় পারুল নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য স্যারের কাছ থেকে দুদিন সময় চেয়ে নেয়।