Entertainment

“আমাকে অনেকে ছেড়েছে, আমি অনেককে ছেড়েছি”- নিজের জীবন যন্ত্রনা নিয়ে অকপটে শিলাজিৎ

শিলাজিৎ (Silajit Majumdar), জনপ্রিয় গায়ক। এক সময় কয়েকটা ছবি করলেও তারপর আর অভিনয় জগতে তাকে দেখা যায়নি। আবার নতুন করে অভিনয় শুরু করেছেন শিলাজৎ। ‘যা পাখি উড়তে দিলাম তোকে’, তার জীবনটাও এমনই পাখিদের মতো উড়ে বেরিয়ে দিন কাটান। এবার সাক্ষাৎকারে নিজের কাজ, জীবন নিয়ে কি বললেন গায়ক অভিনেতা শিলাজিৎ।

অভিনেতা শিলাজিৎ (Silajit Majumdar) কামব্যাক করেছেন। নীহারিকা, অযোগ্য পরপর কাজ করে চলেছেন। এই প্রসঙ্গে শিলাজিৎ বলেন, “আমি যেটা দেখছি অভিনেতা হিসেবে পরিচালকরা, আমাকে চাইছেন। ঋতুপর্ণা প্রসেনজিৎ এর থাকার পরেও একটা রোল হিসেবে আমাকে নিয়ে ভাবা। অভিনয় টুকটাক করে করি। প্রযোজক পরিচালকদের সাথে আমাদের এখানে অনেক ইকুয়েশন কাজ করে। এমন‌ অনেকেই কথা বলেন আমার সাথে। গত দেড় বছরে আমি যা অভিনয় করেছি, আরো চারটে-পাঁচটা কাজ করতে পারতাম। অর্থের জন্য ছাড়তে হচ্ছে, আমরা যে বাজারে কাজ করি, সেখানে বুকের উপর দাম লেখা থাকে না। আমাদের কোন ট্যাগ নেই। আমার মধ্যে একটা অহংকার কাজ করে। না আমি বিক্রি হব বস্তার মত, না বিক্রি হব মার্সেডিজের মতো। আমি শিলাজিৎ হয়েছি তার দামটা তো আমাকে পেতে হবে। ডিরেক্টর, স্ক্রিপ রাইটাররা দুঃখ করে ‘তোমাকে এই ছবিটার জন্য ভেবেছিলাম পেলাম না’।”

শিলাজিতের (Silajit Majumdar) কাছে এসে যদি নতুন কোন মুখ কাজ করতে চায়, যারা স্ট্রাগল করছে, তাদের কি বলবেন। শিলাজিৎ বলেন, “একটি ছেলে যদি এসআরএফটিআইএ পড়াশোনা করে। এরপর কাজ যদি করতে আসে সেই কাজটার মধ্যে কোন বিজনেস মডেল থাকে না ।এসআরএফটিআই-এর প্রথম ব্যাচ চন্দ্রিলের ছবিতে কাজ করি। একটু রেলা দেখিয়েছি, পারিশ্রমিক নিয়ে কোন কথা বলিনি। মিউজিক ডিরেক্টরদের অর্থ দিচ্ছে আর আমাদের অর্থ দেওয়ার সময় কান্নাকাটি করছে। শুনে খারাপ লাগে যে কি করতে পারলাম আমরা।”

গায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, অভিনেতা হিসেবে কেমন রিয়্যাকশন পেয়েছেন। সেরা রিয়্যাকশনের কথা বলতে গিয়ে শিলাজিৎ (Silajit Majumdar) বলেন, “প্রথম জিতের সাথে একটা সিনেমা করেছিলাম সঙ্গী। জিৎ তখন দুটো সিনেমা করে ফেলেছে তার মধ্যে একটা সুপার-ডুপার হিট। তখন একবার দুবার হরদা সিনেমা হলে দর্শকদের রিয়্যাকশন দেখতে নিয়ে গেছিল। এবার অযোগ্য-তে বুম্বাদা ফোন করে বলেছে তখন তো যেতেই হবে। আমার ছেলে ছবিটা দেখেনি। যখন আমি থাকবো না তখন গিয়ে দশ-পনেরো বছর পর দেখবে, তখন ভাববে যে বাবা কি ছিল। বউকে নিজে থেকে জিজ্ঞেস করতে হল বলল ঠিক আছে। মা খুব উচ্ছসিত ছিল। আমার ফেলিওর মনে থাকে, সাকসেস বেশি মনে থাকে না।”

বাস্তব জীবনে শিলাজিৎ (Silajit Majumdar) কেমন, এই কথা তিনি নিজেই বলেছেন, “শিলাজিৎ খুব একটা দর্শন থেকে সরেনি। আমি যে দর্শনটা বিশ্বাস করি, সেভাবে থাকার চেষ্টা করি। কেউ আমাকে বিব্রত না করলে, আমিও করি না। আমার জেগে থাকা স্বপ্ন গড়গড়িয়া গ্রামের বাচ্চাদের গাইডেন্সের মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সেটার জন্য যে টাকা খরচ হয় তার ৯০% টাকা আমার ইনকাম করা টাকা। ১০% টাকা ভালোবেসে মানুষ আমাকে দেন। বাকিটা‌ আমার বন্ধুরা আমাকে সাপোর্ট করে। কিন্তু কোনটা জোর করে নয়। কোনদিন যদি কেউ আমার পাশে না থাকে, আমি যা পারবো, তাই করব।”

আরও পড়ুন: ঠাস! শালিনীকে সজোরে থাপ্পর মারল ফুলকি! শাকচুন্নির খেলা শেষ

নিজের যন্ত্রণা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে শিলাজিৎ (Silajit Majumdar) বলেন, “প্রতিটা পরিবারের বেসিক কিছু সমস্যা থাকে। একসঙ্গে থাকতে থাকতে সমস্যা হয়। যন্ত্রণা পেতে হবে। শিল্পীরা যন্ত্রণা জোর করে আনেনি। যন্ত্রনা জীবনের একটা প্যাকেজ। সবাইকে কেউ না কেউ ছেড়ে গেছে। আমাকে অনেকে ছেড়ে চলে গেছে, আমি অনেককে ছেড়ে চলেছি।”

Aarvi

আরভি সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। বিগত ৩ বছর যাবৎ সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। বিনোদন ক্ষেত্রে তার অবাধ গতি। আমার লেখা আরও পড়ুন