অপরাধ করতে করতে এবং শাস্তি না পেতে পেতে মানুষ আরো অনেক বেশি হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। তার মনে হয় সে যা খুশি তাই করতে পারে আর তাতে তার কোন আফসোসও হয় না। ঠিক সেটাই ঘটেছে জি বাংলার (Zee Bangla) চ্যানেলের ইচ্ছে পুতুল (Ichhe Putul) ধারাবাহিকের খলনায়িকা ময়ূরীর সাথে। যতদূর জানা যাচ্ছে আর কিছু দিনের মধ্যেই সম্প্রচারিত হবে ধারাবাহিকের অন্তিম পর্ব। তার আগেই একেবারে জমে ক্ষীর ইচ্ছে পুতুল। দর্শকদের ধারণা আগামী সপ্তাহের টিআরপিতে বেশ ভালো ফলাফল করবে এই মেগা।
বর্তমান গল্প অনুযায়ী, পরিকল্পনা সফল হয়েছে দুই পরিবারের। একে অপরের থেকে আলাদা হওয়ার বদলে ফের এক হয়েছে ধারাবাহিকের নায়ক নায়িকা অর্থাৎ নীল আর মেঘ। বিয়ের দিন বারবার ব্যাঘাত ঘটলেও শেষমেষ সব কিছুকে নওশাদ করে চার হাত মিলেছে তাদের। ময়ূরী এর মাঝেই চেষ্টা করেছিল মেঘকে গুলি করে মেরে ফেলার। কিন্তু তার সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি উল্টে সে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে।
এখন মেঘ নতুন বউ হয়ে নীলের পরিবারে ফের পা রেখেছে। যতবার নতুন করে নতুন কিছু শুরু করতে যায় সে ততবার পুরনো খারাপ স্মৃতি গুলো ভেসে ওঠে তার চোখের সামনে। দুধে আলতায় পা রাখার সময় ময়ূরী যেভাবে তাকে ফেলে দিয়েছিল সেটা এর পাশাপাশি ভাত কাপড়ের থালা হাতে দেওয়ার সময় কিভাবে সেই থালা ময়ূরী ফেলে দিয়েছিল সেটাও। সবটাই যেন দুদিন আগে ঘটেছে এমনটাই মনে হতে থাকে তার। কিন্তু মীনাক্ষী চেষ্টা করে মেঘকে আবার একটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার।
যতই খারাপ হোক না কেন ময়ূরী মেঘের দিদি। ময়ূরী মেঘ কে চরম শত্রু ভেবে তাকে ঘৃণা করলেও মেঘ সেটা কখনোই করতে পারে না। মেঘ ময়ূরীকে খুবই ভালোবাসে। তাই সে নিজে সুখে শান্তিতে সংসার করবে আর তার দিদি জেলে পড়ে থাকবে সেটা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। কিন্তু ময়ূরীর এতোটুকুনিও বদল ঘটেনি। প্রতিনিয়ত ভেবে চলেছে কিভাবে এখান থেকে বেরিয়ে মেঘকে শেষ করে দেওয়া যায়।
ধারাবাহিকের আগামী পর্বে দেখা যাবে, জেনে গিয়ে আর পাঁচটা ক্রিমিনালের সাথে থাকতে থাকতে আরও বেশি অপরাধমনস্ক হয়ে উঠেছে ময়ূরী। আগে যে কথাগুলো বলতে তার মুখে বাধতো যেগুলো সে অস্বীকার করত সেগুলোকেও স্পষ্ট ভাবে বলে ফেলতে পারে সে। মধুমিতা আর অনিন্দ্য তার সাথে দেখা করতে গেলে ময়ূরী তার বাবা মার সামনে স্পষ্ট ভাবে জানায়, “আজ না হয় কাল আমি জেল থেকে বেরোবোই। আর সেদিন যে গুলিটা মিস হয়ে গিয়েছিল, ওটা মিস হবে না।” কথাটা শুনে বুক কেঁপে ওঠে অনিন্দ্য মধুমিতার।
