একটি ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তা যতটা তার নায়ক নায়িকার উপর নির্ভর করে ততটাই নির্ভর করে সেই ধারাবাহিককে অভিনীত পার্শ্ব চরিত্রদের উপরেও। আর সেই দিক থেকে বেশ সমৃদ্ধ জি বাংলার (Zee Bangla) নিম ফুলের মধু (Neem Fuler Modhu) ধারাবাহিক। সম্পূর্ণ সাদামাটা ঘরোয়া গল্প সম্প্রসারিত হলেও এই ধারাবাহিকের অভিনেতা অভিনেত্রীরা এতটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ যে, গোটা ধারাবাহিকটি মাতিয়ে রেখেছে তারা।
বর্তমান গল্প অনুযায়ী, পর্ণা আর সৃজন দুজনে মিলে ইশার সমস্ত কুবুদ্ধি সবার সামনে ফাঁস করে দেয়। গলায় কালি পটকা ফাটানোর ভয় দেখিয়ে সমস্ত কিছু উগরে নেয় তার পেট থেকে। আর এই সমস্তটা রেকর্ড করে নেয় তারা। এরপর পুলিশ এলে এই জঘন্য অপরাধিকে তাদের হাতে তুলে দেয় নায়ক নায়িকা। সবটা একেবারে জলের মতন পরিষ্কার হয়ে যায় দত্ত বাড়ির কাছে।
এখানেই শেষ নয়। বহুদিন ধরে এই শয়তান ইশাকে সাহায্য করে চলেছে দত্ত বাড়ির ঘর শত্রু বিভীষণ অয়ন আর মৌমিতা। তাদের দুজনের সাহায্য ছাড়া হয়তো ইশা এত দূর অবধি পৌঁছাতেই পারত না। তাই এবার শাস্তি তাদেরও প্রাপ্য। নেহাত পরিবারের সদস্য তাই তাদের পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়নি পর্ণা। কিন্তু তাই বলে তাদের অপরাধ ইশার তুলনায় কিছু কম নয়। রান্না ঘরে গিয়ে খাবারে জোলাপ মেশানোর ভিডিওটা সবাইকে দেখিয়ে দেয় পর্ণা। এছাড়াও আজ পর্যন্ত তারা দুজন মিলে ইশাকে যেভাবে সাহায্য করেছে সেই সবটাই সবার সামনে খুলে বলে তারা। শুনে মাথা গরম হয়ে যায় অখিলেশের কারণ সে যতই পুরনো দিনের মানুষ হোক না কেন অন্যায়কে কখনো মেনে নিতে শেখেনি।
নিজের ছেলে বৌমার এই কীর্তি শুনে লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে যায় তার। বাড়ির ছেলে হয়ে অরণ যা করেছে তা পরম শত্রুও করে না। তাই কথাগুলো শুনে প্রথমে অয়নকে পেটাতে থাকে জেঠু। এরপর সে বলে, এদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া উচিত ছিল কিন্তু সেটা যখন হয়নি তখন একটা না একটা শাস্তি তো ওদের পেতেই হবে। এবার থেকে অয়ন মৌমিতার জন্য দত্ত বাড়ির দরজা বন্ধ। এমনটাই বিধান দেয় জেঠু অর্থাৎ অখিলেশ। কথা শুনে কান্নায় লুটিয়ে পড়ে অয়ন মৌমিতা কিন্তু জেঠুর কথার কোন নড়চড় হয় না।
প্রথম থেকেই দর্শকরা এই জেঠুকে খুব একটা পছন্দ করতেন না। কারণ পুরনো দিনের ধ্যান ধারণা সম্পন্ন কুসংস্কার আচ্ছন্ন অত্যন্ত বদ মেজাজি একটি মানুষ তিনি। কিন্তু তার সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার যে সৎ সাহসী মানসিকতা সেটাকে কিছুতেই এড়িয়ে যেতে পারেনি ভক্তরা। নিজের ছেলে হলেও তার কাছে কোন রেহাই নেই। যেটা অন্যায় সেটা সবার জন্যই অন্যায়। এই জন্যই অখিলেশ চরিত্রটি বর্তমানে দর্শকমহলের মধ্যমণি হয়ে উঠেছে।
