মুখ ফুটে বলার আগেই মনের কথা বুঝে নেবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করবে, এমন মানুষ বর্তমানে আর নেই বললেই চলে। তবে এই মুহূর্তে মেঘ নীলের জীবনে ঠিক তেমনি একজন মানুষ হয়ে উঠেছেন জি বাংলার (Zee Bangla) চ্যানেলের ইচ্ছে পুতুল (Ichhe Putul) ধারাবাহিকে নায়কের ঠাম্মি। তিনি বুঝতে পেরেছেন মুখ ফুটে কেউই মনের কথা জানাবে না, তাই এবার যা করার তাকেই করতে হবে।
বর্তমান গল্প অনুযায়ী, ডিভোর্সের পর একে অপরের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করেনি নায়ক নীল এবং নায়িকা মেঘ। বরং তাদের মধ্যে মেলামেশা বন্ডিং আরো শক্ত পোক্ত হয়েছে। তারা এখনো দুজন দুজনাকে খুবই ভালোবাসে কিন্তু সে কথা মুখে বলতে সংকোচ বোধ করে। তাই তারা কেউই নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে পারছে না। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? এইবার একটা না একটা ব্যবস্থা না করলেই নয়। সেই পদক্ষেপ টাই নিয়ে ফেললেন নীলের ঠাম্মি।
ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দেখা যায়, মেঘের বাবা মাকে বাড়িতে ডেকে অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখে প্রত্যেকে। কারণ ঠাম্মি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিলো না, ঠিক কিভাবে কথা বার্তা শুরু করা যায়। এরপর নিজের মন থেকে সমস্ত সংকোচ ধুয়ে মুছে কথাটা বলেই ফেলল অনিন্দ্যকে। শোনা মাত্রই নিজের অসম্মতি জানিয়ে দিল মেঘের বাবা। কিন্তু মা হয়ে মেয়ের বিষয়টা ভালোই বুঝতে পড়ছিল মধুমিতা। আর এই বিষয়টা খেয়াল করে ঠাম্মি।
ঠাম্মি অনিন্দ্যকে বলে, “মধুমিতার কথাও তুমি বলবে মেঘের হয়েও তুমি বলবে এত পুরুষতান্ত্রিক হলে কিভাবে চলবে?” তারপর খুব সহজেই মধুমিতাকে এই বিষয়টার মধ্যে জড়িয়ে ফেলে ঠাম্মি। কিন্তু মধুমিতা বুঝে উঠতে পারেনা এসব কি করে সম্ভব হবে। তখন ঠাম্মি বলে, “ওরা দুজন শুভদৃষ্টির আগে পর্যন্ত জানবে না যে ওদের কার সাথে বিয়ে হচ্ছে। তার আগে যদি ওদের সবটা জানানো হয় তাহলে ওরা না করে দেবে। আর তখন কিছুই করার থাকবে না। আর আমি বাজি ধরতে পারি, ওরা যখন একে অপরকে সামনাসামনি দেখবে তখন ওদের থেকে বেশি খুশি আর কেউ হবে না।” কিন্তু এমন বাজি ধরতে রাজি হয় না অনিন্দ্য।
অনিন্দ্য যখন বলে, সে বিয়ে নিয়ে এমন ছেলেখেলা বা নায়ক করতে পারবে না তখন ঠাম্মি বলে, “এর আগে বিয়ে নিয়ে নাটক তো তুমি কম করোনি অনিন্দ্য। যখন তোমায় নীল দাদাভাই এসে বলেছিল সে ময়ূরী নয়, মেঘকে বিয়ে করতে চায়, কই তখন তো তুমি বাধা দাওনি? তখন তো একবারও বলোনি, তুমি এমন ছেলে খেলা করতে পারবে না। তখন তুমি রাজি হয়ে গিয়েছিলে কারণ কোথাও গিয়ে তোমার মনে হয়েছিল যে মেঘ নীলর সাথে ভালো থাকবে।” কথাগুলো শুনে আর কিছুই বলার থাকেনা অনিন্দ্যর। সে সবটা মধুমিতার ওপর ছেড়ে দিয়ে নিজে চুপ করে যায়।
