বাংলার দিদি নাম্বার ওয়ান হলেন তিনি। নিঃসন্দেহে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee ) পশ্চিমবঙ্গের প্রথম আলোড়িত দিদি হলেও বাংলার দ্বিতীয় দিদি অবশ্যই রচনা ব্যানার্জি (Rachana Banerjee) । সিনেমার পর্দা থেকে টেলিভিশনের পর্দা সর্বত্রই কামাল করছেন তিনি। বলাই বাহুল্য, জি বাংলায় সম্প্রচারিত দিদি নাম্বার ওয়ান তাকে এনে দিয়েছে বিশেষ খ্যাতি, গগনচুম্বী সাফল্য।
বাংলা সিনেমার পর্দা কাঁপানো এই অভিনেত্রীকে আর সেই অর্থে সিনেমায় দেখতে পাওয়া না গেলেও এই মুহূর্তে কিন্তু বাংলা টেলিভিশন দুনিয়ার অন্যতম পরিচিত এবং জনপ্রিয় মুখ হলেন তিনি। পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে এই অভিনেত্রী যখন অন্য দিদিদের দুঃখ কষ্টের কথা শোনেন তখন কিন্তু চোখ ফেটে জল আসে দর্শকের। কিন্তু কী জানেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের জীবনেও চিন্তা কিন্তু বিস্তর। নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অবশ্য মাঝেমধ্যে অকপট হন রচনা।
অভিনেত্রীর বিবাহিত জীবনটা একটু জটিল। আর তাই তাকে বর্ণনা করাটাও জটিল। অভিনেত্রীর বিবাহিত সম্পর্ককে ‘হ্যাপিলি ম্যারেড’ তকমা দেওয়া যায় না অবশ্যই। কারণ তিনি আর তার স্বামী প্রবাল বসু আলাদা থাকেন। কিন্তু তারা ডিভোর্স দেননি একে অপরকে। নিজেদের ছেলে রৌনকের কথা ভেবে তারা ডিভোর্স নেননি ছেলের কথা ভেবে।
তাই তারা সেপারেশন বেছে নিয়েছেন। ২০১৬ সালে আলাদা হন তারা। স্বামীর সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ এখন অভিনেত্রীর। ছেলেকে নিয়ে মাঝেমধ্যেই রেস্তোরাঁতে খেতে যান, ঘুরতে যান তারা। এমনকী ছেলের পরীক্ষার সময় পড়ানোর জন্যও আসেন প্রবাল। তবে যে ছেলের জন্য এতকিছু ভাবলেন বাবা-মা সেই ছেলে কী বাবা-মায়ের বাধ্য সন্তান।
ছেলেকে নিয়ে বেশ দুঃশ্চিন্তায় রচনা ব্যানার্জি। ছেলে ভীষণ রকম বদমাশ, দুরন্ত, ডানপিটে। একইসঙ্গে আবার মায়ের কথা একেবারেই শোনে না। একবার দিদি নাম্বার ওয়ান-এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে ছেলে সম্পর্কে বলতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেছিলেন, ‘আমাদের সময়টা আর নেই। আমি এক পা ফেলতে গেলে আগে ২৫ বার বাবা-মায়ের অনুমতি নিতাম।সেরকমভাবেই বড় হয়েছি। কিন্তু, এখন তো ছেলে মুখের উপর উত্তর দেয়। ও কিন্তু খারাপ নয়। তবে পরিবেশ ওকে এমন তৈরি করে দিয়েছে।
অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘ওদের দুনিয়া নিয়ে ওরা এতটাই ব্যস্ত যে ভাবতেই চায় না মায়ের কথায় গুরুত্ব রয়েছে। আমার সবটাই শোনে। তবে সেটাই করে যেটা ও ভাবছে। এই বয়সটায় ছেলেকে কন্ট্রোল করা ভীষণ বড় চ্যালেঞ্জ। ওদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতেই হয়। নিজেদের বদলাতে হয়। যেটা আমার জন্য খুব কষ্টের। সেই সময়ের মধ্যে দিয়েই এখন যাচ্ছি। তবে এই সময়টার আনন্দও আছে। একটা ভালো বন্ধু পাওয়া যায়।’
