Bangla Serial

সন্দেহ করা, মাফ চাওয়া আর ঠাম্মিকে জড়িয়ে কাঁদা, একজন নায়কের তিনটিই কাজ! নেটপাড়ার উপহাসের পাত্র সৌরনীল

এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে নিঃসন্দেহে বলাই যায় বাংলা ধারাবাহিকগুলি হল বাঙালির বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। আর সেই মাধ্যমেই দর্শকদের অন্যতম প্রিয় এবং জনপ্রিয় চ্যানেল হল জি বাংলা। এই চ্যানেলের বেশ কিছু ধারাবাহিকেই এই মুহূর্তে এখন টানটান উত্তেজনায় ভরা পর্ব চলছে। আর তার মধ্যে অন্যতম হল‌ ইচ্ছে পুতুল (Icche Putul)। এই ধারাবাহিকটি দেখতে একটা সময় পর্যন্ত দর্শকরা পছন্দ না করলেও এখন কিন্তু জমজমাট এই ধারাবাহিক।

আসলে যদি কোন ধারাবাহিকের গল্প যদি ভালো হয় তাহলে সেই ধারাবাহিক দর্শক দেখবেনই। আর তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল ইচ্ছে পুতুল। জোরালো উত্তেজনা, আকর্ষণের জন্য এখন দর্শক মুগ্ধ হয়ে এই ধারাবাহিকটি দেখছেন। আজ কিন্তু গল্পের জোরে এই ধারাবাহিকটি অন্য ধারাবাহিকদের হারিয়ে দিয়েছে।

আসলে টিআরপিতে কামাল করতে না পারলেও দর্শকমনে দারুণ প্রভাব বিস্তার করেছে এই ধারাবাহিকটি। যদিও এরই মধ্যে আবার ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার গুঞ্জনও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।দিদি ময়ূরীকে বাঁচানোর জন্যই জন্ম হয়েছিল মেঘের। ছোট থেকেই মেঘের ওপর রাগ, হিংসা ময়ূরীর। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে মেঘের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে সে। কিন্তু এবার সে মেঘের সামাজিক সম্মানহানি করার চেষ্টা করে।‌ জিষ্ণুর সঙ্গে মেঘের নাম জড়িয়ে মেঘকে নেশাখোর প্রমাণ করে। প্রতিটা খবরের কাগজে রসালো করে ছাপায় মেঘের কথা। আবার সেইসব রসালো খবর মেঘকে পড়িয়ে তাকে আর‌ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেয় সে।

তবে মেঘের মা বাবা নিজেদের মেয়েকে বিশ্বাস করলেও সৌরনীল রূপ-ময়ূরীর পাতা ফাঁদে পা দিয়ে মেঘকে ফের ভুল বোঝে। কারণ সে ভীষণ সন্দেহ প্রবণ। সবাইকে সন্দেহ করাই তার কাজ। কোন‌ও কিছুই পরিষ্কার মনে সে দেখতে পায়না। জটিল করে দেখাটাই তার স্বভাবজাত। লোককে অপমান করা, গায়ে হাত তোলাটাই তার ধর্ম। আর তাই জিষ্ণুকে মেঘের সঙ্গে দেখে নোংরা ভাবনায় মাথায় আসে তার। জিষ্ণুর গায়ে পর্যন্ত হাত তোলে সে সবার সামনে।

আর মেঘের প্রতি তার অবিশ্বাস দেখে মিডিয়া আরও বেশি করে রং চড়ায়। তারাও সাহস পেয়ে যায়। তারা মেঘ সম্পর্কে আর‌ও বাজে বাজে কথা লেখে। একেবারেই বুদ্ধিহীন মেরুদণ্ডহীন সৌরনীল। তার তীব্র সন্দেহবাতিক মনের জন্যই আরও বড় বিপদে পড়ে যায় মেঘ। আর তাই লা’ঞ্ছ’না, গ’ঞ্জ’না সহ্য করতে না পেরে মায়ের ব্যাগ থেকে ঘুমের ওষুধ খেয়ে, ব্লেড দিয়ে হাতের শিরা কেটে আ’ত্ম’ঘা’তী হওয়ার চেষ্টা করে মেঘ।

বাঁচার ইচ্ছে হারিয়েছে মেঘ। তার অবস্থা ভালো নয়। আর মেঘের এই অবস্থার জন্য নিজেকেই দায়ী করছে সৌরনীল। তাকে একেবারেই সহ্য করতে পারছেন না মেঘের বাবা। নীল ও তার পরিবারকে মেঘের আশপাশেও যেতে দিচ্ছেন না তিনি। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেখানে পড়ে রয়েছে নীল। নড়ছেই না। তার চরিত্রের মধ্যে চারিত্রিক দৃঢ়তার, বলিষ্ঠতার ভীষণ অভাব। উপহাস করে দর্শকরা তাই বলছেন, সন্দেহ করা, মাফ চাওয়া আর ঠাম্মিকে জড়িয়ে কাঁদা, একজন নায়কের তিনটিই কাজ।

Aarvi

আরভি সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। বিগত ৩ বছর যাবৎ সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। বিনোদন ক্ষেত্রে তার অবাধ গতি। আমার লেখা আরও পড়ুন