বাংলা টেলিভিশনে দুনিয়ায় এই মুহূর্তে অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক নিম ফুলের মধু (Neem Phooler Madhu) । প্রত্যেক সপ্তাহে টিআরপি তালিকায় বলা যায় ধামাল করছে এই ধারাবাহিকটি। বাঙালি দর্শকরা এখন মজে রয়েছেন এই ধারাবাহিকে। থাকবেন নাই বা কেন? গল্পের পাশাপাশি অভিনেতা অভিনেত্রীদের অভিনয়ও যে সমানতালে মনমুগ্ধকর। পল্লবী শর্মা, রুবেল দাস প্রত্যেকের অভিনয়ে মুগ্ধ করেছে দর্শকদের।
তবে এই ধারাবাহিকে এমন একটি চরিত্র রয়েছে যে চরিত্রটি দর্শকদের কাছে অত্যন্ত রকম ভাবে খারাপ। এই চরিত্রটিকে তারা একেবারেই ভালবাসেন না। বাঙালি দর্শক এই চরিত্রটিকে দেখলে রে রে করে তেড়ে আসেন। প্রশংসার থেকে বেশি দর্শকদের কাছে এই চরিত্রটি অভিশাপ পেয়েছে।

আসলে যারা ধারাবাহিকে কাজ করেন, তারা জানেন নায়িকা চরিত্রের থেকেও খলনায়িকা চরিত্রে অভিনয় করাটা আরও বেশি করে কঠিন, বিশেষ করে চ্যালেঞ্জিং। কারণ সম্পূর্ণ এক অন্য মানুষ থেকে আর একটা অন্য মানুষ হয়ে উঠতে হয়। একটা মানুষ যদি ব্যক্তি জীবনে খুব ভালো হন তাকে খুব খারাপ হয়ে উঠতে হয়। আর সেটাই হয়েছে অভিনেত্রী অরিজিত মুখোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে।
দর্শকদের কাছে তিনি পরিচিত কুটিল, দজ্জাল, জাঁদরেল, অসভ্য, অত্যাচারী মানসিকতার একটি মহিলা হিসেবে। কিন্তু বাস্তব জীবনে তিনি অত্যন্ত ভালো। নরম মন মানসিকতার একটি মেয়ে। আর তাই দর্শকরা যখন রিল আর রিয়েলকে গুলিয়ে ফেলে আসল মানুষটাকেই ভীষণ রকম ভাবে অপমান করেন, অপদস্থ করেন তখন কষ্ট হয় তাদেরও।
সম্প্রতি নিজের এমনই একটি অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছিলেন অরিজিতা। লন্ডনের থিয়েটার প্রশিক্ষক বলেন, ‘চাকরি ছেড়ে যখন এই পেশায় আসি তখন জানতাম ভালো-খারাপ দু’টোই শুনতে হবে। অমিতাভ বচ্চনকেও সবাই পছন্দ করেন না। আর তাই আমাকে নিয়ে করা মিম দেখলে আমার মজাই লাগে।’
আরও পড়ুনঃ ‘বুড়ো’, ‘মেরুদণ্ডহীন’, ‘বিচ্ছিরি’ নীল নয়! জিষ্ণুর সঙ্গে মিল হোক নীলের চাইছেন দর্শকরা! আশা পূরণ কী হবে?
এই ধরনের মজাগুলোকে মেনে নিলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ ভালো লাগে না অভিনেত্রীর। অরিজিতা জানিয়েছেন, আমরা তো চরিত্রের খাতিরে এই কাজগুলো করি। আদতে মানুষটা তো এমন নয়, সেটা মানুষের বোঝা উচিত।একবার তো একজন বলেছিলেন, আমার যেন কঠিন রোগ হয় আর আমি যেন মরে যাই। অভিনয় করে এই প্রাপ্তি গুলো খারাপ লাগে।
