বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় এখন যে ধারাবাহিকটি রীতিমতো দর্শকদের মনে উত্তেজনার সঞ্চার করেছে সেই ধারাবাহিকটির নাম কার কাছে কই মনের কথা। দর্শকরা এখন এই ধারাবাহিকের মোহে আচ্ছন্ন। আসলে গল্প ভালো গল্প হলে তা দর্শক আকর্ষণ করবেই।
কার কাছে কই মনের কথা ধারাবাহিকটিতে রয়েছেন একাধিক সব নামজাদা অভিনেতা-অভিনেত্রী। যথারীতি তাদের অভিনয়ের প্রশংসা না করলে চলে না। তাদের অভিনয়গুণে এবং বাস্তবধর্মী গল্পের জেরে আজ এই ধারাবাহিকের পাহাড় প্রমাণ সাফল্য। টিআরপিতে দারুন রকম ফল করছে এই ধারাবাহিকটি।

এই ধারাবাহিকের বিষয়বস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল সমাজের অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়কে। বধূ নি’র্যা’ত’ন। আর তা দেখার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন ২০২৩ সালে দাঁড়িয়ে এই রকমের বধু নি’র্যা’ত’ন কোথায় হয়? কিন্তু বলতে গেলে শহরের দিকে একটু কম হলেও আজও মফস্বল, গ্রামাঞ্চলে ব্যাপকহারে বধূ নির্যাতন হয়ে থাকে।
খবরের কাগজে, বা খবর খুললে আমরা দেখতে পাই কখনও পণের জন্য কখনও শুধুমাত্র স্বামীর সন্দেহের কারণে, অপছন্দের কারণে, যেখানে নারীদের খু’ন করা হয়, বা গঞ্জনার কারণে তারা আ’ত্ম’হ’ত্যা করতে বাধ্য হন। আর সেই রকমটাই দেখানো হচ্ছে এই ধারাবাহিকে।

স্বামীর হাতে অত্যাচারিত হয়ে শিমুল কিন্তু প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছে। একই সঙ্গে বেছে নিয়েছে জীবনে খুশি থাকার উপায়। শিমুলের স্বামী পরাগ এবং তার দেওর পলাশের সেই সুখ সহ্য হচ্ছে না। বিশেষ করে পলাশ তার দাদাকে প্রতিনিয়ত উস্কোচ্ছে। পুজোর দিনে মাকে বৌদিকে আনন্দ করতে দেখে শিমুলকে শায়েস্তা করার জন্য পলাশ পরাগকে বুদ্ধি দেয় দশমীর দিন শিমুলের সঙ্গে বড় কোনও ঘটনা ঘটানোর জন্য। এমনকি তাতে যদি তার প্রাণও চলে যায় তাহলেও তাদের কিছু এসে যাবে না সেটাও সে বলে তার দাদাকে।

এবার পরিকল্পনামাফিক দশমীর দিন শিমুলের সিদ্ধিতে বিষ মেশায় পরাগ-পলাশ। সাম্প্রতিক প্রোমোতে দেখা গেছে বিপাশা শিমুলকে বলছে দশমীর দিন সিদ্ধির আয়োজন করা হয়েছে। আর সেই সিদ্ধিতেই বি’ষ মিশিয়েছে শিমুলের বর ও দেওর। পরাগ কিছুটা আতঙ্কে থাকলেও পলাশ তাকে বলে শিমুলের কিছু হলে তার কি যায় আসে! এরপর সিদ্ধি খেয়ে শিমুল পড়ে গেলে সবাই যখন তার কাছে ছুটে আসে তখন ছুটে এসে পরাগ দেখে শিমুল বেঁচে আছে কিনা। আর তখনই তার হাত ধরে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করে কি দেখছো বেঁচে আছে কিনা? কেন এমনটা করলে? এবার কি তবে ধরা পড়ে যাবে পরাগ আর পলাশ?
