জি বাংলার নারীকেন্দ্রিক ধারাবাহিকগুলির মধ্যে দর্শকদের পছন্দের একটি ধারাবাহিক (Bengali Serial) হল পরিণীতা (Parineeta)। ধারাবাহিকটি যত দিন যাচ্ছে দর্শকের কাছে আরো জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। পারুল রায়ানের খুনসুঁটি মাখা কেমিস্ট্রি দর্শকদের বেশ পছন্দ হচ্ছে। টিআরপি তালিকাতেও প্রতি সপ্তাহে বেশ ভালো ফলাফল করে পরিণীতা। বেশ কয়েক সপ্তাহ টিআরপি তালিকায় প্রথম স্থান দখল করেছিল ধারাবাহিকটি।
ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, শ্রীতমার জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে সেখানে রায়ানের বন্ধুদের সাথে অন্য ছেলেদের ঝগড়া ঝামেলা শুরু হয়ে যায়। রায়ান আর বাকি ছেলেরাও বন্ধুদের সাথে হাতাহাতিতে লেগে পড়ে। তাদের সাথে শুরু হয় তুমুল মারপিট। সেই মারপিট একেবারে বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তাদের সাথে হাত মিলিয়ে শ্রীতমারা অন্যদলের ছেলেদের গায়ে হাত তোলে।

যার কারণে ওই রেস্টুরেন্ট এর ম্যানেজার বাধ্য হয়ে পুলিশকে ফোন করে। কারণ রায়ান এবং তার বন্ধুদের কারণে ওই রেস্টুরেন্টের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জিনিসপত্র ভাঙচুর হয়েছে, এলোমেলো হয়ে গেছে সবকিছু।। তার কিছুক্ষণ পরেই সেখানে এসে উপস্থিত হয় পুলিশ। পুলিশ আসছে শুনে তো রায়ানরা প্রথমে পালাতে চায়, কিন্তু পালাতে পারে না। পুলিশ তাদের আটক করে। ধরা পড়ে রায়ানরা নিজেদের দোষ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। উল্টো দিকের দলে যারা ছিল তাদের উপরে দোষ চাপিয়ে দিতে থাকে। কিন্তু সব সত্যিটা নিজের চোখে দেখেছে পারুল তাই তাদের থামানোর চেষ্টা করে।
তারপর হঠাৎ উল্টো দিকের দলে ছেলেদের মধ্যে একটি ছেলে বলে ওঠে পারুল প্রথম থেকে সবটা দেখেছে সে বারবার থামানোর চেষ্টা করছিল রায়ানদের, কিন্তু তারা থামেনি। এরপর পারুলের কাছ থেকে সত্যি জানতে চায় পুলিশ। পারুল তো প্রথমে বুঝতেই পারে না কি করবে। বন্ধুদের বাঁচাবে নাকি যা সত্যি সেটা স্বীকার করবে। রায়ান বারবার পারুলকে বলতে থাকে মিথ্যে কথা বলার জন্য। কিন্তু পারুল কি করবে এই ভাবতে ভাবতেই পুলিশের কাছে সব সত্যি বলে দেয়। কিন্তু বন্ধুদের হয়ে পুলিশের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয় পারুল। তারা নেশার ঘোরে একটা ভুল করে ফেলেছে তাই তাদের যেন ক্ষমা করে দেয় পুলিশ। কিন্তু পুলিশ কোন কথা শোনে না। পারুল এবং আর কয়েকজনকে বাদে সবাইকেই থানায় গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
পারুলও তাদের পিছন পিছন থানায় যায়। থানায় গিয়ে বারবার পুলিশ অফিসারকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু অফিসার কোন কথা শোনে না। এদিকে পারুলের এই সত্যি কথা বলার জন্য রায়ান এবং বাকি সকলেই পারুলের উপর দারুণ ক্ষেপে ওঠে, পারুলকে আবার ভুল বোঝে সকলে। পুলিশ তো প্রত্যেকের বাড়ির লোককে ফোন করে খবর দেওয়ার কথা বলে। ওদিকে দাদু রায়ান পারুল বাড়ি ফিরছে না দেখে চিন্তা করে। পিসিমণি বারবার ফোন করতে থাকে পারুলকে। কিন্তু পারুল ফোন তোলে না। তাই বাধ্য হয়ে দাদুই রায়ানের ফোনে ফোন করে।
আরও পড়ুনঃ জন্মপরিচয় জেনেও দূরে সরে ফুলকি! বড় রাণীর সামনে অভিমানের পাহাড় – আদালতে প্রকাশ্যে এলো ফুলকির আসল পরিচয়
ঠিক তখনই সেখানে সাহায্যের জন্য এসে উপস্থিত হয় শিরিন এবং তার মা। রায়ানের বন্ধু শিরিনকে মেসেজ করে জানিয়ে দিয়েছিল সবটা। আর এই মোক্ষম সুযোগটা হাতছাড়া করে না শিরিন। তাই নিজের মাকে নিয়ে চলে এসেছে টাকা দিয়ে পুলিশকে কিনতে। তারপর পুলিশ রায়ান সহ বাকি সকলকে ছেড়ে দেয়। সকলে আবার শিরিনের গোলাম হয়ে যায়। আর পারুলকে ভুল বোঝে। পরের দিন পারুল কলেজে গেলে সকলেই পারুলকে বহিরাগত বলে খোঁটা দিতে থাকে। কলেজে বহিরাগতদের ঠাঁই নেই বলে স্লোগান দেয়। শিরিন পারুলকে চ্যালেঞ্জ করে এই কলেজে তাকে টিকতে দেবে না। পারুল সেই চ্যালেঞ্জ একসেপ্ট করে এবং জানিয়ে দেয় সেও এই কলেজে টিকে দেখাবে।
