চৌধুরী মহলে ছদ্মবেশে প্রবেশ করলো রুদ্ররূপ সান্যাল। জি বাংলা ফুলকি ধারাবাহিকী গত পর্বে দেখা গেছে, ধানসিড়ি আদিত্যর মধ্যে মান অভিমান মেটানোর জন্য ফাঁদ পেতেছে ফুলকি। আর সেই ফাঁদেই পা দিয়েছে আদিত্য। ধানুকে ছাদে রেখে ইচ্ছা করে ফুলকি আদিত্যর কাছে গিয়ে তার খোঁজ করছে এমন সময় বাড়ির লোক কেউ ভানুকে খুঁজে না পেয়ে আদিত্য সরাসরি চলে যায় ছাদে এবং দেখতে পায় পাঁচিলে উঠে দাঁড়িয়ে রয়েছে ধানু।
এরপর আদিত্য ধানুকে সেই পাঁচিল থেকে ন নামানো মাত্রই এসে হাজির হয়ে বাড়ির সবাই আর বলতে থাকে তাদের মধ্যে যা ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে, যা দূরত্ব রয়েছে তা যেন কথা বলে মিটিয়ে নেয়। এমন সময় ফুলকি বলে, সে আদিত্যকে মেরেছে তো তাই সেও (আদিত্য) যেন তাকে মেরে শোধ তুলে নেয়।

এরপর অন্যদিকে দেখা যায়, কোনরকম এই দিন কাটছে রুদ্ররূপ সান্যালের। যেখানে আতিথিয়তার লেশমাত্র নেই সেখানেই হারহাইনেস রেখেছে তাঁকে, তাও নিজের স্বার্থে। রুদ্র বারবার চেঁচিয়ে রানীমার লোকেদের বলতে থাকে কমপক্ষে ঠিক করে একটু থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করলে ক্ষতি কী? এমন সময় দেখা যায় রানীমা নিজের অফিস রুমে বসে বারংবার রুদ্রর বলা সেই কথাগুলো নিয়ে ভাবছে।
আশাভরি চৌধুরী মনে মনে বলছে, সে এখন এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে যে সবকিছু ঘন অন্ধকারের মধ্যে একমাত্র আশার আলো হিসেবে দেখতে পাচ্ছে রুদ্রকে। এক সময় রুদ্র ছিল তার পরম শত্রু, কিন্তু আজ উত্তরাধিকারের নাম জানার স্বার্থে তার সঙ্গে হাত মেলাতে হয়েছে। এরপরেই রানী মা ফোন করে রুদ্রকে।
এদিকে রুদ্রও হারহাইনেসের ফোন পেয়ে খুশি হয়ে যায়। রানীমা জানায়, সে তাকে বাবাজি সাজিয়ে চৌধুরী মহলে নিয়ে যাবে। রাণী মার চোখের সামনে যাতে রুদ্রকে সবসময় দেখতে পায় তাই জন্য এই ব্যবস্থা করেছে। এই শোনা মাত্রই রুদ্র নানা ধরনের সুবিধা পাওয়ার আবদার করতে থাকে হারহাইনেসের থেকে। এদিকে, রানী মাও খানিক বাধ্য হয়ে তার সব কথা মেনে নিতে থাকে।
এরপর বেশি দেরি না করেই চৌধুরী মহলে পদার্পণ করে ছদ্মবেশী রুদ্ররূপ সান্যাল। বাবাজি বাড়িতে আসা মাত্রই তাকে প্রায় স্বাঠাঙ্গে প্রণাম করেন হারহাইনেস। এমন সময় ছোট রানী মা মনে মনে ভাবে এই বাড়ির উত্তর অধিকারের নাম জানার জন্য তাকে রুদ্র রূপ সান্যাল-এর পা ছুঁয়ে নমস্কার পর্যন্ত করতে হলো। এরপর একে একে ছোট কুমার এবং ছোট রাজাও প্রণাম করেন বাবাজিকে।
অবশেষে বাড়িতে আসে আদিত্যরা সঙ্গে আসে ফুলকি-রোহিত। বাড়িতে বাবাজি এসেছে শুনে ছেলেমানুষ ফুলকি খুবই আগ্রহী হয়ে ওঠে এর সাথে সাথেই তার মনে কিঞ্চিৎ সন্দেহ হতে থাকে এই ভেবে, হঠাৎ করে কিভাবেই হল এই বাবাজির আগমন? এদিকে আবার দেখা যায় ছোট রানী মা প্রণামের ছলে রুদ্র থেকে জানতে চায় উত্তরাধিকারের নাম।
আরও পড়ুনঃ ফুলকির ফাঁদে পা দিল আদিত্য! আ’ত্মহত্যার পথ বেছে নিল ধনু! কি হতে চলেছে ধারাবাহিকের আজকের পর্বে?
এরপর, রুদ্র বলে ঘরে সঠিক সময়ে এলে সেই ঠিকই নাম জানিয়ে দেবে। শেষমেষ দেখা যায় আদিত্যরা ঘরে এলে সবাই একে একে সেই বাবাজীকে প্রণাম করে অবশেষে একটি ফুল নিয়ে ফুলকির দিকে ছোড়া মাত্রই হারহাইনেস বুঝে যায় এই বাড়ির আসল উত্তরাধিকারীর নাম।
এই ধারাবাহিকের আগামী পর্বে দেখা যাবে, চৌধুরী মহলে পোলাও মাংস খেয়ে আয়েস করছে রুদ্র। আর সেই সময় ছোটো রাণী মা বলছে, ফুলকি সত্যিই উত্তরাধিকারী কিনা তাঁর জন্য করাতে হবে DNA টেস্ট। অন্যদিকে, ফুলকি আবারও দেখা কীর্তি গেছে বড়ো রাণীর সঙ্গে।
