Bangla Serial

গান গাইতে গিয়ে চোখে জল শ্রেয়ার! এক ঘন্টা ধরে বুঝেছিলেন গানের অর্থ! সেই বিশেষ স্মৃতি ভাগ করে নিলেন শ্রীজাত!

গত ১২ই মার্চ ছিল গায়িকা শ্রেয়া ঘোষালের (Shreya Ghoshal) জন্মদিন। ভারতবর্ষের এই শিল্পী দেশের প্রথম সারির গায়িকাদের মধ্যে অন্যতম। নিজের দেশ তো বটেই, এমনকি জগৎজোড়া রয়েছে তাঁর নাম ডাক। গায়িকা শ্রেয়াকে তো সবাই চেনে কিন্তু তিনি ব্যক্তিগত জীবনে ঠিক কেমন মানুষ তা কী কেউ জানেন?

এই বিষয়ে গীতিকার এবং লেখক শ্রীজাত নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এক সংবাদ মাধ্যমে। শ্রীজাত বলেন, লাইমলাইটের ঝলকানি থেকে সাদামাটা শ্রেয়ার দুই অবতারকেই তাঁর ভীষণ চেনা। বাস্তবের মাটিতে পা রেখে চলা এই শিল্পী শ্রীজাতর বড়ই আপন। গীতিকারের কথায়, সামান্য নাম-জশ-খ্যাতি মানুষকে বদলে দিতে এক মুহূর্তও লাগে না। আর সেখানে শ্রেয়া রয়েছে তার সফলতার শিখরে তাই তাঁর মধ্যে এর কোনো কিছুর প্রভাবেই দেখতে পাওয়া যায় না।

শ্রেয়া বরাবরই সাদামাটা, ঘরোয়া একটি মানুষ। আকাশচুম্বী তাঁর সাফল্য হলেও সে যে নিজেকে এতটাই সাধারণ রেখেছে তা সত্যিই শিক্ষণীয়। শ্রীজাতর কথায়, সুরকার জয় সরকারের মাধ্যমে তাদের কাজ শুরু হয়। ‘মন কেমনের স্টেশন’-এর হাত ধরেই তাঁদের কাজের পথচলার শুরু। তবে, শ্রীজাতর লেখা ও শ্রেয়ার কন্ঠে প্রথম গান ‘ চল রাস্তায় সাজি ট্রামলাইন’। এতদিন শ্রেয়ার সঙ্গে কাজ করে তৈরি হয়েছে বহু স্মৃতি, বললেন শ্রীজাত।

শিল্পী থেকে মানুষ এবং মানুষ থেকে শিল্পী এই রূপান্তর করাটা কিন্তু খুব একটা সহজ কথা নয়, এই গুন রয়েছে শ্রেয়ার মধ্যে। শ্রেয়ার নাকি রয়েছে আবার এক গোপন প্রতিভা। কিন্তু, সেটা কী? এই প্রশ্নের উত্তরে শ্রীজাত বললেন, শ্রেয়া নাকি অনেক ব্যক্তিকে সহজেই নকল করতে পারে। স্মৃতিচারণা করে শ্রীজাত বলেন, একবার এক অনুষ্ঠানের জন্য শ্রেয়া এসেছিল শহরে। শ্রেয়া আসার কয়েক দিন আগেই যেহেতু তাঁর (শ্রীজাত) জন্মদিন ছিল বলে জয় এবং লোপামুদ্রা তাঁকে এবং দূর্বাকে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। সেই দিন শ্রেয়া এবং তাঁর বাবার আসার কথা ছিল। সেই মতো খুব মজাও হয়েছিল সেদিন। এমনকি, লোপা এবং জয় তাঁর (শ্রীজাত) জন্য একটি কেকের ব্যবস্থাও করেছিল।

আরও পড়ুনঃ আদৃতের বাৎসরিক কাজে শুভর বাড়িতে নতুন অতিথি! বন্ধুকে চমকে দিতে গিয়েই শুভর নজরে আদৃত! কী হতে চলেছে ‘গৃহপ্রবেশ’-এর আগামী দিনের পর্বে?

শ্রীজাতর কথায়, শিল্পী শ্রেয়াকে নিয়ে কথা বলতে শুরু করলে শেষ হবে না। এখনও কোনো গান গাইতে গেলে সেই গানকে নিয়ে আগে ভালো করে অধ্যাবসাই করবে, কোথাও না বুঝতে পারলে তা জিজ্ঞাসা করবে, তারপর গাইবে। প্রসঙ্গত মানবজমিন সিনেমাতে রামপ্রসাদের ‘মন রে কৃষি কাজ জানো না’ গানে অরিজিতের পাশাপাশি শ্রেয়াও কণ্ঠ দিয়েছিল। এই গানটি গাওয়ার সময়ে শ্রেয়া দীর্ঘ এক ঘণ্টা ধরে স্টুডিওতে আগে গানের অর্থ বুঝেছে এবং তারপর গেয়েছে। গান গাইবার সময় শ্রেয়ার চোখ দিয়ে রীতিমতো জলের ধারা বয়ে গেছে, বললেন শ্রীজাত। অবশেষে কিংবদন্তি শিল্পী শ্রেয়া ঘোষালকে শ্রীজাত জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানানোর সঙ্গে জানিয়েছেন অনেকটা ভালোবাসা।

Aarvi

আরভি সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। বিগত ৩ বছর যাবৎ সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। বিনোদন ক্ষেত্রে তার অবাধ গতি। আমার লেখা আরও পড়ুন