বিনোদন জগতের বড় অংশ হলো বাংলা ধারাবাহিক (Bengali Serial)। আর দর্শকদের কথা মাথায় রেখেই বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় (Bengali Television) শুরু হচ্ছে একের পর এক নতুন নতুন ধারাবাহিক। তবে নতুন ধারাবাহিক শুরু হওয়ার ফলে অনেক সময় পুরোনো ধারাবাহিকগুলির জনপ্রিয়তা কমে যায়। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমে জি বাংলার জগদ্ধাত্রী ধারাবাহিক। দীর্ঘ তিন বছর ধরে টেলিভিশনের পর্দায় রমরমিয়ে চলছে এই ধারাবাহিক। বর্তমানে ধারাবাহিকের গল্প বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক ধারাবাহিকের আগামী পর্বে কি হতে চলেছে।
ধারাবাহিকের শেষ পর্বগুলিতে দেখানো হয়েছে, লিলিপুট যখন গুন্ডা দিয়ে জগদ্ধাত্রী এবং দুর্গার উপরে হামলা চালায় ঠিক সেই সময় ডিপার্টমেন্টের লোকজন নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয় স্বয়ম্ভু এবং ওই গুন্ডাদের অ্যারেস্ট করে নেয়। অন্যদিকে জেলে দিব্যা সেনের সাথে দেখা করতে যায় দুর্গা। সেখানে দিব্যা সেনকে বলে তার কোম্পানিটা কিনে নিতে চায় সে। দুর্গা এখন কৌশিকী মুখার্জির কোম্পানির মালকিন দিব্যা সেনের যত টাকা লাগে সে দিতে রাজি। কিন্তু দুর্গা দিব্যা সেনের কোম্পানিটা কিনবে আর নয়তো তার কোম্পানিটা শেষ করে দেবে। কিন্তু দিবি যেন জানাই সেই জেলে সুরক্ষিত তাই জেলের মধ্যে থেকে সে বাইরে সব কিছু নিজের কন্ট্রোল রাখবে দুর্গাকে শেষ করে দেবে সে।

ওদিকে ডিপার্টমেন্টে গুন্ডাদেরকে পেট থেকে কথা বের করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করে স্বয়ম্ভু। সব গুন্ডাদের সে নিজের হাতে শাস্তি দিতে থাকে। কিন্তু কেউ মুখ খোলে না। ঠিক সেই সময় এসে হাজির হয় জগদ্ধাত্রী। ডিপার্টমেন্টের হেডের সাথে কথা বলে জগদ্ধাত্রী আবার কাজে ফেরার কথা জানিয়েছে। কিন্তু এখনো কনফার্ম করা হয়নি। এদিকে গুন্ডারা মুখ খুলছে না দেখে জগদ্ধাত্রী স্বয়ম্ভুকে বারবার অনুরোধ করতে থাকে ওই গুন্ডাদের তার হাতে ছেড়ে দিতে। সে ভালো মতোই এই গুন্ডাদের কিভাবে হ্যান্ডেল করতে হয়।
কিন্তু স্বয়ম্ভু প্রথমে কিছুতেই রাজি হতে চায় না। জগদ্ধাত্রী এখনো পুরোপুরি সুস্থ নয় তার চিকিৎসা চলছে। কিন্তু জগদ্ধাত্রী যে পুরোপুরি ফিট সেটার প্রমাণ সামনাসামনি দেয় সে। এখনো একার হাতেই গুন্ডাদের মেরে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে সে। এরপর জগদ্ধাত্রী নিজেই ওই গুন্ডাদের মুখ থেকে কথা বের করার জন্য ভয় দেখাতে থাকে। বন্দুকের ভয়ে মুখ খোলে একজন। বাবন নামের একজন আন্ডার ওয়ার্ল্ডের গুন্ডা তাদের পাঠিয়েছে। কিন্তু এই নামের কারোর কোনো রেকর্ড নেই। জগদ্ধাত্রী মেননকে ফোন করে এই বাবনের খোঁজ নেয়। মেনন বরাবরের মতন এবারেও জগদ্ধাত্রীকে সব খোঁজ এনে দেওয়ার কথা দেয়।
আরও পড়ুনঃ টাকার লোভে পাগল রায়ান! মঞ্চে উঠে পারুলকে হারাতে কী করল নায়ক? জমে উঠেছে ‘পরিণীতা’!
এদিকে কৌশিকী বাড়ি পৌঁছানোর সাথে সাথে তার কানে বিষ ঢালতে থাকে মেহেন্দি, বৈদেহি, উৎসব। দুর্গা যে দিব্যা সেনের কোম্পানি কিনে নেবে বলেছে সেটা কৌশিকী জানতো না। মেহেন্দিদের থেকে প্রথম জানতে পারে কৌশিকী। কার অনুমতি নিয়ে দুর্গা এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা নিয়েই কৌশিকীর কান ভাঙাতে থাকে। দুর্গার এত বড় সাহস কৌশিকীর অনুমতি না নিয়ে এসব করছে কোম্পানির মালকিন হয়ে নিজেকে সর্বেসর্বা ভাবছে। দুর্গার এই একটা সিদ্ধান্তকে নিয়ে কৌশিকীর মনে দুর্গাকে ছোট করতে চায় তারা। প্রথমে কৌশিকী জানায় দুর্গা যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভেবেচিন্তেই নিয়েছে। এখানে তার কিছুই বলার নেই। কিন্তু মেহেন্দি সমানে চেষ্টা করে যায় কৌশিকীর চোখে দুর্গাকে ছোট করার জন্য। তারপর বাড়ি আসে দুর্গা। তখন কৌশিকী তাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করে দুর্গা এরকম কোন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিনা বা দুর্গা কাকে জিজ্ঞাসা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথমে কৌশিকী দুর্গার সাথে একটু কড়া ভাবে কথা বলে, যাতে মেহেন্দিরা ভাবে কৌশিকী দুর্গার উপরে রেগে গেছে। তারপরই কৌশিকী হাসতে হাসতে জানে দুর্গা যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে একেবারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কৌশিকীর মুখে এমন কথা শুনে তো সকলেই অবাক হয়ে যায়। ওইদিকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের গুন্ডা বাবনের খোঁজে গিয়ে স্বয়ম্ভুকে মৃত্যুর মুখে পড়তে হয়। স্বয়ম্ভুর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে থাকে খুন করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সঠিক সময় সেখানে পৌঁছে যায় জগদ্ধাত্রী। উদ্ধার করে নিজের স্বামীকে। এবারে দেখা যাক আগামী পর্বে কি হয়।
