জি বাংলার (Zee Bangla) বহু পুরনো ধারাবাহিকগুলির (Bengali Serial) মধ্যে অন্যতম একটি হলে জগদ্ধাত্রী (Jagatdhaatri)। ব্লুজ প্রোডাকশনের পক্ষ থেকে এই ধারাবাহিক দীর্ঘ তিন বছর ধরে জি বাংলার পর্দায় সহ গৌরবে চলছে। শুরুর দিন থেকে আজ পর্যন্ত ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তা কখনোই কমেনি, বরং যত দিন যাচ্ছে ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তা আরও বাড়ছে। ধারাবাহিকে প্রতিদিনই দর্শকদের জন্য থাকছে নতুন নতুন চমক।
ধারাবাহিকের শেষ পর্বগুলিতে দেখানো হয়েছে, জগদ্ধাত্রীকে এনআইসিইউ এর সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে কুড়ি বছর আগে দুর্গাকে রাখা হয়েছিল সেই বেডে সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর সেখানে একটি নকল খেলনা পুতুল রেখে তাকে দুর্গা সাজিয়ে রাখা হয়। জগদ্ধাত্রীকে দুর্গার দায়িত্ব দিয়ে যায় স্বয়ম্ভু। তারপরই প্ল্যান মতন একজন ওয়ার্ড বয়সে এসে ওই বাচ্চাটিকে চুরি করে নেওয়ার অভিনয় করতে থাকে। তাতে উত্তেজিত হয়ে পড়ে জগদ্ধাত্রী। কয়েকজন নকল গুন্ডা এসে জগদ্ধাত্রীর সামনে তার সন্তানকে নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে থাকে। এরপর জগদ্ধাত্রীর সামনে সে সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যায় ওই গুন্ডারা।

স্বয়ম্ভু জগদ্ধাত্রীকে বোঝাতে থাকে তার সন্তানকে নিয়ে চলে যাচ্ছে গুন্ডারা। জগদ্ধাত্রীকে সন্তানের জন্য উঠে দাঁড়াতেই হবে। আর উত্তেজনার বসেই জগদ্ধাত্রী আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়াতে থাকে স্বয়ম্ভুর সামনে। উঠে দাঁড়িয়ে ওই গুন্ডাদের সাথে মারপিট করে সন্তানকে তাদের থেকে রক্ষা করে জগদ্ধাত্রী। এরপর ওই নকল পুতুলকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে সে। জগদ্ধাত্রীকে শান্ত করে স্বয়ম্ভু এবং বলে দুর্গা অনেক বড় হয়ে গিয়েছে এখন তার বয়স কুড়ি। এই কথা শুনেই জগদ্ধাত্রী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপর ডাক্তার তাকে কেবিনে নিয়ে যায়। স্বয়ম্ভু এরই মধ্যে কৌশিকীকে ফোন করে সমস্ত খবর জানিয়ে দেয়।
অন্যদিকে দুর্গা সকালে যখন কোর্টে বেরোনোর উদ্দেশ্যে রওনা দেবে তখনই বৈদেহি এসে জগদ্ধাত্রীর খোঁজ করতে থাকে। তিনি জগদ্ধাত্রীর কাছে অনুরোধ করবে যাতে উৎসবকে ছেড়ে দেয়। এতদিন পর উৎসব বাড়ি এসেছে, সে যদি আবার জেলে চলে যায় তাহলে বৈদেহি সেটা সহ্য করতে পারবে না। কিন্তু দুর্গা তো কুমিরের কান্নায় ভোলেনা। জানিয়ে দেয় কুড়ি বছর আগে যা যা ঘটনা ঘটিয়েছিল উৎসব তার শাস্তি তো তাকে পেতেই হবে। এরই মধ্যে মেহেন্দি আসে দুর্গার ঘরে এবং এসেই জানায় দুর্গা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলছে। তার মা অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি। তাকে কোনভাবে কোর্টে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। দুর্গা যে খেলাটা খেলছে সেই খেলায় জিততে পারবে না সে। দুর্গাও কম যায় না, মেহেন্দির সামনে সে কোনভাবেই স্বীকার করে না আসল সত্যি। জানিয়ে দেয় জগদ্ধাত্রী পুরোপুরি সুস্থ। সে ডিপার্টমেন্টেই রয়েছে এবং সঠিক সময় সে কোর্টেও পৌঁছে যাবে।
আরও পড়ুনঃপারুলের লেখা দেখে চমকে গেলো বিচারক! সাদা পাতায় এমন কী লিখলো পারুল? ‘পরিণীতা’ ধারাবাহিকে উত্তেজনার পারদ চরমে!
কিন্তু মেহেন্দি লোক লাগিয়ে খবর নিয়েছে জগদ্ধাত্রী হাসপাতালে ভর্তি, তার চিকিৎসা চলছে। সে পুরোপুরি সুস্থই না। এরপরেই কোর্টে মামলা শুরু হয়ে যায়। দুই পক্ষের উকিল নিজেদের মতো করে প্রমাণ পেশ করতে থাকে। দিব্যা সেনের উকিল চিকিৎসার গাফিলতি বলে দিব্যা সেনকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। এদিকে জগদ্ধাত্রী তখনও কোর্টে এসে পৌঁছায়নি, দুর্গাও অনুপস্থিত। তাই বিচারক জানিয়ে দেয় জগদ্ধাত্রী আসলে তবেই এই মামলার বিচার হবে নয়তো দিব্যা সেনকে বেকসুর খালাস করে দেওয়া হবে। আর ঠিক সেই সময় মাকে নিয়ে হাজির হয় দুর্গা। বিচারককে জানায় সাক্ষী জগদ্ধাত্রী উপস্থিত।
