বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ফুলকি’ প্রতিদিনই যেন দর্শকদের একের পর এক চমক উপহার দিচ্ছে। দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা এই ধারাবাহিক এবার একেবারে টানটান উত্তেজনায় পৌঁছে গিয়েছে! সাম্প্রতিক পর্বে যা ঘটেছে, তাতে দর্শক থেকে সোশ্যাল মিডিয়া—সব জায়গাতেই এখন শুধু ‘ফুলকি’র আলোচনা।
সম্প্রতি ধারাবাহিকে দেখানো হয়েছে, শেষমেশ রুদ্রর মুখোশ খুলেই দিল ফুলকি! এতদিন যে ছোট রাজা সেজে রাজমহলে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, সে আর কেউ নয়—রুদ্র! কারও কল্পনাতেও ছিল না যে রুদ্র এইভাবে সবার চোখে ধুলো দেবে। মুখোশ খোলার পরই চরম মুহূর্ত—গার্ডদের ডেকে পাঠানো হয়, রুদ্রকে ধরার নির্দেশ! কিন্তু রুদ্রও সহজে হার মানার পাত্র নয়। শেষ চেষ্টা করেই ছুরি হাতে ফুলকির দিকে তেড়ে আসে সে।
সেই সময় নিজেকে বাঁচাতে বাধ্য হয়েই রুদ্রর দিকে গুলি চালায় ফুলকি। রুদ্র গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ফুলকির উদ্দেশ্য অবশ্য কাউকে মারার ছিল না—শুধু নিজেকে বাঁচানোই ছিল তার উদ্দেশ্য। দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছয় এবং রুদ্রকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ছোট রানী ততক্ষণে পুরোপুরি ঘাবড়ে গিয়েছেন! রুদ্র ধরা পড়েছে, তার মুখোশ খুলে গিয়েছে—এই অপমান হজম করতে না পেরে পুলিশকে চাপ দিতে থাকেন যেন ফুলকিকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু উল্টে পুলিশই তাঁকে জিজ্ঞেস করে বসে, “আপনার সামনেই তো এতদিন ঘুরছিল রুদ্র, আপনি চিনতেই পারলেন না?” ছোট রানীর মুখ তখন দেখার মতো!
এরপর যা হয়, তা শুনে অবাক সবাই। ফুলকি নিজেই জানায় সে ‘সারেন্ডার’ করতে চায়! রোহিত, ধানুরা তো একেবারে হতবাক! ফুলকি জানায়, সে নিজের হাতে আইন তুলে নিয়েছে, তাই শাস্তি তার প্রাপ্য—তবে তদন্ত যেন ঠিকভাবে হয়। এই দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তে যেমন সবাই অবাক, তেমনই মনও কাঁদে ফুলকির জন্য।
রোহিত চিন্তায় পড়ে যায়—বাড়িতে কীভাবে জানাবে এই ঘটনা? তবে ধানু আগেই তমাল আর পিয়ালকে সব জানিয়ে রেখেছিল। পরের মুহূর্তেই রোহিতের মা, জেঠিমা আর লাবণ্য এসে জানতে চান ফুলকির কথা। রোহিত সব খুলে বলেন। সবাই প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেন না!
আরেকদিকে, লাবণ্য—যার সঙ্গে এখনও রুদ্রর আইনি বিচ্ছেদ হয়নি, সে নিজেও মনের কষ্ট লুকিয়ে ফুলকির পাশে দাঁড়ায়। সে বুঝিয়ে বলে—ফুলকি যা করেছে, সকলের ভালোর জন্যই করেছে। ফুলকি যদিও এখনও নিজের ভিতরে একরাশ দুঃখ বয়ে বেড়াচ্ছে।
সব শেষে, পরের দিন আদালতের সামনে ফুলকি যেন বাজিমাত করে! সে সোজা ছোট রানীকেই প্রশ্ন করে—“রুদ্র এতদিন মুখোশ পরে আপনার সামনেই ছিল, আর আপনি চিনতেই পারলেন না? এটা কি সম্ভব?”
এই প্রশ্নের জবাবেই হয়তো খুলবে পরবর্তী অধ্যায়ের দরজা।
আরও পড়ুনঃ শক্তিশালী হয়ে উঠছে জলসা! ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছে জি! তবে কি শেষ জি বাংলার জামানা?
এখন দেখার, ছোট রানী এবার কীভাবে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন, আর ফুলকির এই সাহসিকতার কতটা মূল্য দিতে হয় তাকে!
আগামী পর্বে আরও ধামাকা আসছে—মিস করবেন না যেন!
