দর্শকদের মাঝে বাংলার জনপ্রিয় কিছু ধারাবাহিকের (Bengali Serial) মধ্যে অন্যতম একটি হল জগদ্ধাত্রী (Jagatdhaatri)। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই রমরমিয়ে টেলিভিশনের পর্দায় চলছে এই ধারাবাহিক। শুরুর প্রথম দিন থেকেই নিজের এই জায়গা তৈরি করে রেখেছিল ধারাবাহিকটি। সেই জায়গা আজও ধরে রেখেছে জগদ্ধাত্রী। কখনো নিজের জায়গা ছাড়েনি।
ধারাবাহিকের শেষ পর্বগুলিতে দেখানো হয়েছে, যারা ওই দিনের আলোয় দুর্গা এবং জগদ্ধাত্রী উপরে টার্গেট করেছিল তাদের মাথাকে ধরে আনা হয়েছে ডিপার্টমেন্টে। জগদ্ধাত্রী ওই বাবন গুণ্ডাকে মেরে মেরে তার মুখ থেকে সত্যি কথা বার করতে চায়। কিন্তু জগদ্ধাত্রী এখনো অফিসিয়ালি ডিপার্টমেন্টে ফেরেনি, তাই জন্য এ কাজ বেআইনি স্বয়ম্ভু বারবার তাকে বাধা দেয় এই কাজ করতে। কিন্তু জগদ্ধাত্রী কোন কথা শোনে না। সে বাবনের উপরে অত্যাচার চালায়। তার মুখ থেকে সত্যি কথা বার করতে চায়। কিন্তু বাবন গুন্ডা মুখ খোলে না। জগদ্ধাত্রী জানে এটা বেআইনি কাজ কিন্তু একজন মায়ের সাথে হওয়া অন্যায়ের বিচার কে করবে, তার মেয়ের ক্ষতি হলে সেই ক্ষতিপূরণ কে দেবে। বাবনের মুখ থেকে জগদ্ধাত্রী শুধু এইটুকু জানতে চায় সে কাকে টার্গেট করেছিল দুর্গা নাকি জগদ্ধাত্রীকে।

স্বয়ম্ভু বারবার বাধা দেয় তাকে, শেষে জগদ্ধাত্রী যখন কথা শোনে না বাধ্য হয়েই জগদ্ধাত্রীকে অর্ডার করে আর জগদ্ধাত্রী তারা অর্ডার মানতে বাধ্য কারণ ডিপার্টমেন্টে স্বয়ম্ভু সিনিয়র। কিন্তু জগদ্ধাত্রী আবেগে ভেসে যায়। কারণ দুর্গার কোন ক্ষতি হয়ে গেলে সেই ক্ষতিপূরণ কোন আইন দেবে না। এই বলে জগদ্ধাত্রী ডিপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে যায়। আর কথা দেয় খুব শীঘ্রই জয়নিং লেটার নিয়ে সে ফিরে আসবে। জগদ্ধাত্রী বেরিয়ে যাওয়ার পর স্বয়ম্ভু আবার ফোন করে এবং ফোন করে জানায় বাবন গুন্ডাকে ছেড়ে দিচ্ছে তারা কারণ অফিসিয়াল ভাবে তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। রাস্তায় ছেড়ে দেওয়ার পর জগদ্ধাত্রী বাবনকে নিজের হাতে শায়েস্তা করুক তার মুখ থেকে কথা বের করুক।
এজন্য স্বয়ম্ভু বাবনকে ছেড়ে দেয়। এরপর তাকে রাস্তায় পেয়ে জগদ্ধাত্রী তাকে মেরে মেরে তার মুখ থেকে সত্যি কথা বার করার চেষ্টা করে। তখন ওই গুন্ডা উৎসবের নাম বলে। জগদ্ধাত্রীর প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। কারণ সে সন্দেহ করেছিল লিলিপুট অথবা টিটুকে। এদিকে বাবন গুন্ডা উৎসবকে দোষী করছে। জগদ্ধাত্রী কিছুই বুঝতে পারে না তাই জন্য স্বয়ম্ভুর হাতে তুলে দেয় বাবন গুন্ডাকে।
আরও পড়ুনঃ শিরিনের কৌশলে ভাঙতে বসেছিল পারুল-রায়ানের সম্পর্ক! তন্ত্রসাধনার নাটকেই ফাঁসল শিরিন! এবার ছক উলটে দিল পারুলের মাস্টারস্ট্রোক
বাড়িতে ফিরে উৎসবের মুখোমুখি হয় জগদ্ধাত্রী। উৎসব কোথায় যাচ্ছে কেন যাচ্ছে তার কৈফিয়ত চায়। কিন্তু উৎসব কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নয়। সে জানিয়ে দেয় তার বাড়িতে এখন যা পরিস্থিতি সে কাউকে জবাব দিতে পারবে না। কিন্তু জগদ্ধাত্রী উৎসবকে সাবধান করে দেয় যেন কোন অন্যায় না করে। কারণ এবার অন্যায় করলে জগদ্ধাত্রী, দুর্গা, কৌশিকী রাজনাথ কেউই তাকে বাঁচাতে পারবে না। আর সে চায় না তার পরিবারের কেউ কোনো অন্যায়ের সাথে জড়িয়ে পড়ুক। এদিকে দুর্গা খাবার টেবিলে বসে বিশেষ ঘোষণা করে জানায় তাদের বিপুল সম্পত্তির একটা ভাগ অনাথ আশ্রমে যাবে। আর এই দুর্গার এই সিদ্ধান্তে সকলে অবাক হয়ে যায়। অনেকেই বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু কৌশিকী তার সাথে আছে। দুর্গা এবং জগদ্ধাত্রী মিলে মুখার্জির পরিবারকে নতুনভাবে গড়ে তুলুক একটা সুন্দর পরিবার দেখতে চাইছে কৌশিকী। দেখা যাক আদৌ কৌশিকীর এই ইচ্ছে পূরণ হয় কিনা। কি হয় আগামী পর্বে।
