জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ফুলকি’ রোজই যেন নতুন মোড় নিচ্ছে। গত তিন বছর ধরে দর্শকদের মন জয় করে চলা এই ধারাবাহিক টিআরপি তালিকায় এখনও নিজের জায়গা ধরে রেখেছে। আর এবারের এপিসোড? যেন সিনেমার থেকেও বেশি উত্তেজনাপূর্ণ!
শেষ কয়েকটি পর্বে ফুলকির হাতে ছিল শুধু সনাতনের লেখা একটি ডায়েরি। সেটাকেই প্রমাণ হিসেবে আদালতে পেশ করা হয়। কিন্তু ছোট রানীর উকিল তো ছাড়বার পাত্রী নন! তিনি সরাসরি জামিন চেয়ে বসেন, কারণ ডায়েরি ছাড়া তো আর কোনও প্রমাণ নেই! কিন্তু বিচারকও কড়া—তিনি জানান, এই মামলাটা এত সহজে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। তবে এক ডায়েরির উপর ভিত্তি করে রায়ও দিতে পারেন না, তাই কিছু সময়ের বিরতি ঘোষণা করেন।

এই বিরতির মধ্যেই ফুলকির মাথায় আসে বড় রাজার কথা। রোহিতকে জানায়, যেন বড় রাজাকে নিয়ে সে কোর্টে চলে আসে। তখনও কেউ জানে না, বড় রাজার স্মৃতি একটু একটু করে ফিরে আসছে। সনাতনের স্ত্রীর মুখ, পুরনো কথাবার্তা—সব মিলিয়ে যেন মাথায় ঝড় বয়ে যায় তাঁর। রোহিতও বুঝে যায়, ডাক্তার যা বলেছিলেন সেটাই ঠিক—পুরনো মুখ, পুরনো পরিবেশ, এসবই হয়তো বড় রাজার স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
অন্যদিকে, ছোট রাণী আর ইন্দ্রর মধ্যে চলতে থাকে চোরাসন্ধি। চোখের ইশারায় কি যেন প্ল্যান করছে দু’জনে—ফুলকি বা রোহিতের কিছুই জানার উপায় নেই।
রোহিত ছুটে যায় রাজমহলে। তখন বড় রাজা পুরনো অ্যালবাম ঘাঁটছিলেন। হঠাৎ একটা ছবি দেখে আটকে যায় তাঁর দৃষ্টি। সেই অ্যাক্সিডেন্টের রাতের কিছু টুকরো স্মৃতি যেন ঝাঁপিয়ে পড়ে মনের উপর। ঠিক তখনই রোহিত এসে জানায়, কোর্টে যেতে হবে এখনই। বড় রাজাও জানান, তাঁর মাথায় ধীরে ধীরে কিছু কিছু কথা ভেসে উঠছে।
কিন্তু হায়! সব যেন সহজে হয় না ‘ফুলকি’তে। কোর্টে যাওয়ার পথে হঠাৎ উল্টো দিক থেকে একটা লরি এসে ধাক্কা মারার চেষ্টা করে! রোহিত কোনও মতে গাড়ি ঘোরালেও, গাড়ি গিয়ে ধাক্কা মারে গাছে। দু’জনেই জ্ঞান হারান। পরে রোহিতের জ্ঞান ফিরলেও বড় রাজা অজ্ঞানই পড়ে থাকেন। তৎক্ষণাৎ রোহিত নিয়ে যান তাঁকে হাসপাতালে।
এদিকে আদালতে অপেক্ষার প্রহর বেড়ে যায়। বিচারক বারবার ধানুকে প্রশ্ন করেন, বড় রাজা কোথায়? সেই সময়েই রোহিত খবর পাঠায় যে অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। ছোট রানীর উকিল ফের জামিনের আবেদন করেন, কিন্তু বিচারক জানিয়ে দেন—এখনই নয়, আরও একটি শুনানির তারিখ নির্ধারিত হবে, এবং তখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অবশেষে, পরদিন বড় রাজাকে সুস্থ অবস্থায় কোর্টে হাজির করে রোহিত ও ফুলকি। ছোট রানী ভেবেছিলেন অ্যাক্সিডেন্টে বড় রাজার স্মৃতি একেবারে মুছে যাবে, কিন্তু হয় ঠিক উল্টো। সেই ধাক্কাই যেন ফিরিয়ে দিল তাঁর পুরনো সব স্মৃতি।
আরও পড়ুনঃ “অবশেষে মুখ খুলল শিরিন! পারুলের চালেই ফাঁস সব ষড়যন্ত্র, ভাইরাল পরিণীতার থ্রিলার প্রোমো”
বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে বড় রাজা জানালেন—২৪ বছর আগে ছোট রানী কিভাবে তাঁর সন্তানকে তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিলেন, কিভাবে একের পর এক চক্রান্তে তাঁকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল।
সব শুনে স্তব্ধ আদালত! ছোট রানী যেন নিজের পাতা ফাঁদেই নিজেই ধরা পড়লেন।
এখন অপেক্ষা—এই চাঞ্চল্যকর মোড়ের পর গল্প কোন দিকে মোড় নেয়? ফুলকি কি পারবে ন্যায়ের পথেই এগোতে? ছোট রানীর শেষ পরিণতি কী হবে? দর্শকদের চোখ এখন টেলিভিশনের পর্দায়—কারণ ‘ফুলকি’ এবার একেবারে টানটান ক্লাইম্যাক্সের দিকে!
