ফুলকির সঙ্গে চৌধুরী মহল থেকে গুপ্ত পথ দিয়ে পালিয়ে গেল বড় রানী মা। জি বাংলার ফুলকি ধারাবাহিকের গত পর্বের শুরুতেই দেখা গেছে, ফুলকি রোহিতের সঙ্গে ছোট রানীমার নানান রকমের বাগবিতন্ডা হওয়ার জন্য হারহাইনেস রীতিমত তাদেরকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বার করে দিতে যায়। কিন্তু, এমন সময়ে ধানু-আদিত্যরা এসে পরায় ঝামেলার আরো বেশি করে সৃষ্টি হয়।
এই সময়, বাড়ির সকলের সামনেই ফুলকিরা বড় রাজার মৃত্যুর কথা বলতে থাকে। তবে, চৌধুরী মহলে ফুলকিদের এই অপমান দেখে ধানুও তাঁদের সঙ্গে রায় বাড়িতে চলে যেতে চায়। কিন্তু, হারহাইনেসের বারণ থাকার জন্য সে আরও কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারে না।

এমন সময়, বড়ো রাণী এসে পড়ায় ফুলকি তাঁর সামনে ২৪ বছর আগে ঘটে যাওয়া বড় রাজার মৃত্যু রহস্য নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তুলতে থাকে। তবে, এই সব প্রশ্নের সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারে না। এমন সময়, বড়ো রাণী আশাভরির ব্যবহার দেখে খুবই অবাক হয়ে যায়। কিন্তু, এদিকে আদিত্যদের মায়ের ওপর ফুলকি এমন একের পর এক দোষারোপ করছে বলে সকলের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।
এমন সময়, বড় রানীমার ব্যবহারের পরিবর্তন দেখে কিছুটা ভয়ে কিছুটা গুটিয়ে যায় ছোটো রাণী। তিনি ভাবে, বড় রাজার মৃত্যুর প্রশ্ন নিয়ে দিদি যদি কোন সন্দেহের প্রশ্ন তোলে তাহলে কেলেঙ্কারি কান্ড ঘটে যাবে। প্রায় সকলের সামনেই নানান ধরনের কথা হওয়ায় বড় রাণী মা হারহাইনেসকে বলে তাঁর বিশ্বাসের ভীত নড়ে গেছে।
অন্যদিকে দেখা যায়, ফুলকিকে মারতে গিয়ে অসফল হয়ে চৌধুরী বাড়িতে ফিরে এসেছে রুদ্র। কিন্তু, আবারও রুদ্র রূপসনাল ফুলকির কাছে হেরে যাওয়ায় খুবই রেগে আছে। এমনকি, নিজে বাঁচার জন্য ফুলকির হাতে মুখ পুড়িয়ে এসেছে রুদ্র। এই দেখে ছোটো রাণীও তাঁকে বিদ্রুপ করতে থাকে। এরপর, রুদ্র তাকে বলে ফুলকির সঙ্গে তার আগে থেকেই এই লড়াই চলছে। তাই, এখনও বলা যায় না যে সে ফুলকির কাছে হেরে গিয়েছে।
এরপর আর বেশি দেরি না করে ফুলকি রোহিতরা বাড়ির দিকে রওনা দেয়। কিন্তু, বাইরে এসে রোহিত তাঁর বোনের কথা চিন্তা করতে থাকে। তাঁর বোন বাড়ির এই পরিবেশে ঠিক থাকবে কিনা তা নিয়ে সংশয় করে। এমন সময় ফুলকির মনে হঠাৎ প্রশ্ন জাগবে শুরু করে, লড়াই যখন সামনাসামনি শুরু হয়েছে তখন ছোট রানী মা কি বড় রানীর কোন ক্ষতি করে দেবে?
ফুলকির মনে এই প্রশ্ন উঁকি দেওয়া মাত্রই সে সিদ্ধান্ত নেয়, চৌধুরী মহলের গুপ্ত পথ দিয়ে গিয়ে সে বড় রানী মাকে নিয়ে নিজেদের বাড়িতে যাবে। ফুলকি নিজের ভাবনা মতোই কাজ করে। এরপর, বড় রানী মার কয়েকটি জামাকাপড় নিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে তড়িঘড়ি সেই গুপ্ত পথ দিয়ে ফুলকিরা পৌঁছে যায় রায় চৌধুরী বাড়িতে।
আরও পড়ুনঃ স্মৃতি ফিরতেই আবার রঘুর বেশেই জোড়া বাড়িতে মন্দার! কি হতে চলেছে ধারাবাহিকের আজকের পর্বে?
এরপর, বড় রানীকে এই বাড়িতে সবাই দেখে কিছুটা অবাক হয়ে যায়। এদিকে, বড়ো রাণীও বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে ফুলকির হাত ধরে ওই বাড়িতে পৌঁছে যায়। এরপর রোহিত বাড়ির সবাইকে জানাই আজ থেকে বড় মা এই বাড়িতেই থাকবে।
এই ধারাবাহিকের আগামী এপিসোডে দেখা যাবে, ‘নৃসিংহ দেবের ইঙ্গিত কি আমি ঠিক বুঝেছি?’, জিজ্ঞাসা করে বড়ো রাণী। এই শুনে ফুলকিও বড় রানীমার কথায় সহমত জানায়। দীর্ঘ পরেই কথা বলতে বলতে ফুলকি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।
