মানুষের জীবনের অদম্য জেদই কিন্তু তাঁকে নিয়ে যেতে পারে সফলতার শীর্ষে। এক কথায় বলা যেতে পারে, জেদ-অধ্যাবসায় যেকোনো পরিশ্রমী মানুষের জীবনের সাফল্যের চাবিকাঠি। তবে বর্তমানে নবাবগঞ্জের ফুলকি দাস খানিক এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। জি বাংলার ফুলকি ধারাবাহিকে গত পর্বে দেখা গেছে, গেমস ভিলেজের শিল্পা যে কিনা রয়েছে ফুলকির পুষ্টিকর খাবারের তত্ত্বাবধানে সে ম্যাচের আগের রাতে খাবার দিয়ে গেছে।
কিন্তু মনে প্রবল ভয় থাকার কারণে হাত থেকে আচমকাই খাবার পড়ে যায় ফুলকির। আর এই দৃশ্য শিল্পা দেখতে পেয়ে ঘরে আসে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করে কি করে এমন কান্ড ঘটল? এর কিছুক্ষণের মধ্যেই শিল্পা পুনরায় ফুলকির জন্য খাবার তৈরি করে আনে। ফুলকি খাবারটা খাওয়ার সময় শিল্পা মনে মনে ভাবে, সে কেবল টাকার জন্যই ফুলকির এত বড় ক্ষতি করে দিল। এরপর, যথারীতি রোজের মতই ফুলকির ওজন মাপার সময় দেখা যায় ১ কেজি ওজন তার বেশি হয়েছে।

এই দেখে রীতিমত ম্যানেজমেন্টের সবাই অবাক হয়ে যায় এবং বলে, ‘যদি এক রাতের মধ্যে ওজন না কমাতে পারে তাহলে ফুলকি বক্সিং থেকে বাদ পড়ে যাবে’। আর এই খবর শোনা মাত্রই কান্নায় এবং হতাশায় ভেঙে পড়ে ফুলকি-রোহিত। দিশেহারা হয়ে দুজনে ঘরে আসা মাত্রই কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না কী করবে?
এমন সময় খুব স্বাভাবিকভাবেই ফুলকিদের ফোন করে লাবুরা। রায় চৌধুরী বাড়ির সবাই খুবই উত্তেজিত হয়ে ফুলকিকে মনে সাহস যোগালেও বাধ্য হইছে সবটা খুলে বলে সবাইকে। এই শুনে, এক লহমায় উত্তেজনা হারিয়ে ফেলে পিয়াল-ধানুরা। কিন্তু, তাও সবকিছুকে ভুলে গিয়ে বাড়ির সদস্যেরা অনবরত ভুলকিকে মনের সাহস জোগাতে থাকে।
এরপর, রোহিত মন খারাপ করে ওয়ার্কআউট-এর ঘরে ফিরে এলেও সে অত্যাধিক রাগান্বিতভাবে এবং নিজের পুরনো স্মৃতির কথা মনে করে পাঞ্চিচিং ব্যাগের সঙ্গে বক্সিং করতে থাকে। এমন সময়, ফুলকি এলেও কিছুতেই তাঁকে শান্ত করাতে পারে না। এরপর, নানা ভাবনা চিন্তার মধ্যে দিয়ে রোহিত ফুলকিকে বলে, জেতাটা তাঁদের হাতে রয়েছে। আরও বলে, ‘যদি তুমি মনে করো তাহলে এক রাতের মধ্যেই নিজের ওজন কমাতে পারো’।
এরপর ফুলকি আর কোন কিছু না ভেবেই পুনরায় শুরু করে দেয় ওয়ার্কআউট, যাতে তাঁর ওজন কমে। এমনকি, ওয়ার্কআউট-এর মাঝে তাঁকে জল পর্যন্তও খেতে দেয় না রোহিত। অনেকটা ওয়ার্কআউট করলেও তাঁর পুরোপুরি ওজন কমেনি, আর সেই জন্যই রোহিত তাঁর জন্য সোয়েটার আনতে যায়। যাতে সোয়েটার পরে ওয়ার্কআউট করলে ঘাম ঝরবে আর তাড়াতাড়ি ওজন কমতেও সাহায্য করবে। এই দেখে শিল্পার মনে মনে খারাপ লাগে। শিল্পা রোহিতদের বলে, এইভাবে কি সত্যিই ওজন কমানো সম্ভব? এই শুনে ফুলকি তাঁকে বলে, ‘শিল্পা দিদি যদি তার পাশে থাকে তাহলে সবই সম্ভব হবে’।
আরও পড়ুনঃ পারুলকে কলেজ থেকে তাড়াতে উঠেপড়ে লেগেছে রায়ান! কিভাবে দুদিনের মধ্যে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করবে পারুল? ফাঁ’স আজকের পর্ব
এই ধারাবাহিকের আগামী পর্বে দেখা যাবে, এক রাতে ফুলকি ওজন কমিয়ে অবাক করে দেয় গেমস ভিলেজের সকলকে। এরপর ফুলকি আবার মনে শক্তি পায় ও স্যারকে বলে, ‘সে আবার খেলবে। সে এবারে খেলার জিতবেই’।
