উল্লেখ্য, নৈহাটির বড় মা’র খ্যাতি রাজ্য জোড়া। স্থানীয় এই পুজোটি দেখার জন্য বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন। এই মাতৃ মূর্তি ঘন কৃষ্ণবর্ণ। স্বর্ণলঙ্কারে ভূষিতা এই দেবী ভক্তদের কাছে মা পূজিত হন বড় মা নামে। এই পুজোর মূলমন্ত্র হচ্ছে ধর্ম হোক যার যার, বড় মা সবার।
এই পুজোতে কোনও ভেদাভেদ নেই। শুধুমাত্র অন্তরের টানে সবাই ছুটে আসেন বড় মায়ের কাছে। অত্যন্ত জাগ্রত এই কালীমূর্তি।প্রত্যেক বছর কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর দিন মা কালীর কাঠামো পুজো হয়। উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির অরবিন্দ রোডে আয়োজিত হয় ‘বড় মা’ কালীর পুজো।

বলাই বাহুল্য, বিগত ১০০ বছর ধরে সাড়ম্বরে এই পুজো চলে আসছে। প্রথমে এই পুজোটি বাড়ির পুজো হলেও পরবর্তীতে এটি সর্বজনীন পুজোর চেহারা নেয়। এই মাতৃমূর্তির উচ্চতা ২১ ফুট। জানা যায়, প্রথমে এই পুজো ছিল চক্রবর্তী পরিবারের পুজো। পরে অবশ্য এই পুজো সার্বজনীন পুজোতে পরিণত হয়। এই বছর এই মায়ের পাকাপাকিভাবে কষ্টিপাথরের মূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে। রাজস্থান থেকে কারিগর নিয়ে এসে নির্মিত হয়েছে সেই মূর্তি। আর বছরভর সেই মূর্তি পূজিত হবে। তবে কালীপুজোর সময় যেরকম মায়ের বিশাল মূর্তি নির্মিত হয় তার থেকে অনেকটাই ছোট এই মূর্তি।
কথিত আছে! জুটমিল কর্মী বিশিষ্ট সমাজসেবী ভবেশ চক্রবর্তী একবার নবদ্বীপে গিয়েছিলেন রাস উৎসবে। সেখানে বড় বড় প্রতিমা দেখে এসে তিনি নৈহাটিতে ২১ ফুট উঁচু প্রতিমা বানিয়ে কালী পুজোর প্রচলন করেন। প্রথমে অবশ্য নৈহাটির বড়মা পরিচিত ছিলেন ভবেশ কালী নামে। স্থানীয়দের কাছে সেটাই ছিল পরিচিতি। তবে পরে এই মা সবার কাছে বড় মা হিসেবে পরিচিতি পান।

উল্লেখ্য, অমাবস্যা তিথিতে আরাধনা করা হয় দেবী শক্তি’র। এই তিথিতে কালীপুজো বা শ্যামাপুজা রাত্রিব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। কার্ত্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে অনুষ্ঠিত কালীপূজা বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। কার্ত্তিক মাসের কালী পুজো দীপান্বিতা কালীপুজো নামেও পরিচিত। দীপান্বিতা কালীপুজোর এই দিনটিতে ভারতের অন্যান্য জায়গায় দীপাবলি বা দিওয়ালি উৎসব পালিত হয়। আজ বাদে কাল বাঙালি ফের মেতে উঠতে চলেছে আরও এক মাতৃশক্তির আরাধনায়!
